May 10, 2026, 1:03 pm
শিরোনামঃ
জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : জনগণের দৃষ্টিতে আদর্শ, সততা ও দেশমাতৃকার প্রতি নিঃস্বার্থ দায়বদ্ধতার যেন প্রতিচ্ছবি মতলবে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল জ্বালানি তেল জব্দ, ৪ ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড মরহুম বেল্লাল হোসেন স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত কেমন জনপ্রতিনিধি চায় মতলব উত্তরের ১৪নং সুলতানাবাদ ইউনিয়নবাসী? আলেমদের নৈতিকতার অবক্ষয় নাকি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় ধ্বংসের পরিকল্পনা? জাটকা রক্ষায় মোহনপুর নৌ পুলিশের কঠোর অভিযান ; ৬০ মামলা, ১৬৬ জেলে গ্রেপ্তার; জব্দ কোটি মিটার কারেন্ট জাল করোনাকালীন সংকটে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের নেতৃত্ব : মানবিকতা, সামরিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের এক অনন্য অধ্যায়! আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মায়ের আহাজারি ; মতলবে রিপন হত্যার এক মাস পরও অধরা আসামি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ক্যারিয়ার টক প্রোগ্রাম কোন ব্যক্তির চারিত্রিক অপরাধের দায় ইসলাম নেবে কেন?

ধনাগোদা নদীতে অবৈধ ভাসমান রেস্টুরেন্ট ; প্রশাসনের নীরবতা, প্রভাবশালীদের দাপট

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি :
Oplus_131072

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিষেধাজ্ঞা, যৌথ বাহিনীর সতর্কতা এবং প্রশাসনের একাধিক চিঠি সবকিছু তুচ্ছ করে এখনো বীরদর্পে চালু রয়েছে ধনাগোদা নদীতে অবৈধভাবে নির্মিত ভাসমান রেস্টুরেন্ট ‘ধনাগোদা রিভারভিউ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’।

ধনাগোদা নদীর বুক চিরে প্রায় ২০০ ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই অবৈধ স্থাপনা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন খান গত জুনে মালিকদের তিন দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের নোটিশ দেন। আইন অনুযায়ী এটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি দখল ও নদী ধ্বংসের স্পষ্ট অপরাধ। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেছে মাসের পর মাস, তবুও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।

ধনাগোদা নদীতে অবৈধ রেস্টুরেন্ট শুধু একটি অবৈধ স্থাপনা নয়, এটি আইনের প্রতি প্রকাশ্য বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সতর্কতা, বিদ্যুৎ বিভাগের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোটিশ সবকিছুকেই অবজ্ঞা করে চলছে দখলবাজদের রমরমা ব্যবসা। এখন প্রশ্ন একটাই রাষ্ট্রীয় আইন কোথায়? প্রশাসনের শক্তি কার পক্ষে? জনগণ না দখলদার?

এটি শুধু নদী দখলের ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় আইনকে প্রকাশ্যে উপহাস, প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং প্রভাবশালীদের অদৃশ্য শক্তির নগ্ন প্রদর্শনী।

গত ১ আগস্ট সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টিম সরেজমিন গিয়ে মালিকদের সতর্ক করে। স্বাভাবিক নিয়মে এর পরপরই উচ্ছেদ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উল্টো বেড়িবাঁধ দখল করে নতুন টয়লেট নির্মাণ শুরু হয়েছে।

আবাসিক মিটার থেকে ৪০০ মিটার দূরে টেনে আনা হয়েছে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ। শত শত লাইট ও ফ্যান চালিয়ে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে বিদ্যুৎ বিভাগের ঐ সময়ের এজিএম শহিদুল ইসলামকে মালিকপক্ষ প্রকাশ্যে হেনস্তা করেছে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, মাসের পর মাস আলোচনা চলছে, পদক্ষেপ কোথায়? অনেকেই বলছেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এতদিন টিকে আছে এই রেস্টুরেন্ট।

স্থানীয় কৃষক রফিক মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নদীটা আমাদের বাঁচার উৎস ছিল, এখন প্রভাবশালীরা নদীটাকেও গিলে খাচ্ছে।

অভিযুক্ত মালিক সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, নিউজ করলে আমার কিছু হবে না, উল্টো রেস্টুরেন্টের প্রচারণা হবে। এই বক্তব্যই প্রমাণ করে, তিনি প্রশাসন ও আইনের তোয়াক্কা করেন না। এর পেছনে কে বা কারা তাকে ছায়া দিচ্ছে, সেটাই এখন জনমতের বড় প্রশ্ন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সাহেদ বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি।

ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি বলেছেন, এটা আমাদের কাজ নয়, এটি দেখবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা