July 3, 2026, 7:07 pm
শিরোনামঃ
এখনই পদক্ষেপ নিন : জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে প্রজনন মৌসুমেও সুন্দরবনে মৎস্য নিধনের অভিযোগ ; বন বিভাগের একাংশের বিরুদ্ধে যোগসাজশের দাবি গ্রামবাসীর সর্বসম্মত সমর্থনে ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা এম ইলিয়াছ আলীর মতলব উত্তরে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দোকান পুড়ে ছাই ; গরু দগ্ধ হয়ে নিহত সাগর উত্তাল : ইলিশের ভরা মৌসুমে অনিশ্চয়তায় উপকূলের হাজারো জেলে মতলব উত্তরে মাকে হ.ত্যা করে কলাবাগানে ফেলে রাখে ছেলে, ৮ দিন পর গ্রেপ্তার সূর্য তরুণ ব্লাড ডোনার ক্লাব এর কমিটি গঠন হোয়াইট ফ্লাইয়ের আগ্রাসনে বিলুপ্তির পথে বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী নারিকেল তেল শিল্প বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সামার-২০২৬ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত মতলবে নিখোঁজের ১০ দিন পর পুকুরে মিলল মরদেহ

প্রজনন মৌসুমেও সুন্দরবনে মৎস্য নিধনের অভিযোগ ; বন বিভাগের একাংশের বিরুদ্ধে যোগসাজশের দাবি

ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি:

সরকার ঘোষিত তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা চলাকালেও সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অবাধে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় জেলে ও মৎস্যজীবীদের দাবি, বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং মাছ ও কাঁকড়ার প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিবছরের মতো চলতি বছরও জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস বনের অভ্যন্তরে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ সময় কোনো ধরনের পাস বা পারমিটও ইস্যু করা হয় না। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে না। রাতের অন্ধকারে এবং অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময়কে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র নিয়মিত সুন্দরবনে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় জেলে অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে বনে প্রবেশের জন্য বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা করা হয়। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করলে নির্বিঘ্নে বনে প্রবেশ করে মাছ ধরার সুযোগ মিলছে। অন্যদিকে যারা এই ধরনের অনৈতিক লেনদেনে রাজি হন না, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি কিংবা মামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অবৈধ মাছ শিকারই নয়, নিষিদ্ধ বিষ প্রয়োগ এবং কারেন্ট জাল ব্যবহারের ঘটনাও ঘটছে। এর ফলে মাছের পোনা, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি কাঁকড়া ধরার জন্য নদীর চর ও বনাঞ্চলে আটন বসাতে গিয়ে নির্বিচারে সুন্দরী গাছের চারা কেটে ফেলা হচ্ছে, যা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

মৎস্যজীবীদের মতে, প্রজনন মৌসুমে এভাবে অবাধে মাছ আহরণ চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। এর প্রভাব শুধু পরিবেশেই নয়, উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও পড়বে।

এ বিষয়ে ফিশ ফার্ম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) ও খুলনা কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান সাহীন বলেন, প্রজনন মৌসুমে যদি অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা না যায়, তাহলে সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। তিনি বন বিভাগের লোক দেখানো অভিযানের পরিবর্তে কার্যকর তদারকি জোরদার, অবৈধ শিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তিনি।

অন্যদিকে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু জেলে গোপনে বনে প্রবেশের চেষ্টা করছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং একাধিক নৌকা আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবনের মতো সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রজনন মৌসুমে অবৈধ মৎস্য আহরণ অব্যাহত থাকলে তা শুধু মৎস্যসম্পদ নয়, পুরো বাস্তুতন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা মনে করেন, কার্যকর নজরদারি, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমেই এ ধরনের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, সুন্দরবন দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞার কঠোর বাস্তবায়ন, অবৈধ শিকার বন্ধ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করাই হতে পারে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা