চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিম নাউরী গ্রামের কৃতি সন্তান এম ইলিয়াছ আলী।
পশ্চিম নাউরী গ্রামবাসীর সর্বসম্মত সমর্থন নিয়ে শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে নিজ বাড়িতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এম ইলিয়াছ আলীকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। গ্রামবাসীর আনুষ্ঠানিক সমর্থনের মাধ্যমে সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
সমাজসেবক আব্দুল হালিম সরকারের সভাপতিত্বে এবং ইঞ্জিনিয়ার রিফাত উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আনম গোলাম মোস্তফা মাস্টার, ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহাঙ্গীর সরকার, এস এম মমিনুল ইসলাম সরকার, সমাজসেবক রুহুল আমিন বেপারী, নুরুল ইসলাম বেপারী, নান্নু মিয়াজী, ইসমাইল মোল্লা, জীবন দেওয়ান, ওসমান প্রধান, আবু তাহের বেপারী, হাসান প্রধান, সাবান উল্লাহ প্রধান, ইমার উদ্দিন প্রধান, উপজেলা মহিলা দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদপ্রার্থী সেলিনা আক্তার, সাবেক ইউপি সদস্য রাহিমা ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, নাউরী একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। পাঁচ নাউরী গ্রামের ঐক্য, শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে এলাকাজুড়ে প্রশংসিত। এই পাঁচ গ্রামের রয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঈদগাহ, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, যা এলাকার ঐক্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক।
তারা বলেন, প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন প্রতিভাবান, সৎ ও জনবান্ধব তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজন। সেই চিন্তা থেকেই গ্রামবাসীর মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় উপস্থিত সবার মতামতের ভিত্তিতে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এম ইলিয়াছ আলীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তাকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বক্তারা আরও বলেন, এম ইলিয়াছ আলী একজন প্রতিভাবান ও সমাজসেবামুখী তরুণ। তিনি যদি ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেন, তাহলে জনগণের ভালোবাসায় তার বিজয় সুনিশ্চিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
সভায় নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আনম গোলাম মোস্তফা মাস্টার বলেন, আমাদের পাঁচ নাউরী গ্রামের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য। এই ঐক্য ও আন্তরিকতার কারণেই আমরা অতীতেও সফল হয়েছি। ইলিয়াছ আলীর জন্যও আমাদের একইভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
গ্রামবাসীরা বলেন, এম ইলিয়াছ আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। নির্বাচনের সময় নয়, বছরের পর বছর মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকায় তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান তারা। তাদের বিশ্বাস, তিনি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এম ইলিয়াছ আলী বলেন, আমি শুরু থেকেই আমার এলাকার হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী থাকার চেষ্টা করেছি। আমার জন্মস্থান পশ্চিম নাউরীর সর্বস্তরের মানুষ চেয়েছেন আমি যেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করি। আজ তারা আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন। সেই সমর্থনের ভিত্তিতেই আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ। আমি নির্বাচনে অংশ নেব, তবে বিজয়ী করার দায়িত্ব ইউনিয়নবাসীর।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা এবং সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, স্মার্ট ও ডিজিটাল ইউনিয়নে রূপান্তর করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।
মতবিনিময় সভার শেষে উপস্থিত গ্রামবাসীরা এম ইলিয়াছ আলীর প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গ্রামবাসীর এই প্রকাশ্য সমর্থনের মাধ্যমে ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।