প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার রাজধানীর শের-ই বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় অনুমোদন দেওয়া হয় ৪১৭৪ কোটি ৬৭ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয়ে দেশে প্রথমবারের মতো ক্যাবল স্ট্যাইড (ঝুলন্ত সেতু) নির্মাণ করা হবে।
উক্ত একনেক সভায় মতলব-গজারিয়া সংযোগ সেতু বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এবং বাংলাদেশ সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী।
বেলা ১২টায় মতলবের ঝুলন্ত সেতুর অনুমোদিত হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে মতলবের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। মতবের যে স্থানে ব্রিজ হবে কালিপুর নামক স্থানে তাৎক্ষণিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পরিকল্পনার প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলমের জন্য দোয়া ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও উপজেলার সুজাতপুর বাজার, পাঠান বাজার, আমিরাবাদ বাজার, জনতা বাজার, কালির বাজার, একলাশপুর বাজার, মোহনপুর বাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া যায়।
ছেংগারচর পৌরসভা:
বহুল প্রত্যাশিত গজারিয়া-মতলব সংযোগ সেতু একনেকে অনুমোদন দেওয়ায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সেতুর স্বপ্নদ্রষ্টা, যার একান্ত প্রচেষ্টায় সেতু বাস্তবে রূপ নিয়েছে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলমকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে ছেংগারচর পৌর মেয়র লায়ন আলহাজ্ব লায়ন আরিফ উল্ল্যা সরকারের নেতৃত্বে ছেংগারচর বাজারে আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পৌর ভবনের সামনে থেকে বের হয়ে বাজারের বিভিন্ন মোড় প্রদক্ষিণ করে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে শেষ হয়।
এসময় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় ছেংগারচর পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাউন্সিল শাহজাহান মোল্ল্যা সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ছেংগারচর পৌর মেয়র লায়ন আলহাজ্ব লায়ন আরিফ উল্ল্যা সরকার।
উপস্থিত ছিলেন, ছেংগারচর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান কাইয়ূম চৌধুরীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রতন ফরাজী, উপজেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক রেফায়েত উল্ল্যা দর্জি, পৌর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল ফরাজি, জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি শরিফ উল্ল্যা সরকার, ছেংগারচর পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, মাহবুব আলম বাবু, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রাজিব মিয়া কাউন্সিল আমান উল্ল্যা সরকার, সবুজ বেপারি, আ. মান্নান, আনোয়ার হোসেন, শাহাজালাল মুফতি, যুবলীগ নেতা মিল্টন সরকার, শাহিন আলম, মাহফুজ শিকদার’সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
কালিপুর বাজার :
কালিপুর বাজারে মেঘনা ধনাগোদা শেচ প্রকল্প পানি ফেডারশনের সভাপতি শাহীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খসরু ঢালীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখছেন ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব লায়ন আরিফুল্লাহ সরকার, মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন মাস্টার,ছেংগারচর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান কাইয়ুম চৌধুরী,সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ খোকন চৌধুরী, ষাটনল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ভুলন চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান, উপজেলা যুবলীগ নেতা শরিফ হোসেন,ইসলামাবাদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জালাল ভূঁইয়া, ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, ছেংগারচর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিব মিয়া।
পরে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পরিকল্পনার প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলমকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কালিপুর এলাকার বিভিন্ন স্তরের লোকজন আনন্দ মিছিল বের করে। মিছিলের পর উপস্থিত জনতা ও এই এলাকা দিয়ে ট্রলারে নদী পারাপার হওয়া সকল পথচারীর মাঝে মিষ্টি বিতরন করা হয়।
সেতুর দৈর্ঘ্য ১.৮৫ কিলোমিটার। সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ৭.৫১ কিলোমিটার (গজারিয়া অংশে ৫.৪৬০ কিলোমিটার ও মতলব উত্তর অংশে ২.০৫৫ কিলোমিটার)। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক N1 এর সাথে ইন্টারচেঞ্জ ডেভেলপমেন্ট ২.১ কিলোমিটার। নদী শাসন কাজের দৈর্ঘ্য ২.২ কিলোমিটার। টোল প্লাজা একটি এবং ওজন স্টেশন হবে দুইটি। ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স হবে ২৫ মিটার। এই সেতু বাস্তবায়ন হলে জিডিপি প্রবৃদ্বির হার বাড়বে ০.২৩%।
গজারিয়া-মতলব সেতুটি ঢাকা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে বিকল্প সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে। এ সেতু নির্মাণের ফলে চাঁদপুর, লক্ষীপুর, নোয়াখালী এবং ভোলা জেলার সাথে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে যাতায়াতের দূরত্ব সময় এবং ব্যয় হ্রাস পাবে।সেতুটি ব্যবহারের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (N-1) এর উপর যানবাহনের চাপ কমবে। সেই সাথে চাঁদপুর জেলার অন্তর্গত মতলব উত্তর ও হাইমচর উপজেলায় অনুমোদিত দুইটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহন সহজ হবে।
এই সেতু দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অবদান রাখবে। নদীর অববাহিকায় নতুন শিল্পাঞ্চল সহ পর্যটন শিল্প বিকাশের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। যা অত্র অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। সেতুটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রায় ১.৮ কোটি জনগণ প্রত্যক্ষভাবে সুবিধা প্রাপ্ত হবে।
সেতুটির মধ্যে নদীর মূল প্রবাহে কোন পিলার থাকবে না। এজন্য নদীর প্রবাহে কোন বাধা সৃষ্টি হবে না।সেতু নির্মাণে ই ডি সি এফ (ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড) কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক সহজ শর্তে (০.০১%-০.০৫%) হারে ঋণ দিবে ৩,৫১৩ কোটি ৯৫ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা এবং GOV হতে ঋণের পরিমাণ ৬৬০ কোটি ৭২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। টাকা ফেরত প্রদানের ম্যাচিউরিটি পিরিয়ড ৪০ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড ১৫ বছর।
উল্লেখ্য, মতলব-গজারিয়া সেতুটি ২ লেনের ও ৬শত কোটি টাকায় এলজিইডির মাধ্যমে নির্মান করার প্রস্তাব ছিল।পরে শরীয়তপুর, ভোলা, লক্ষ্মীপুরসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের লোকজন এই পথে যাতায়াতের গুরুত্ব অনুধাবন করে সেতু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৪লেন বিশিষ্ট ৪হাজার ১শ কোটি টাকা ব্যায়ে দেশের প্রথম ঝুলন্ত সেতু একনেকে অনুমোদিত হয়।