June 25, 2026, 8:24 pm
শিরোনামঃ
ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন কমিটির প্রথম পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত মতলব উত্তরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মতলব উত্তরে ৩ হাজার ৪৫৫ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বীজ-সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ চীনের সঙ্গে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার নতুন দিগন্ত ; ৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা মোংলায় যুদ্ধজাহাজ দ্রুত মেরামতে বিশেষ ডকিং ফ্যাসিলিটি ; নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত মতলব উত্তরে কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার মতলব উত্তরে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পা ভাঙল স্কুলছাত্র ফারহানের বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সামার-২০২৬ সেশনের আইন ও ফার্মেসী বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার

মতলব উত্তরে মেঘনার পাড়ে গোখাদ্যের হাহাকার ; কচুরিপানা এখন গরুর জন্য ভরসা!

Reporter Name

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোতে গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ষাটনল, এখলাসপুর, বাহাদুরপুর, চর বোরচর, চর উমেদ, নাসিরের চর ও চরওয়েষ্টার এলাকার চরাঞ্চলজুড়ে কৃষক ও খামারিরা এখন তাদের গরু-মহিষ নিয়ে নদীর তীরে যাচ্ছেন খাবারের সন্ধানে। এসব পশু এখন বাধ্য হয়ে খাচ্ছে নদীতে ভেসে থাকা কচুরি পানা।

প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গো-খাদ্যের ঘাটতি দেশের মাংস ও দুধ উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁরা বলেন, চরাঞ্চলগুলোতে প্রাকৃতিক ঘাস সংরক্ষণ, ঘাস চাষে সহায়তা, এবং খামারিদের প্রশিক্ষণ ও সাশ্রয়ী খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

ষাটনলের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “আগে চরাঞ্চলে প্রচুর ঘাস পাওয়া যেত। এবার বৃষ্টি নেই, ঘাস জন্মায় না। বাজারে খড়-ভুসির দাম এত বেশি যে কিনে খাওয়ানো সম্ভব না। এখন নদীর পাড়ে গিয়ে কচুরি খাওয়াতে হয়।”

চর উমেদের গৃহপালক রহিমা বেগম জানান, “নদীর কচুরি পানা খাওয়ানো ছাড়া গরু বাঁচানোর উপায় নেই। তবে এটা গরুর স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো, বুঝতে পারছি না।”

নাসিরের চর এলাকার পশু খামারি ইকবাল হোসেন বলেন, “প্রতিদিন নদীর পাড়ে যেতে হয়। এটা আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হলেও বিকল্প নেই। সরকার যদি কিছু সহায়তা দিত, তাহলে উপকৃত হতাম।”

মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, “নদীর কচুরি পানা গবাদিপশুর জরুরি খাদ্যের বিকল্প হিসেবে খাওয়ানো হলেও এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকে না। এটি দীর্ঘমেয়াদে হজমের সমস্যা, পুষ্টিহীনতা এমনকি গরুর রোগও ডেকে আনতে পারে।”

তিনি আরও জানান, “আমরা খামারিদের গাছ ও ঘাস সংরক্ষণ, বিকল্প গো-খাদ্য তৈরি ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। তবে সংকট মোকাবেলায় সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।”

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “আমরা গো-খাদ্যের অভাব সম্পর্কে জানি। স্থানীয় পর্যায়ে তালিকা তৈরি করে কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ ও কৃষি বিভাগকে একযোগে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা