সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুদের অপুষ্টিজনিত রোগ প্রতিরোধ, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই (EPI) কক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৩ হাজার ২৮০ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২৫ হাজার ৩৫ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় মোট ২৮ হাজার ৩১৫ জন শিশাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবীর সরকার।
তিনি বলেন, শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশে ভিটামিন ‘এ’-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ভিটামিন রাতকানা রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অপুষ্টিজনিত নানা জটিলতা কমাতে সহায়তা করে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, নির্ধারিত বয়সী প্রতিটি শিশাকে অবশ্যই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে আসতে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) মোজাহিদ মিয়া, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) গোলাম আসকার, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সৈয়দ মাহমুদুল আলম খোকন, স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুল কুদ্দুছ সহ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে অস্থায়ী ও স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের অপুষ্টি হ্রাস, অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমানো। এ ধরনের জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।