প্রকৃতিতে এখন মাঘ মাস। বসন্ত আসতে এখনও সপ্তাহ-দের বাকী। এদিকে বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে পত্রপল্লব ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল। বাহারি রঙ্গের আমের মুকুলের মিষ্টি সুবাস মুখরিত আকাশ-বাতাস। মাঘের তীব্র শীত ইতিমধ্যেই কমতে শুরু করেছে। অথচ এর মধ্যেই মতলব উত্তরে আমগাছে আসতে শুরু করেছে মুকুল। মুকুলের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এর সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে। আমের মুকূলে ভ্রমরের আনাগোনা চোখে পড়ার মত।
সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে বসন্তের শুরুতে আমে মুকুল আসে, বাংলাদেশে ওই সময়টাতে বৃষ্টিপাত হয় না এবং বাতাসে আর্দ্রতা কিছুটা কম থাকে, আবহাওয়া শুষ্ক থাকে। যে কারণে ওই সময়টা আমের মুকুলের পুষ্ট হতে সাহায্য করে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মতলব উত্তরের সড়কের পাশে, উপজেলা পরিষদের খাদ্য গুদামপর পার্শ্বে, ব্রিজের ছেংগারচর পৌর এলাকার ঘনিয়ারপাড়, শিকিরচর, রুহিতারপার, দেওয়ানজীকান্দি, জোরখালী, বারোআনী, দূর্গাপুর ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আসপাশের এলাকার আমগাছে আগাম জাতের মুকুল শোভা পাচ্ছে। এসব আমের মুকুলে এখন মৌমাছির গুঞ্জন, এ-যেন প্রকৃতির চোখ জুড়ানো অপরূপ সৌন্দর্য্য।
উপজেলার ওঠারচর গ্রামের আম বাগানের মালিক আব্দুল লতিফ মিয়াজি বলেন, বাগানের অধিকাংশ গাছ-ই এরইমধ্যে মুকুলে ছেয়ে গেছে। এবার কুয়াশা কম থাকায় মুকুল ভালোভাবে প্রস্ফুুটিত হয়েছে। এখন আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছি।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই আবহাওয়াগত ও বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়েই আমের মুকুল আসতে শুরু করে। এছাড়াও প্রতিবছরই কিছু আমগাছে আগাম মুকুল আসে। ঘন কুয়াশার কবলে না পড়লে এবছর আগাম ফলন পাওয়া যাবে। আর আবহাওয়া বৈরী হলে ফলন মেলে না। তবে নিয়ম মেনেই মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসবে ঐ মুকুল স্থায়ী হবে।