চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের উদ্দমদী এলাকায় পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক দম্পতির মধ্যে চরম দাম্পত্য কলহের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মারধর, কাঁচি দিয়ে কুপিয়ে জখম এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অটোরিকশা চালক মাসুদ (৪২)। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ।
জানা যায়, উপজেলার উদ্দমদী গ্রামের প্রধান বাড়ির বাসিন্দা মাসুদ মতলব উত্তর থানায় দায়ের করা অভিযোগে তার স্ত্রী শাকিলা বেগম (৩০), শ্বশুর ওয়াজকুরনী বেপারী (৫৫) ও শাশুড়ি সেলিনা বেগমকে অভিযুক্ত করেন।
লিখিত অভিযোগে মাসুদ উল্লেখ করেন, প্রায় ১৩ বছর আগে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক শাকিলা বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তামিম (১১) ও জান্নাত (৪) নামে দুই সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি পারিবারিক বিরোধের জেরে গত ১৮ জুন তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, স্ত্রী শাকিলা বেগম ও তার বাবা ওয়াজকুরনী বেপারী তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে শাকিলা বেগমের হাতে থাকা লোহার কাঁচি দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এদিকে অভিযোগের পেছনে ভিন্ন কারণ রয়েছে বলে দাবি করেন মাসুদ। তিনি বলেন, অটোরিকশা চালানোর সুবাদে হিরা বকাউল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তিনি বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আমার পাসপোর্ট করান। পরে গোপনে আমার স্ত্রীর মোবাইল নম্বর নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমি স্ত্রীকে নিষেধ করি। কিন্তু সে আমার কথা শোনেনি। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে আমার সন্দেহ হয়।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে আমার মা হজ পালন শেষে দেশে ফেরেন। আমি বাড়িতে না থাকাকালে হিরা বকাউলকে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখে মা চিৎকার দিলে তিনি পালিয়ে যান। পরে বিষয়টি আমার শ্বশুরকে জানালে তিনি বাড়িতে এসে আমাকে হুমকি ও মারধর করেন এবং মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান।
মাসুদ বলেন, আমার দুইটি সন্তান রয়েছে। আমি অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের ভরণ-পোষণ করি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াজকুরনী বেপারী বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে তার স্বামী বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছে। এবারও মেয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের দুইটি সন্তান রয়েছে। প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করবে বলে আমি আশা করি।
এ বিষয়ে অভিযোগে উল্লেখিত হিরা বকাউলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।