October 25, 2026, 6:07 pm
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরে আজ রাতে ঢাকা ছাড়ছেন, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জাপানের সঙ্গে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের সময় রাষ্ট্রদূত ঢাকায় থাকবেন, সিদ্ধান্তকে ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বললেন প্রতিমন্ত্রী ভানুয়াতুর কাছে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, নজর ভূকম্পন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে গেল টাইফুন চাম্পি, নিহত ১, আহত পাঁচ শতাধিক ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সতর্কবার্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় তলব বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলারের জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক মেট্রোরেল ব্যয় ও জাপানি ঋণের সুদ কমানোর আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরে একাধিক সমঝোতার প্রত্যাশা

মতলব উত্তরে ড্রেজারের পাইপ ভাঙচুর ; ক্ষতির মুখে বৈধ বালু ব্যবসা

মতলব উত্তর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের দশানী গ্রামে শনিবার (১৭ মে ২০২৫) সকাল ১০টার দিকে এক ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ড্রেজার ব্যবসায়ী মো. আমান উল্ল্যার মালিকানাধীন ৩৫টি ড্রেজার পাইপ ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কলাকান্দা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মহসিন বেপারী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন আমান উল্ল্যা। তিনি প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে ড্রেজার, পাইপ ও বাল্কহেড ব্যবহার করে বালু সংগ্রহ ও বিক্রি করে আসছিলেন। তার ব্যবহৃত ৩৫টি পাইপ দশানী গ্রামের মেঘনা নদীর তীরে সুনির্দিষ্টভাবে স্থাপন করা ছিল।

শনিবার সকালে হঠাৎ করে মহসিন বেপারী নেতৃত্বাধীন একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পাইপগুলো ভাঙচুর শুরু করে। তাদের সঙ্গে ছিল আনোয়ার বেপারী, জসিম বেপারী, সামিম, জব্বার, ইমন, মোহাম্মদ হোসেন ও আরও কয়েকজন।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে পাইপগুলোর ওপর সজোরে আঘাত করতে থাকে, এবং একের পর এক পাইপ ভেঙে ফেলে।

মো. আমান উল্ল্যা জানান, “এটি আমার বৈধ ব্যবসা। আমি দীর্ঘদিন ধরে বালু সরবরাহ করি। কিন্তু মহসিন সহ তারা এসে আমার ৩৫টি পাইপ একযোগে ভেঙে ফেলেছে। প্রতিটি পাইপের বাজার মূল্য প্রায় ৪৫০০ টাকা। আমার প্রায় ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই হামলার পেছনে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক স্বার্থ এবং হিংসা কাজ করেছে। আমি সব কাগজপত্রসহ আইনগত প্রক্রিয়ায় যাব।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সামাদ বলেন, “ঘটনার সময় আমি এগিয়ে গিয়ে বলি, আপনারা কেন ভাঙচুর করছেন? তখন তারা আমার ওপর চড়াও হয়। মহসিন বেপারী ও আনোয়ার বেপারী আমার বুকের ওপর ধাক্কা দেয় এবং মারধর করে। এরপর আমি আতঙ্কে সরে যাই।”

তিনি এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. ইউসুফ আলী বলেন, “আমি ১৭ বছর দেশে থাকতে পারিনি। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে নতুন কিছু লোক দলে ঢুকে নিজেদের ‘নতুন বিএনপি’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু তাদের কার্যকলাপ দলের আদর্শ ও নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। তারা এখন দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, এমনকি এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে।”

তিনি বলেন, “এদের কারণে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। আমি দলের হাইকমান্ডকে বিষয়টি জানাবো এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাবো।”

ঘটনার পর দশানী গ্রামসহ পুরো কলাকান্দা ইউনিয়নে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, এটি কোনো সাধারণ ভাঙচুর নয়— বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত, যেখানে একটি সফল ব্যবসাকে ধ্বংস করার প্রয়াস চালানো হয়েছে।

স্থানীয় সমাজসেবক মো. আমান উল্ল্যা বলেন, “এভাবে কেউ এসে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপকরণ ভেঙে দেবে, আর কেউ কিছু বলবে না- এটা হতে পারে না। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার করা।”

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, “এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরণের ঘটনা যদি সত্যি ঘটে থাকে, তাহলে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

এই ঘটনায় মতলব উত্তর এলাকায় এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি উঠেছে সর্বমহলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা