চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়ীবাঁধের বাহির দক্ষিণ উদ্দমদী এলাকায় জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা ভেঙে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয়রা। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ফিট দৈর্ঘ্যের ওই রাস্তাটি ধনাগোদা নদীর পানির চাপে ভেঙে যায়। এখন জরুরি ভিত্তিতে নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে মানুষ।
গ্রামটি চারদিকে নদীবেষ্টিত হওয়ায় সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতে রাস্তা ভেঙে যায়। ফলে শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসায় খুব ভয় লাগে। পা ফসকে গেলে নদীতে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক আবদুল করিম বলেন, আমাদের ফসল বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। সাইকেল বা ভ্যানগাড়ি নিয়ে পার হওয়া যায় না, তাই অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে এলাকার প্রবাসী মো. বাবুল গাজী ও দেলোয়ার প্রধানের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়। তবে এটি সাময়িক সমাধান মাত্র।
বাবুল গাজী বলেন, মানুষের কষ্ট দেখে নিজেরাই সাঁকো দিয়েছি। কিন্তু এটা স্থায়ী সমাধান নয়। সরকারিভাবে মাটি ভরাট করে রাস্তা সংস্কার করা এখন জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ভাঙনকবলিত স্থানে মাটি ভরাট ও রাস্তা সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী দেলোয়ার প্রধান বলেন, রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ফরাজি কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত হয়েছি। অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করব।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, আমি বিষয়টি জানলাম। দ্রুত স্থানটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষের ভোগান্তি লাঘবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।