May 29, 2026, 5:11 pm
শিরোনামঃ
আল কোরআন সমকামিতা ও বলৎকার সম্পর্কে কী বলে? ধর্ম ব্যবসা সম্পর্কে পবিত্র কোরআন কি বলে? মতলব দক্ষিণে ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ,পল্লী চিকিৎসক গ্রেপ্তার বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত কোরবানীর প্রকৃত তাৎপর্য! জনপ্রতিনিধির আসল পরিচয় তার আচরণে! বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মতলব উত্তরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ১০ গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন মোংলার ঠাকুরাণী খালের পরিষ্কার অভিযান  উদ্বোধন করলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী সুন্দরবনে নতুন দস্যু দল গঠনের চেষ্টা: আত্মসমর্পণ করা ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর ২ সদস্য অস্ত্রসহ আটক সংঘর্ষে চোখ হারানো যুবদল নেতা মামুন সরকারের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা

আল কোরআন সমকামিতা ও বলৎকার সম্পর্কে কী বলে?

Reporter Name

মানবসভ্যতার ইতিহাসে নৈতিকতা, যৌনাচার, পারিবারিক কাঠামো এবং সামাজিক শৃঙ্খলা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচ্য বিষয় ছিল। পৃথিবীর প্রায় সব ধর্ম, দর্শন ও সভ্যতাই মানুষের যৌন আচরণকে কেবল ব্যক্তিগত ভোগের বিষয় হিসেবে দেখেনি; বরং এটিকে পরিবার, সমাজ, মানবিক মূল্যবোধ ও সভ্যতার ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত একটি মৌলিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছে। ইসলামও এর ব্যতিক্রম নয়। পবিত্র আল কোরআন মানুষের জীবনব্যবস্থাকে একটি পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে উপস্থাপন করেছে, যেখানে বিশ্বাস, নৈতিকতা, পরিবার, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি এবং যৌন আচরণ—সবকিছুর জন্য দিকনির্দেশনা রয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে “সমকামিতা”, “যৌন স্বাধীনতা”, “লিঙ্গ পরিচয়”, “যৌন অধিকার” ইত্যাদি বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। পশ্চিমা বিশ্বে বহু রাষ্ট্র সমকামী সম্পর্ককে আইনগত স্বীকৃতি দিয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা এটিকে “মানবাধিকার” হিসেবে উপস্থাপন করছে। অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বে এ বিষয়ে প্রবল মতপার্থক্য ও বিতর্ক রয়েছে। কেউ বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ধর্মীয় ও নৈতিক বিচ্যুতি হিসেবে দেখেন, আবার কেউ আধুনিক মানবাধিকারের আলোকে নতুন ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। একইভাবে “বলৎকার” বা জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনকে ইসলাম অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ ইসলাম মানুষের সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।

পবিত্র আল কোরআনে সমকামিতার প্রসঙ্গ মূলত হযরত লূত (আঃ)-এর জাতির ঘটনার মাধ্যমে এসেছে। এই ঘটনাকে কোরআন শুধু একটি ঐতিহাসিক কাহিনী হিসেবে তুলে ধরেনি; বরং এটি একটি নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষা হিসেবেও উপস্থাপন করেছে। আল্লাহ বলেন: “আর স্মরণ করো লূতকে, যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সৃষ্টিজগতের কেউ করেনি?” — সূরা আল-আরাফ: ৮০

এই আয়াতে “অশ্লীল কাজ” বলতে কোরআনের মুফাসসিরগণ সমকামী যৌনাচারকে বুঝিয়েছেন। এরপরের আয়াতে বলা হয়েছে: “তোমরা তো নারীদের বাদ দিয়ে কামভাব নিয়ে পুরুষদের কাছে গমন করো; বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।”— সূরা আল-আরাফ: ৮১

এখানে কোরআন স্পষ্টভাবে পুরুষে-পুরুষে যৌন সম্পর্ককে “সীমালঙ্ঘন” হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে যৌন সম্পর্কের স্বাভাবিক ও বৈধ কাঠামো হলো নারী ও পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্ক। কোরআনে আল্লাহ মানবজাতিকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করার কথা বহুবার উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেন: “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।” — সূরা আর-রূম: ২১

এই আয়াতে পরিবার, দাম্পত্য ও নারী-পুরুষ সম্পর্ককে একটি স্বাভাবিক মানবিক কাঠামো হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে মানবজাতির বংশবিস্তার, পরিবারব্যবস্থা ও সামাজিক ভারসাম্য নারী-পুরুষের সম্পর্কের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়।

হযরত লূত (আঃ)-এর জাতির ঘটনা কোরআনে বিভিন্ন স্থানে এসেছে—সূরা আল-আরাফ, সূরা হূদ, সূরা হিজর, সূরা শু’আরা, সূরা নামল এবং সূরা আনকাবূতে। প্রতিটি জায়গায় একটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—তাঁদের জাতি শুধু সমকামিতাতেই লিপ্ত ছিল না; বরং তারা সামাজিক অবক্ষয়, প্রকাশ্য অশ্লীলতা, জুলুম এবং নৈতিক ধ্বংসের মধ্যেও নিমজ্জিত ছিল। সূরা আনকাবূতে আল্লাহ বলেন: “তোমরা কি পুরুষদের কাছে গমন করো, পথরোধ করো এবং তোমাদের সভায় মন্দ কাজ করো?” — সূরা আনকাবূত: ২৯

অনেক মুফাসসিরের মতে, এখানে “পথরোধ” বলতে ডাকাতি, জুলুম এবং পথচারীদের ওপর আক্রমণ বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ তাদের সমাজে যৌন বিকৃতি শুধু ব্যক্তিগত আচরণে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা সামাজিক অপরাধ ও সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল।

কোরআনে সমকামিতার প্রসঙ্গ আলোচনার সময় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো “ফিতরাহ” বা মানুষের স্বাভাবিক প্রকৃতি। ইসলাম মনে করে, আল্লাহ মানুষকে একটি স্বাভাবিক প্রবণতা ও ভারসাম্যের ওপর সৃষ্টি করেছেন। নারী-পুরুষের পারস্পরিক আকর্ষণ সেই স্বাভাবিকতার অংশ। কোরআনে বলা হয়েছে: “অতএব তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখো। এটি আল্লাহর সেই প্রকৃতি, যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।” — সূরা আর-রূম: ৩০

ইসলামী চিন্তায় সমকামী আচরণকে এই স্বাভাবিক প্রকৃতি থেকে বিচ্যুতি হিসেবে দেখা হয়। তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ইসলামী আলেমদের একটি বড় অংশ “প্রবণতা” ও “কর্ম”-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। অর্থাৎ কোনো মানুষের মনে কোনো প্রবণতা জন্মাতে পারে, কিন্তু ইসলাম মূলত কাজ বা আচরণকে বিচার করে। তাই ইসলামী আলোচনায় সমকামী অনুভূতি ও সমকামী কর্ম—দুইটিকে এক করে দেখা হয় না।

বলৎকার বা জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের প্রসঙ্গে ইসলাম অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কারণ এটি শুধু ব্যভিচার নয়; বরং জুলুম, সহিংসতা এবং মানবিক মর্যাদার ওপর আঘাত। কোরআনে জোরপূর্বক নারীদের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন: “তোমরা তোমাদের দাসীদেরকে দুনিয়ার জীবনের সামান্য সম্পদের লোভে ব্যভিচারে বাধ্য করো না, যদি তারা পবিত্র থাকতে চায়।” — সূরা আন-নূর: ৩৩

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইসলাম জোরপূর্বক যৌনাচারকে সম্পূর্ণভাবে হারাম ও অন্যায় হিসেবে বিবেচনা করে। ইসলামী আইনে বলৎকার কেবল নৈতিক অপরাধ নয়; বরং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সামাজিক সন্ত্রাস হিসেবেও বিবেচিত। ইসলাম মানুষের সম্মানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। কোরআনে বলা হয়েছে: “আর অবশ্যই আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি।” — সূরা আল-ইসরা: ৭০

এই সম্মানের মধ্যে মানুষের শরীর, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং যৌন মর্যাদাও অন্তর্ভুক্ত। তাই জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।

সমকামিতা প্রসঙ্গে আধুনিক বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হলো—এটি কি জন্মগত, নাকি সামাজিক ও মানসিক প্রভাবের ফল? বিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী এবং সমাজবিজ্ঞানীদের মধ্যেও এ বিষয়ে একক মত নেই। কেউ জৈবিক কারণের কথা বলেন, কেউ সামাজিক ও মানসিক প্রভাবের কথা বলেন। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ নানা প্রবৃত্তি ও পরীক্ষার মধ্যে জীবনযাপন করে। কিন্তু কোনো প্রবণতা থাকলেই সেটি বৈধ হয়ে যায় না। ইসলাম মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক দায়িত্বকে গুরুত্ব দেয়। কোরআনে বলা হয়েছে: “আর যে ব্যক্তি তার প্রবৃত্তিকে সংযত রাখে, নিশ্চয়ই জান্নাতই হবে তার আশ্রয়।” — সূরা আন-নাযিআত: ৪০-৪১

ইসলামে যৌন স্বাধীনতা সীমাহীন নয়। বরং এটি নৈতিকতা, দায়িত্ব ও বৈধতার কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। ইসলাম ব্যভিচার, অশ্লীলতা, ধর্ষণ, জোরপূর্বক যৌনতা এবং সমকামী যৌনাচার—সবকিছুকেই সীমালঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে।

আধুনিক বিশ্বে সমকামিতা নিয়ে বিতর্কের একটি কারণ হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আধুনিক সেক্যুলার চিন্তার সংঘাত। পশ্চিমা মানবাধিকার ধারণা ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। অন্যদিকে ইসলাম ব্যক্তি স্বাধীনতার পাশাপাশি নৈতিকতা, পরিবার এবং সামাজিক ভারসাম্যকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। ফলে এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সংঘাত তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে ইসলামের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ঘৃণা ও সহিংসতা নয়, বরং দাওয়াহ, সহমর্মিতা ও নৈতিক আহ্বান। ইসলাম কোনো ব্যক্তিকে অকারণে অপমান, নির্যাতন বা নিপীড়নের অনুমতি দেয় না। কোরআনে বলা হয়েছে: “তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করো প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।” — সূরা আন-নাহল: ১২৫

অর্থাৎ ইসলামী অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রেও শালীনতা ও প্রজ্ঞা জরুরি। অনেক সময় কিছু মানুষ ধর্মের নামে ঘৃণা, বিদ্বেষ বা সহিংস আচরণ করে, যা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বলৎকারের ক্ষেত্রে ইসলামের অবস্থান আরও কঠোর। কারণ এখানে একজন মানুষের সম্মান ও নিরাপত্তা ধ্বংস করা হয়। ইসলামী আইনে ধর্ষণকে “হিরাবা” বা ভয়াবহ সন্ত্রাসমূলক অপরাধের পর্যায়েও আলোচনা করা হয়েছে কিছু ফিকহি ব্যাখ্যায়। কারণ এটি সমাজে ভয়, সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। কোরআনে যারা সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি করে তাদের ব্যাপারে কঠোর ভাষা এসেছে: “যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়…” — সূরা আল-মায়িদাহ: ৩৩

ইসলামের দৃষ্টিতে যৌন অপরাধ শুধু ব্যক্তিগত পাপ নয়; বরং সামাজিক বিপর্যয়ের কারণও হতে পারে। তাই ইসলাম পরিবারব্যবস্থা, বিবাহ, শালীনতা ও আত্মসংযমকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিনোদন শিল্প এবং অনলাইন সংস্কৃতির কারণে যৌনতা নিয়ে এক ধরনের উন্মুক্ততা তৈরি হয়েছে। অনেক সমাজে যৌন নৈতিকতার প্রচলিত কাঠামো ভেঙে পড়ছে। ইসলাম এই পরিস্থিতিতে মানুষকে আত্মসংযম, তাকওয়া এবং নৈতিকতার দিকে আহ্বান করে। কোরআনে দৃষ্টি সংযমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: “মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।” — সূরা আন-নূর: ৩০

এবং নারীদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ এসেছে। অর্থাৎ ইসলাম যৌন নৈতিকতাকে শুধু শাস্তির মাধ্যমে নয়; বরং ব্যক্তি চরিত্র গঠন, দৃষ্টি সংযম, পরিবারব্যবস্থা ও আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

অনেকেই প্রশ্ন করেন—ইসলাম কি সমকামী ব্যক্তিদের মানুষ হিসেবে ঘৃণা করতে বলে? কোরআনের আলোকে দেখা যায়, ইসলাম কোনো মানুষকে তার মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করতে বলে না। কিন্তু একইসঙ্গে ইসলাম কিছু কাজকে হারাম বা নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাই ইসলামী আলোচনায় “মানুষ” ও “কাজ”—এই দুইটির মধ্যে পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ।

যেমন ইসলাম চুরি, মদ্যপান বা ব্যভিচারকে হারাম বললেও প্রত্যেক পাপী মানুষকে সমাজচ্যুত করার শিক্ষা দেয় না। বরং তওবা, সংশোধন ও নৈতিক জীবনের দিকে আহ্বান করে। সমকামিতা প্রসঙ্গেও বহু আলেম এই পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন।

আজকের বিশ্বে এ বিষয়টি নিয়ে চরম মেরুকরণ দেখা যায়। একদল যেকোনো সমালোচনাকেই “ঘৃণা” হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে আরেকদল মানবিক আচরণ ভুলে গিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত সত্য বলা, কিন্তু অন্যায় ঘৃণা ও জুলুম থেকে বিরত থাকা।

পবিত্র কোরআনের আলোকে সমকামী আচরণকে বৈধ বলা যায় না। একইভাবে বলৎকারকে ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসলাম পরিবারব্যবস্থা, বৈধ দাম্পত্য, নৈতিকতা এবং মানবিক মর্যাদাকে রক্ষা করতে চায়। কোরআনে হযরত লূত (আঃ)-এর জাতির ঘটনাকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে মানুষ সীমালঙ্ঘন, অশ্লীলতা ও নৈতিক ধ্বংস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, ইসলাম মানুষের জীবনে নৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। এখানে যৌনতা কেবল প্রবৃত্তির বিষয় নয়; বরং দায়িত্ব, সম্মান, পরিবার এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত। সমকামিতা ও বলৎকার প্রসঙ্গে কোরআনের অবস্থান সেই বৃহত্তর নৈতিক কাঠামোর মধ্যেই বুঝতে হবে। ইসলাম যেমন পাপকে পাপ বলে, তেমনি মানুষকে সংশোধন, তওবা এবং নৈতিক জীবনের দিকেও আহ্বান করে। আর এ কারণেই ইসলামী দৃষ্টিকোণে যৌন আচরণের প্রশ্নটি শুধু ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নয়; বরং মানবসভ্যতার নৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

লেখক :

আজম পাটোয়ারী

প্রকাশক

আরডিএম মিডিয়া এন্ড প্রকাশনী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা