বাংলাদেশে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো গেলে অর্থনীতির লেনদেন-সংক্রান্ত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, নগদভিত্তিক লেনদেনের বার্ষিক ব্যয় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ২৮ গুণ। ২০ অক্টোবর প্রকাশিত এ তথ্য নিয়ে দ্য ডেইলি ইত্তেফাক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
গবেষণাটির নাম The Cost of Cash Study in Bangladesh: A Comparative Analysis of Cash and Digital Payment। এতে ২০২৩ সালের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে নগদ লেনদেনের বার্ষিক ব্যয় আনুমানিক ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যা ওই বছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ২৪ শতাংশের সমান। অন্যদিকে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০ দশমিক ১১ শতাংশ।
গবেষণার হিসাবে, মাথাপিছু নগদ লেনদেনের বার্ষিক ব্যয় ৯ হাজার ৯৩৮ টাকা। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় এই ব্যয় ৩৪৮ টাকা। নগদ অর্থের ক্ষেত্রে নোট ছাপানো, পরিবহন, নিরাপত্তা, বিতরণ এবং পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত নোট প্রতিস্থাপনের মতো ব্যয় রয়েছে। ব্যাংক শাখা ও এটিএম পরিচালনা এবং মানুষের নগদ টাকা তোলা, বহন ও ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করা সময়ও হিসাবের অংশ। তবে নগদ লেনদেনের ব্যয় বেশি হলেই ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তর সম্পূর্ণ বাধাহীন হবে, এমন নয়। গবেষণায় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার কয়েকটি সমস্যাও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেনের ফি, অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, বিভিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে সীমিত সমন্বয়, দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রতারণা বা ভুল হিসাবে টাকা পাঠানোর ঝুঁকি।
গবেষণা অনুযায়ী, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বার্ষিক আয় আনুমানিক ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, যেখানে ব্যয় প্রায় ৫ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যবস্থাটিতে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। এই ব্যবধান দূর করতে সেবাদাতাদের আয়, ব্যবসায়ীদের খরচ এবং গ্রাহকদের সুবিধার মধ্যে ভারসাম্য আনা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য শতাংশ করা হয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীদের জন্য এই পদ্ধতি আরও আকর্ষণীয় হয়।
ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নথি সংরক্ষণ ও আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জনের জন্য নির্ভরযোগ্য সেবা, সহজ অভিযোগ নিষ্পত্তি, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং সাশ্রয়ী লেনদেনব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।