যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার কথা বললেও নিজেদের শর্ত পূরণ না হলে আলোচনায় অগ্রগতি হবে না বলে জানিয়েছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এক বক্তব্যে কূটনীতির প্রতি অঙ্গীকারের পাশাপাশি আত্মরক্ষার প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন। একই দিন মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ প্রধান শেয়ারবাজারে দরপতনের খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সৌদি আরবের প্রধান শেয়ারসূচক ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। দেশটির আলিনমা ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিকের মুনাফা কমার খবরের পর ব্যাংকটির শেয়ারের দাম ৫ শতাংশ নেমে যায়। তবে তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর শেয়ারদর ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, দুবাইয়ের প্রধান শেয়ারসূচক ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আবুধাবির সূচক কমেছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ। কাতারের শেয়ারবাজারের সূচক পাঁচ কার্যদিবসের পতনের পর ০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রভাব শুধু শেয়ারবাজারে সীমাবদ্ধ নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহন নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির বাইরেও উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা অপরিশোধিত তেল পরিবহনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখছে। তবে পূর্ববর্তী সমঝোতা কার্যকর না হওয়ায় নতুন আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কাছাকাছি না এলে সংঘাতের অবসান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা আরও কঠিন হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্যও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক বাজারের ওঠানামা থেকেই বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয়ের নির্দিষ্ট পরিবর্তন নির্ধারণ করা যায় না; তার জন্য আন্তর্জাতিক তেলের মূল্য, আমদানি চুক্তি এবং সরকারি মূল্যনীতির তথ্যও প্রয়োজন।
সংবাদসূত্র: [রয়টার্স]