ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় খাদ্যপণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন, বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে গাজা সিটির বাসিন্দা হুদা আবু লাইলার পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। পাঁচ মেয়েকে নিয়ে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাসকারী এই মা জানান, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে তাঁদের পরিবারকে অনেক সময় শুধু চা ও রুটি খেয়ে থাকতে হচ্ছে। তাঁর স্বামী যুদ্ধের সময় আহত হওয়ায় কাজ করতে পারেন না; তিনি অন্যদের জন্য রুটি তৈরি করে সামান্য আয় করেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ অক্টোবর ইসরায়েল গাজায় বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়। পরে ১৯ অক্টোবর বাণিজ্যিক চালান ধীরে ধীরে পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং বাজারে তার প্রভাব পড়তে সময় লাগতে পারে।
খাদ্যসংকটের সঙ্গে মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, অর্থায়নের ঘাটতির কারণে গাজায় তাদের খাদ্যসহায়তার পরিধি কমাতে হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে ১৬ লাখ মানুষের জন্য সহায়তা দেওয়া হলেও অক্টোবরে তা কমিয়ে ১১ লাখ মানুষের মধ্যে সীমিত করা হয়েছে। খাদ্যসামগ্রীর পরিমাণও কমানো হয়েছে; পাশাপাশি দৈনিক গরম খাবার বিতরণের সংখ্যা আড়াই লাখ থেকে কমিয়ে দেড় লাখ করা হয়েছে।
ডব্লিউএফপির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ—মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ—সংকটজনক বা তার চেয়েও খারাপ মাত্রার খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে।
শিশুদের অপুষ্টির পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে অপুষ্টির চিকিৎসার জন্য ২ হাজার ৮০০-এর বেশি শিশুকে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৩৬০ জনের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত ছিল। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী প্রায় তিন হাজার শিশুকে প্রতি মাসে অপুষ্টির চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সুস্থ বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত ক্যালরি ছাড়াও প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, শেখার ক্ষমতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
গাজার খাদ্যসংকট মোকাবিলায় বাণিজ্যিক সরবরাহ নিয়মিত করা, মানবিক সহায়তার অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশের সুযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য পুষ্টিসহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।