বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য (অর্থ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যুগ্মসচিব অঞ্জনা খান মজলিশ। প্রশাসনিক অঙ্গনে তিনি একজন সৎ, দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি। তবে ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলেও দূরসম্পর্কীয় স্বজনদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে তাকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অঞ্জনা খান মজলিশের বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং তার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে কেউ সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে তার বাবার তিন চাচাতো ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল ভিন্ন ভিন্ন ধারার। তাদের মধ্যে দাউদ খান মজলিশ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, ইয়াহিয়া খান মজলিশ সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন এবং সামসুদ্দোহা খান মজলিশ ঢাকা-১৮ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অঞ্জনা খান মজলিশ বিভিন্ন সময়ে অযাচিত বিতর্ক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপিপন্থী আত্মীয়দের পরিচয়ের কারণে তাকে নানা ধরনের বৈষম্য ও হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়। আবার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগপন্থী এক আত্মীয়ের পরিচয় নিয়েও তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল দাবি করছে।
এদিকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আলোচনায় আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। সে সময় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বিভিন্ন দাবি ও তার ভাইয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে অঞ্জনা খান মজলিশকে নানা ধরনের চাপ, অপপ্রচার এবং ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়। তবুও তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে নীতি ও পেশাদারিত্ব থেকে সরে আসেননি বলে তার সহকর্মী ও পরিচিতজনদের অভিমত।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাদের ব্যক্তিগত বা দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়দের রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে কর্মদক্ষতা, সততা ও পেশাগত যোগ্যতাকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তারা মনে করেন, দক্ষ, সৎ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে রাষ্ট্রীয় সেবার মান আরও উন্নত হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও পেশাদার কর্মকর্তারা যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের শিকার না হয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করবে।