ঈদের ছুটিতে বাবার সাথে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী শাহ সোলাইমান ওরফে লেংটার মেলায় এসে মেঘনা নদীতে ডুবে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার সুবর্ণা (১২) নামে এক কিশোরীর মৃ.ত্যু হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেলে ষাটনল ইউনিয়নের লালপুর সিমানার মেঘনা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করছেন বেলতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুজাম্মেল হক পিপিএম।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শারমিন আক্তার সুবর্ণা তার বাবা মো. সুমন ও মা সুমি আক্তারের সাথে ঢাকার শেরে বাংলা নগর এলাকা থেকে মঙ্গলবার সকাল ১১ টার সময় বেলতলী শাহ সোলাইমান ওরফে লেংটার মেলার মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে আসেন। সেখানে এসে মো. সুমন তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তার মামতো ভাই মো. সোলাইমান এর শশুর বাড়ি ষাটনল ইউনিয়নের পশ্চিম লালপুর গ্রামের মনির শিকদারের বাড়ি বিশ্রামের জন্য অবস্থান নেয়। দুপুর ২টার দিকে শারমিন আক্তার সুবর্ণ সহ অন্যান্য বাচ্চারা মেঘনা নদীতে গোসল করার জন্য যায়। সেখানে গোসল করতে নেমে শারমিন আক্তার সুবর্ণা পানিতে ডুবে গেলে, সাথে থাকা বাচ্চারা খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে তার পিতা মাতাকে গিয়ে জানান। সুবর্ণার পিতা মেঘনা নদীর তীরে এসে ফায়ার সার্ভিস ও বেলতলী নৌ পুলিশ কে খবর দেয় দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বিকেল ৫ ঘটিকার সময় সুবর্ণার লাশ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করে।
নিহত শারমিন আক্তার সুবর্ণার মামা মো. শামীম জানান, আমি খবর শুনে ঢাকা থেকে এসে দেখি আমার ভাগনী সুবর্ণা নদীতে ডুবে গেছে। ফায়ারসার্ভিস ও ডুবুরিদের খবর দিলে তারা ৪ঘন্টা দেরীতে আসে। এসে তারা নদী থেকে আমার ভাগনীকে মৃত উদ্ধার করে।
নিহত শারমিন আক্তার সুবর্ণার বাবা মো. সুমন কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আমার মেয়েটা খুব মেধাবী ছিল। স্কুলে সবসময় ভালো ফলাফল করত। আমি ড্রাইভিং করে আমার এক ছেলে ও এক মেয়েকে মানুষ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু আজ আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেল। চেখের সামনে মেয়েটা মা.রা গেল, আমি কিছুই করতে পারলাম না।
মতলব উত্তর ফায়ারসার্ভিস ও এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর ওয়ার হাউস ইন্সপেক্টর নুরুল করিম জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ারসার্ভিস ও ডুবুরি দল গিয়ে মেঘনা নদী থেকে শারমিন আক্তার সুবর্ণার ম.রদেহ উদ্ধার করে।
বেলতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মুজাম্মেল হক পিপিএম জানান, মেঘনা নদীতে অন্যান্যদের সাথে গোছল করতে গিয়ে শারমিন আক্তার সুবর্ণার নামে ১২ বছরে এক কিশোরী নদীতে ডুবে যায়। ফায়ারসার্ভিস ও ডুবুরি দল তাকে নদী থেকে মৃ.ত উদ্ধার করে আমাদের কাছে স্থানান্তর করে।
তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া ম.রদেহ নেওয়ার জন্য নি.হতের বাবা মো. সুমন আবেদন করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ম.রদেহ হস্তান্তর করা হয়।