October 25, 2026, 8:10 am
শিরোনামঃ
ভানুয়াতুর কাছে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, নজর ভূকম্পন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে গেল টাইফুন চাম্পি, নিহত ১, আহত পাঁচ শতাধিক ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সতর্কবার্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় তলব বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলারের জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক মেট্রোরেল ব্যয় ও জাপানি ঋণের সুদ কমানোর আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরে একাধিক সমঝোতার প্রত্যাশা সীমান্তে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষ ঠেকাতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার টাইফুন চাম্পির আশঙ্কায় প্রায় পুরো তাইওয়ানে স্থবিরতা, শত শত ফ্লাইট বাতিল সাজেকে অবরোধ ঘিরে গুলিবিনিময়, আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

মোংলা নদী পারাপারে ভোগান্তি নিরসনে প্রশাসনের জরুরি বৈঠক

ম.ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট:

মোংলা নদী পারাপারে সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের চরম ভোগান্তি, অব্যবস্থাপনা ও জীবনের ঝুঁকি নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জরুরি হস্তক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে রোববার (১০ মে) বিকেলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ভবনের সভা কক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে নতুন পল্টুন স্থাপন, ঘাট নির্মাণ, ২৪ ঘণ্টা ফেরি চালু রাখা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জরুরি সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসককে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে এবং সমস্যা সমাধানে সুপারিশ করবে বলে জানানো হয়।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ রায়হান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ মনিরুজ্জামান, বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী রিধি রুবাইয়াত, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (মেম্বার হারবার ও মেরিন) কমডোর মোঃ শফিকুল ইসলাম সরকার, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ তারভির আলমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়াও মোংলা বন্দর ইপিজেড কর্তৃপক্ষ, মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র গাইন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ মান্নান হাওলাদার, পৌর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মোংলা নদীর দুই পাড়ের মানুষের পারাপার সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে— নদীর দুই পাড়ে জরুরি ভিত্তিতে পল্টুন স্থাপন, যাত্রী ওঠানামার সুবিধার্থে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নতুন পল্টুন নির্মাণ, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস চালু রাখা, যাত্রী ও জরুরি যানবাহন পারাপারের জন্য আধুনিক ঘাট ও জেটি নির্মাণ।

এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য ৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করবে এবং জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, মোংলা নদী পারাপারের সমস্যা শুধু স্থানীয় নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ মোংলা বন্দরের সাথেও সরাসরি সম্পর্কিত। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ভোগান্তি নিরসনে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে এবং ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় থাকতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দর একটি আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্র বন্দর হলেও নদী পারাপারে মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের সমস্যা। জনগণের এই কষ্ট আর সহ্য করা হবে না। স্থায়ী সমাধান হিসেবে আধুনিক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে তার আগ পর্যন্ত ফেরি ও পল্টুন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা হবে।

সভা শেষে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। তবে তারা জানান, অতীতে এমন অনেক উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের অভাবে তা থমকে গেছে। তাই তারা চান, এবার গঠিত ৭ সদস্যের কমিটি যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—প্রতিশ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়িত হলে মোংলা নদী পারাপারের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা