আজ ২৭ ডিসেম্বর-২০২৪ আজকের এই দিনে ২০২৩ সালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন অভিবক্ত মতলবের মফস্বল সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ, অগ্রপথিক,সফল সংগঠক ও সাবেক ছাত্রনেতা আবুল কাশেম পাটোয়ারী মৃত্যুবরণ করেন।
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের প্রাচীন একটি জনপদ হচ্ছে মতলব। ইতিহাস, ঐতিহ্য,শিক্ষা ও শান্তির পাদপিঠ বৃহত্তর মতলব উপজেলার মফস্বল সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন মরহুম আবুল কাশেম পাটোয়ারী। যদি বিষয়টি তাঁর এক সময়কালের সহকর্মীদের অনেকে নিজেদের অহমিকা প্রকাশ করতে গিয়ে নির্লজ্জভাবে অস্বীকার করে। এটা হতেই পারে কেননা অঅমি জাতি হিসাবে যে বড়ই অকৃতজ্ঞ ও নালায়েক। তাই তো কারো অবদানকে স্বীকার করার মতো সাহস ও যোগ্যতা কোনটাই আমাদের নেই।
আবুল কাশেম পাটোয়ারী নাম মতলবের প্রতিটি সাংবাদিকের মনে চির জাগরুক থাকবে। হয়ত এমনটি ছিলো চাওয়া, কিন্তু আজকের চিত্র দেখে সেটা ভুল হিসাবে প্রমাণিত হলো। তাদের মুখের কথা আর কাজের বাস্তবতা যেন আকাশ-পাতাল ফারাক। তবে এর মাঝে কিচু মানুষ আছে যারা তাঁকে মনে মনিকোঠায় আগলে রেখেছে পুজনীয় ভালবাসা করে। আমার লেখাগুলো দেখে হয়ত কারো কাছে খারাপ লাগবে বা লাগতে পারে, তবে আমি মতলবের সবাইকে কম-বেশি চিনি। যারা নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ ছাড়া কারো জন্য একটি কলম ধরে না। অথম আমি আবুল কাশেম পাটোয়ারী’কে দেখেছি যে কিনা সর্বসময় এই মতলবের সাংবাদিকদের নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করতে ও তাদের সফলতা কামনা করতেন। আপনারা হয়ত জানেন না, তিনি আপনাদের পেছনে কিংবা সামনে সবসময় ভাল কামনা করতেন। অথচ আপনাদের আচরণ ততটা সুন্দর নয়। আপনারা একজন মৃত মানুষকে নিয়েও সমালোচনা করতে ছাড়েননি বা ছাড়েন না। জানি না এর কারণ কি? এই লেখাগুলো লেখার কোন ইচ্ছে আমার ছিলো না,তবে আপনাদের চারিত্রিকতার কারণে কলম নিজে থেকে এই লেখার অবতারণ করে।
আবুল কাশেম পাটোয়ারী ১৯৬৩ সালে ২২ মে দক্ষিন টরকীর পাটোয়ারী বাড়ির সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মিন্নত আলী পাটোয়ারী ও মাতা আনোয়ারা বেগম এর তিন পুত্র ও দুই কন্যার মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। বৈবাহিক জীবনে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ছিলো তাঁর ছোট্ট সংসার।
আবুল কাশেম পাটোয়ারী মতলব প্রেসক্লাব এর প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন (যদিও বিশ্বস্তসূত্র থেকে জানা যায়, তাঁর একান্ত আগ্রহ ও উদ্যোগে প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে)। তিনি একাধিকবার প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসাবে অত্যান্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালণ করেছেন। যা অনেকের ক্ষেত্রে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আবুল কাশেম পাটোয়ারী ১৯৮৪ সাল থেকে অভিবক্ত মতলব উপজেলায় একজন মফস্বল সাংবাদিক হিসাবে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। তৎকালীন জাতীয় দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকার মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হন। সাংবাদিকতাকে ভালবেসে তিনি এই পেশার সাথে আজ অবধি পথ চলছেন।
তিনি বৃহত্তর মতলবে একঝাঁক দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ সংবাদকর্মী তৈরীতে নব্বইয়ের দশকে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন (যদিও আজ সেটা অনেকেই অস্বীকার করে থাকেন)। তার একান্ত প্রচেষ্টায় অভিবক্ত মতলব প্রেসক্লাব জায়গাটি পেয়েছে এবং তার একান্ত উদ্যোগে ঘর ও আসবাবপত্র ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
মতলব থেকে প্রকাশিত গোলাম সারওয়ার সেলিম সম্পাদিত মতলর কন্ঠ পত্রিকার তিনি উপদেষ্ঠা সম্পাদক ছিলেন এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের মতলব পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক হিসাবেও ছিলেন। মতলবে থাকাকালিন সময় তিনি বেশ কয়েকটি ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তিনি সর্বদা নির্ভিক।
আবুল কাশেম পাটোয়ারী র্বতমানে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রধান র্বাতা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন এবং বাংলাদেশ এডিটর ফোরামের সদস্য ছিলেন। আবুল কাশেম পাটোয়ারী বর্তমানের এই সময়ের আলোচিত একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাতায়ন২৪.কম এর সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা পরবর্তিতে বাতায়ন24নিউজ নামে পরিবর্তিত হয়ে চলমান রয়েছে।
মতলব প্রেসক্লাবের সভাপতি থাকাকালিন তিনি মতলবের সাংবাদিকদেরকে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেন।
অসম্প্রদায়িক, মুক্ত চিন্তার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত ছিলেন তিনি। সাংবাদিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী আবুল কাশেম পাটোয়ারী একজন সামনের সারীর যোদ্ধা। তিনি সাংবাদিকদের সুরক্ষা অধীকার নিয়ে বহু সেমিনারে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
সাংবাদিক আবুল কাশেম পাটোয়ারী আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েও র্দীঘ তিন যুগের উপরে সংবাদপত্র নিয়ে পড়ে আছেন। বাংলাদেশের প্রয়াত একজন রাষ্ট্রপতি দেশের নামকরা প্রথম শ্রেনীর দৈনিক পত্রিকায় সাংবাদিকতার ব্যবস্থা করে দিলেও নীতি নৈতিকতার কারনে আবুল কাশেম পাটোয়ারী সে চাকুরীটি ছেড়ে দেন।
দেশের বহু সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন সাংবাদিক আবুল কাশেম পাটোয়ারীকে সেরা সংগঠক এবং সমাজ হিতৈষী হিসাবে সম্মাননা প্রদান করেছেন। সেসব সংগঠনগুলো হচ্ছে সাপ্তাহিক আজকের মতলব, ঢাকা সামাজিক সাংস্কৃতিক শিল্পীগোষ্ঠি, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক পরিষদ, মতলব উত্তর প্রগ্রেসিভ ফোরাম, শিশু কিশোর পরিষদ। বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকের পর থেকেই প্রিন্ট র্জানালিজমের পাশাপাশ ইলেক্ট্রনিক র্জানালিজমও একটি ভিত্তির উপর দাড়িয়ে গেছে। আমাদের দেশে তথ্য প্রযুক্তির কারনে সাংবাদিকতার গতিশীলতা বেড়েছে একথা চোখ বন্ধ করে বলা যাবে। আমাদের উপজেলাও এ গতিশীলতা থেকে পিছিয়ে নেই। বর্তমান সময়ে সংবাদ কর্মীরা তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে অতি দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন এবং তা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে পারছে।
একজন সৎ ও আদর্শবান সাংবাদিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের কল্যানে অতি দ্রুত মানুষের মনের মনি কোঠায় ঠাই নিচ্ছে। সাংবাদিকদের জন্য এ এক বিরল অর্জন। বর্তমানে সাংবাদিকরা অনেক সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। অনেক প্রথিতযশা সাংবাদকর্মী নিজে চ্যানেল খুলে সংবাদ প্রচারের সুযোগ পাচ্ছেন।
আজকের দিনে মফস্বল সাংবাদিকতার মান নিয়ে প্রায়ই কিছু প্রশ্ন উঠে। কিন্তু সেটা নিয়ে বসে থাকলে চলবেনা সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আমি মফস্বল সাংবাদিকতা করে নিঃস্ব হতে দেখেছি, রিক্ত হতে দেখেছি। তিনি কখনও পেশার টানে বা মায়ায় পড়ে অন্য কোন কাজে যুক্ত হননি। সবসময় নিজের মতো কাজ করে গেছেন মানুষের সেবায়।
একটা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদপত্রকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, সংবাদের পাঠক বা দর্শক কমেছে এ কথা ঠিক নয়, আমি এটি একেবারেই মানতে রাজি নই। একটা সময় সারাদেশে একটি টেলিভিশন ছিলো, যা এখন প্রায় ৫০ টি টেলিভিশনের অধিক রয়েছে। ৬/৭ টি পত্রিকা ছিলো এখন প্রায় ১ হাজারের অধিক দৈনিক পত্রিকা আছে। জাতীয় দৈনিক ২১৮ টি, আঞ্চলিক বাংলা দৈনিক ২৯৩টি, ইংরেজি জাতীয় দৈনিক ৪০ টি। ৪৮টি পত্রকা আছে যাদের প্রচার সংখ্যা এক লাখের বেশি। ১৪ টি অনলাইন টিভি চ্যানেল আছে সরকার অনুমোদিত। সেই সাথে সংখ্যা তত্ত্বের বিচারে পাঠক বেড়েছে । দেশ স্বাধীনকালে দেশে সাড়ে সাত কোটি লোক ছিলো, শিক্ষার হারও কম ছিলো আর সে হিসাবে পাঠক সংখ্যা ১০% ধরলে পাঠক ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার। এখন শিক্ষার হার বেশি লোক সংখ্যা ১৮ কোটি লাখ পাঠক হার যদি ১৫% হয় পাঠক সংখ্যা হবে ২ কোটি ৭০ লাখ। তা হলে পাঠক কমলো কোথায়, পাঠক বা দর্শক কমেনি বরং বেড়েছে। আমরা জানি আমাদের দেশে অনেক মানুষ আছে যারা সকালের নাস্তার চেয়ে খবরের কাগজ কে বেশি মূল্যায়ন করে। যে দিন খবরের কাগজ বন্ধ থাকে সেদিন অস্থিরতা বারতে থাকে।
গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় বহু মত বহু পথের লোক ছিল আছে থাকবে। প্রিন্ট মিডিয়া বলেন আর ইলেক্টনিক্স মিডিয়া বলেন প্রতিষ্ঠান গুলো নিয়ন্ত্রন করছে দেশের বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। এই সব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অনেক কিছু নিয়ন্ত্রন করে এ কথা অস্বীকার করবো না তার পরেও অনেক ভাল কাজ হচ্ছে। এখন তো মিডিয়া অনেক স্বাধীন, এইতো কয়েক দিন হলো হাইকোট একটি আদেশ দিল সাংবাদিকরা সংবাদ খুঁজবে, সংবাদ অনুসন্ধানে সরকারী–বেসরকারী যে কোন স্থানে যে কোন সময় যাবে সাংবাদিকের কাজে বাধা দেয়া যাবেনা।
সাংবাদিকদের আর্দশগত কারনে এবং কর্পোরেট কালচারে এই বিভক্তিকে খুব বড় করে দেখা যাবেনা। সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। পৃথিবীতে এত ঝুঁকি আর কোন পেশায় আছে বলে আমার জানা নাই। করোনাকালিন সময়ে ২০২০ সালের র্মাচ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৯৪টি দেশে মাসে গড়ে ১১৬ জন সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে।
সাংবাদিকরা দেশ ও জাতীর বিবেক, ঝুকি র্পূণ জেনেও সাংবাদিকরা দেশও জাতীর কল্যানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছে। একটু ভুল করলে সাংবাদিকদের উপর হামলা করে মামলা করে এমন কি হত্যার স্বীকার হতে হয় সাংবাদিকরা। জনগণের কল্যানে দেশের প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যে সাংবাদিকগণ কখনো কি কেউ খবর নিয়েছে সাংবাদিকরা কেমন আছে। সংবাদ দ্রুত এবং সঠিক সংবাদ প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয়। তা না হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংবাদ মূল্য থাকেনা। তবে দ্রুত প্রকাশ করতে গিয়ে জেন ভুল না হয় সে দিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারন একটি ভুল সংবাদের কারনে দেশ, জাতি,প্রতিষ্ঠান সমাজ, ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। সকল সংবাদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকতা জরুরী নয়, একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরী করতে দিনের পর দিন মাস লেগে যেতেও পারে।প্রকৃত সত্যটাই পাঠক জানতে চায় আর একজন ভাল সাংবাদিকের উচিত পাঠককে প্রকৃত সত্যটা জানানো।
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, সেই সাথে সাংবাদিকতা একটি মজার পেশা, আমি পেশা না বলে মনে করি নেশা বলাই শ্রেয়। কারন মানুষ তাঁদের মাধ্যমেই জানতে পারে ঘুম থেকে উঠে রাত অবধি দেশ কাল সমাজে কি ঘটছে। দ্রব্য মূল্য কতটা বাড়ল, আবহাওয়া কেমন থাকবে, দেশের অর্থনীতির হালচাল, রাজনীতির খবরা খবর খেলাধুলার খবর এ সবই পৌছে দেন একজন সাংবাদিক। জীবনের ঝুকি নিয়ে আমরা যারা কাজ করি সাংবাদিক হিসাবে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বা টেলিভিশনে, আমাদের সুরক্ষায় যে আইণ প্রনয়ন করা হয়েছে তার একটি নমুনা তুলে ধরলাম মাত্র। সে আইনের প্রতি আমাদের দেশ বা সমাজ কতটা যত্নশীল তা আমরা প্রত্যেকেই জানি।
আমাদের দেশে পত্র পত্রিকা প্রকাশ অব্যাহত রাখা এতো সাহস ছিলনা। বিভিন্ন নির্যাতন মূলক আইন, ফৌজদারী আইন, প্রিন্ট ও পাবলিক্যাশন অ্যাক্ট ১৯৪৭, প্রভৃতির মাধ্যমে সম্পাদক, মালিক, সাংবাদিকদেরকে কারাবরন,অর্থ দন্ড, জরিমানা, বাজেয়াপ্ত র্নিযাতন ভোগতে হয়েছে। ১৯৮০ সালে হিকির গেজেট প্রকাশিত হওযার পর অদ্যাবধি সাংবাদিক সমাজকে র্নিযাতনের মুখো-মুখি হতে হয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের সংবিধান আমাদেরকে দিয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার ৩৯ অনুচ্ছেদের
(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হয়েছে।
২ (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বধীনতার আধিকার এবং
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
আমাদের দেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের ব্যক্তির চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা। জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের র্সাবজনীন ঘোষনায় বলা হয়েছে “প্রত্যেকের মতামত ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে;” এই অধিকারে হস্তক্ষেপ ছাড়াই মতমত রাখা এবং কোন গণমাধ্যমের তথ্য ও ধারনা গুলি অনুসন্ধান করা গ্রহন এবং স্বাধীনতার সীমানা হিসাবে অর্ন্তভুক্ত।
দেশের গণমাধ্যমে পরির্বতন আসছে, এখন আর প্রিন্ট মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকছেনা। আমাদেরকে এই চেলেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের সাংবাদিকতার ইতিহাস ২৪২ বছরের পুরনো, রেডিও ১৯৩০ খেকে ১৯৪০ এর দশকে তা র্শীষে পৌছে ছিলো। রেডিও এসেছিল ১৯২০ সালে, টেলিভিশন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের র্পূবে আসলেও ১৯৫০ ও ১৯৬০ এর দশকে বিস্তৃতি লাভ করেছে। ২০০০ সালের পর থেকে ইন্টারনেট নিজ খরচায় সংবাদ এবং বিজ্ঞাপন ব্যাপক প্রচারের ফলে সংবাদপত্রগুলো কিছুটা চেলেঞ্জের মুখে পরে ছিলো। বিশেষ করে ছোট ছোট পত্রিকার প্রচার কমতে থাকে। বড় পত্রিকাগুলো তাদের স্টেটিজি চেঞ্চ করে এখন বাংলাদেশের প্রায় পত্রিকাই অনলাইন সংস্করন চালু করেছে। আমার বিশ্বাস পত্রিকার পাঠক দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্য প্রবাহের এই অবাধ স্বাধীনতাকে আমাদে কাজে লাগাতে হবে,প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করত হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই সর্বাধুনিক যুগে আমাদেরকে পিছিয়ে থাকলে চলবেনা।
আজ মরহুম আবুল কাশেম পাটোয়ারীর প্রথম মৃত্যুদিবস। আজকের এই দিনে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর সাথে ২৭ তারিখ তিনি রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর এই প্রয়ান দিবসে আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি মহান আল্লাহ পাকের দরবারে। তিনি যেন, আমার মরহুম চাচার সকল ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে তাঁকে বেহেশতের সম্মান দান করেন। আমিন
লেখক
আজম পাটোয়ারী
লেখক ও প্রকাশক।