June 24, 2026, 11:36 pm
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার সময়ের আলোকে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : এক পুনর্মূল্যায়নের আলোচনা নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইমামপুর ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে ফাইনালে কেশাইরকান্দি ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাব মতলব-গজারিয়া সেতুর অর্থায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, জমি অধিগ্রহণে ১২ কোটি টাকা অনুমোদন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে চাঁদপুর-২ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন এমপি ড. জালাল উদ্দিন সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে মতলব উত্তরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল সুন্দরবনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চক্রে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি কোটচাঁদপুরে মানবপাচার রোধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সমন্বয় সভা মতলব উত্তরে পরকীয়ার সন্দেহে শুরু বিরোধ, শ্বশুর-স্ত্রীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ স্বামীর

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে শিশু আদিবা হত্যার নতুন রহস্য

বোরহান উদ্দিন ডালিম :

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও ইউনিয়নের পাঁচদোনা গ্রামের শিশু আদিবা হত্যার পর গ্রেপ্তার হয় তিন আসামী।

তবে জানা গেছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক আউয়াল গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য শুক্কুর আলী প্রধানিয়া নিজ বাড়ি থেকে পালিয়েছেন। তার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।

অনুসন্ধান ও ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে প্রবাসী আলাউদ্দিনের শিশু কন্যা আদিবা (৮) কে একই গ্রামের প্রধানিয়া বাড়ীর মো. মজিব ফকিরের ছেলে মো. ইমন (২১) ও সরকার বাড়ির মো. লিটন সরকারের ছেলে মো. ইয়াছিন (২০) বাড়ির সামনে থেকে ফুল দিবে বলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ওই সময় আদিবা চাচাত বোন তাসফিয়ার সঙ্গে খেলাধুলা করছিল।

আদিবাকে ফুল দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আদিবার মায়ের কাছে এসে জানায় তাসফিয়া। এরপরে তাসফিয়ার মা সামীমা আক্তার মেয়েকে বাড়ির আশপাশে, ইমন ও ইয়াছিনদের বাড়িতে গিয়ে অনেক খুঁজাখুঁজি করেও পাননি। পরে আদিবার মা মতলব দক্ষিণ থানায় ওইদিন রাতে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বিষয়টি তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জালাল উদ্দিনকে।

এসআই জালাল উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ২৩ জানুয়ারি অভিযুক্ত ইমনের বাড়ীর উত্তর পশ্চিমে নিজস্ব বাঁশঝাড়ের নীচে পচা ময়লার স্তুপ থেকে আদিবার মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া অভিযুক্ত আসামী ইমন ও ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করে।

উক্ত ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার শ্রীকান্দি এলাকার সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক আউয়াল গ্রেপ্তার হওয়ার পর হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। কারণ আউয়াল গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই হত্যার শিকার শিশু আদিবার প্রতিবেশি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য শুক্কুর আলী প্রধানিয়া পলাতক রয়েছেন। শুক্কুর আলী মেম্বারকে এই মামলায় এজহারভুক্ত আসামী কিংবা অভিযুক্তও করা হয়নি।

সাবেক এই ইউপি সদস্য শুক্কুর আলী কেন বাড়ি থেকে পলাতক; এই বিষয়ে অনুসন্ধান করে জানা গেছে রহস্যজনক তথ্য। শিশু আদিবার বাবা আলাউদ্দিন বর্তমানে প্রবাসে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে আবিদার পিতা ছোটবেলা থেকে পাঁচদোনা নানার বাড়ীতে বড় হয়েছেন এবং পরবর্তীতে এখানে বসতি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন। দীর্ঘ বছর এই এলাকায় থাকার সুবাধে আলাউদ্দিন সামাজিকভাবেও বিভিন্ন কাজে জড়িয়েছেন। এরই মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য শুক্কুর আলীর পরিবার আলাউদ্দিনের পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ এনে একাধিক মামলা করেন। এসব মামলায় আলাউদ্দিনের পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যবসা করতেন, সেই ব্যবসাও বড় ধরণের ক্ষতি হয়। উপায় না পেয়ে পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু শুক্কুর আলী গংদের অন্যায়, অত্যাচার ও ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি।

আদিবার মা ও মামলার বাদী শামিমা বলেন, আমার মেয়েকে হত্যার পর এবং অটোরিকশা চালক আউয়াল গ্রেপ্তারের পর থেকে শুক্কুর আলী বাড়ি থেকে পলাতক। সে অটোরিকশা চালক আউয়ালকে জামিন করানোর জন্য একজন আইনজীবী দিয়ে চেষ্টা চালায়। আমাদের মামলায় শুক্কুর আলী পরিবারের কেউ এজহারভুক্ত আসামী না। যে কারণে আমার শিশু কন্যা আদিবা হত্যাকান্ডে তারা জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহ হয়। কারণ শুক্কুর আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে ব্যাপক হয়রানি করে। এক মামলায় আমাকেও আসামী করে।

তিনি আরো বলেন, আমার মেয়েকে অপহরণকারী ইমন পরিবারের সাথে আমাদের কোন ধরনের বিরোধ ছিলো না। ইমন আমাদের এলাকার ছেলে। সে আমার বাড়ির কাছে এসে প্রায় আড্ডা দিয়েছে। লোকজনের মুখে শুনেছি সে মাদকাসক্ত। ঘটনার কিছুদিন আগে এলাকায় আসে। আমাদের সাথে পূর্ব থেকে যাদের বিরোধ, তারাও ইমনকে আদিবা হত্যায় ব্যবহার করতে পারে!

শামিমা আরো বলেন, শুক্কুর আলী এলাকায় একজন প্রভাবশালী। তিনি প্রভাব খাটিয়ে আমাদের পরিবারের অনেক ক্ষতি করেছেন। আর তার এই কাজে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে তার প্রবাসী ভাই মোশারফ হোসেন ওরফে মোশন আলী।

আদিবার মা বলেন, অপহরণের রাতেই অভিযুক্ত ইমনের বাবা মজিব ফকির কবিরাজি তদ্বির দিয়ে আদিবাকে খুঁজে দেয়ার নাম করে আমাদের বাড়িতে আসে। তার এই তদ্বিরে আমাদের পরিবারের সদস্যরা অনেকটা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এখনো আমরা অসুস্থ ও শোকাহত।

এদিকে শিশু আদিবা হত্যাকান্ডের ঘটনা জানাজানি ও মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয় এলাকাবাসী। ওই সময় ইমন পরিবারের সদস্যদের পরিকল্পনায় তাদের ঘরে আগুন দেওয়া হয়। আগুন দেয়ার পূর্বে ইমনের বোনসহ কয়েকজন তাদের ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়। এই বিষয়টি সঠিক তদন্ত করা হলে মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে জানান এলাকাবাসী।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, শিশু আদিবা হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি খুবই গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তিনজন আসামী গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে একজনের ১৬৪ জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তবে আরেকজন আসামী সন্দেহজনক রয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় আপাতত এর চাইতে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।

তথ্যসূত্র : স্বদেশ প্রতিদিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা