October 26, 2026, 7:48 am
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরে আজ রাতে ঢাকা ছাড়ছেন, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জাপানের সঙ্গে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের সময় রাষ্ট্রদূত ঢাকায় থাকবেন, সিদ্ধান্তকে ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বললেন প্রতিমন্ত্রী ভানুয়াতুর কাছে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, নজর ভূকম্পন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে গেল টাইফুন চাম্পি, নিহত ১, আহত পাঁচ শতাধিক ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সতর্কবার্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় তলব বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলারের জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক মেট্রোরেল ব্যয় ও জাপানি ঋণের সুদ কমানোর আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরে একাধিক সমঝোতার প্রত্যাশা

মতলব উত্তরে টিয়ার ও কাবিখা প্রকল্পে বিল পেতে দিতে হয় ঘুষ ; হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রকাশ্য টাকা লেনদেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ

মতলব উত্তর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সরকারের টিয়ার ও কাবিখা প্রকল্পের কাজ শেষ করে বিল উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতিদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে ১ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের বিল অনুমোদনের সময় হিসাবরক্ষণ অফিসের অস্থায়ী কর্মচারী উম্মে সানজিদা আক্তারের মাধ্যমে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয় এবং বিল অনুমোদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার না করে উম্মে সানজিদা আক্তার বলেন, “আমাকে কামাল স্যার টাকা রাখার অনুমতি দিয়েছেন। আমি শুধু তার নির্দেশেই প্রতি ফাইল থেকে ১ হাজার টাকা করে নিচ্ছি।”

এ বিষয়ে অডিটর কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “কেউ যদি স্বেচ্ছায় টাকা দিয়ে যায় তাহলে আমরা কী করব? আর ১ হাজার টাকা করে নিলে আপনাদের সমস্যা কী? অফিস পরিচালনায় আমাদের কিছু খরচ আছে — এজন্য টাকাটা নিচ্ছি।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বাজেটে প্রায় ৪০০টি প্রকল্পের বিল পাস করা হয়েছে এরমধ্যে ১৫০ টি প্রকল্পের বিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সেলিম খান বলেন, “হিসাবরক্ষণ অফিস আমাদের আওতায় নয়। প্রকল্প বিল উত্তোলনে টাকা নেওয়ার কোনও বিধান নেই। তাদের কেন টাকা নেওয়ার প্রয়োজন হয়, সেটাও আমার জানা নেই।”

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রকল্প সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যাওয়ার পরেও মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি আগের মতোই রয়ে গেছে। ঘুষ ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া সম্ভব নয়।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) কাজী মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, “আমি একসঙ্গে তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিদিন অফিসে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই শুনলাম। আগামী বুধবার আমি অফিসে এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।”

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন,

“সরকারি সেবায় দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। যদি প্রমাণিত হয় যে প্রকল্পের বিল নিতে ঘুষ নেওয়া হচ্ছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি এ বিষয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেব। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিক।”

উল্লেখ্য, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের আওতায় দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়ে থাকে। এ প্রকল্পের টাকায় দুর্নীতি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন গ্রামের দরিদ্র মানুষ, যাদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের ফল চলে যায় কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেটে।

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান দাবি করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা