June 24, 2026, 9:13 pm
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার সময়ের আলোকে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : এক পুনর্মূল্যায়নের আলোচনা নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইমামপুর ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে ফাইনালে কেশাইরকান্দি ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাব মতলব-গজারিয়া সেতুর অর্থায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, জমি অধিগ্রহণে ১২ কোটি টাকা অনুমোদন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে চাঁদপুর-২ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন এমপি ড. জালাল উদ্দিন সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে মতলব উত্তরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল সুন্দরবনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চক্রে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি কোটচাঁদপুরে মানবপাচার রোধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সমন্বয় সভা মতলব উত্তরে পরকীয়ার সন্দেহে শুরু বিরোধ, শ্বশুর-স্ত্রীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ স্বামীর

মতলবে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট, অতিরিক্ত দামে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

মমিনুল ইসলাম :
Oplus_16908288

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় গত প্রায় এক মাস ধরে চরম আকার ধারণ করেছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে এই সংকট শুরু হওয়ায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার হাটবাজার ও খুচরা দোকানগুলোতে গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না বললেই চলে। কোথাও সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মতলব উত্তর উপজেলার অধিকাংশ পরিবার রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি কাঠ ও কেরোসিনের ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ করে এলপিজি গ্যাসের এমন সংকটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নাভিশ্বাস উঠেছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে আবারও কাঠ বা বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, যা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য।

সরেজমিনে উপজেলার ছেংগারচর, সুজাতপুর, নতুন বাজার’সহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, যেখানে আগে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ থাকত, সেখানে এখন বড় বড় দোকানেও সিলিন্ডার নেই। কিছু কিছু দোকানে সীমিত পরিমাণে গ্যাস পাওয়া গেলেও ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য প্রায় অসম্ভব।

ভুক্তভোগী গৃহিণী নাজমা বেগম বলেন, আমরা কয়েক বছর ধরে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করে রান্না করি। এখন তিন দিন ধরে গ্যাস শেষ। বাজারে খোঁজ করেও পাচ্ছি না। কোথাও পেলেও দাম অনেক বেশি। সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে এত টাকা দিয়ে গ্যাস কিনব কীভাবে?

আরেক ভুক্তভোগী কামাল মিয়া জানান, আগে হাটে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানদাররা বলে গ্যাস নেই। রান্না করতে না পেরে পরিবার নিয়ে খুব বিপদে আছি।

এলপিজি ব্যবসায়ীরাও সংকটের বিষয়টি স্বীকার করছেন। সুজাতপুর বাজারের ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, কোম্পানি থেকে আমরা নিয়মিত গ্যাসের সরবরাহ পাচ্ছি না। এজন্য বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়েও আমাদের কাছে কোনো সঠিক তথ্য নেই।

তিনি আরও জানান, সরবরাহ কম থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছে, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান বাজার মনিটরিং কিংবা কোনো লিখিত ঘোষণা না থাকায় একশ্রেণির ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, এলপিজি গ্যাস সংকট বর্তমানে একটি জাতীয় সমস্যা। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা