June 25, 2026, 12:34 am
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার সময়ের আলোকে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : এক পুনর্মূল্যায়নের আলোচনা নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইমামপুর ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে ফাইনালে কেশাইরকান্দি ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাব মতলব-গজারিয়া সেতুর অর্থায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, জমি অধিগ্রহণে ১২ কোটি টাকা অনুমোদন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে চাঁদপুর-২ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন এমপি ড. জালাল উদ্দিন সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে মতলব উত্তরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল সুন্দরবনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চক্রে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি কোটচাঁদপুরে মানবপাচার রোধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সমন্বয় সভা মতলব উত্তরে পরকীয়ার সন্দেহে শুরু বিরোধ, শ্বশুর-স্ত্রীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ স্বামীর

বুড়িচংয়ে মোবাইল স্ক্রিনে আসক্ত উঠতি বয়সীরা ; নিঃস্ব হচ্ছে পরিবারগুলো!

মোঃ আবদুল্লাহ, বুড়িচং।।

বাস্তব পৃথিবী থেকে ভার্চুয়াল পৃথিবী শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ভার্চুয়ালে চলে যাচ্ছে জীবনের মূল্যবান সময়গুলো। মানুষ একা হয়ে পড়ছে।

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ঘরের বিছানা থেকে টয়লেট। অলিগলি, অফিস, হাসপাতাল, খেলার মাঠ, রাস্তার পাশে, চা দোকানে  অ্যান্ড্রয়েড ফোন হাতে ভার্চুয়ালে আসক্ত হয়ে পড়ছে মানুষ। ভার্চুয়াল আসক্তি মানুষ, প্রকৃতি ও সামাজিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করছে।

শিশু থেকে উঠতি বয়সীরা ইন্টারনেটে অনলাইন জুয়া, গেমস, টিকটক এসবে ভয়াবহ আসক্ত হয়ে উঠছে। দিনের পর দিন তাদের জীবনের মূল্যবান সময়গুলো ফোনের স্ক্রিনেই কেটে যাচ্ছে। এদিকে ইন্টারনেট খরচ ও জুয়ার টাকা যোগার করতে নিরবে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার।

বাবা মায়ের সাথে থাকে তিন বছরের শিশু লামিয়া। প্রতিদিন তাকে ভাত খাওয়ানোর সময় নিয়ম করে কার্টুনের ভিডিও দেখাতে হবে নয়তো সে খাবেই না। দিনের অন্য সময়েও স্মার্টফোন বা ডেক্সটপে বসে ভার্চুয়ালেই সময় কাটে তার। শিশুর মা  সোনিয়া  লক্ষ্য করেন দিন দিন তার শিশুটির মধ্য ভার্চুয়াল আসক্তি বাড়ছে।

অনেক দিন পর ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছেন তার আদরের ছোট বোন। তাকে দেখে তার ভাই কুশলাদি সমাপ্ত না করেই ফের ভার্চুয়ালে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ভাইয়ের এমন আচরণ দেখে বোন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

একটি চায়ের দোকানে কয়েকজন বয়সে তরুণ বন্ধুদের একসাথে আড্ডা দিতে দেখা যায়। তারা এক সঙ্গে বসে আছে ঠিকই কিন্তু সবাই যেন গ্যালাক্সির ভেতরে থাকা এক একটি গ্রহের মত একা ও পরষ্পর বিচ্ছিন্ন। তারা সবাই অ্যান্ড্রয়েড ফোন হাতে এক একটি ভিন্ন দুনিয়ার বাসিন্দা।

ভার্চুয়াল সমাজে মানুষ বেশি সময় থকায় বাস্তব সমাজে টানাপড়েন ও সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ছে। মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ভার্চুয়াল সমাজে দায় সাড়া পালন করছে অনেকে।

আমির হোসেন বলেন, মানুষ ফোন হাতে ভার্চুয়ালে সময় কাটাচ্ছে। কাছাকাছি থেকেও দিন দিন যেন আমরা পরষ্পর দূরে চলে যাচ্ছি, এটা খুব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং ভার্চুয়াল সোশাল আইন কাঠামো দরকার।

বুড়িচংয়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শিশু থেকে উঠতি বয়সীরা ইন্টারনেটে গেমস টিকটক এসবে ভয়াবহ আসক্ত হয়ে উঠেছে। দিনের পর দিন তাদের জীবনের মূল্যবান সময়গুলো ফোনের স্ক্রীনেই কেটে যাচ্ছে। টাকা খরচ করে ইন্টারনেটে গেমস খেলছে তারা। তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা। অনেক তরুণরা ভার্চুয়াল জুয়াতে আসক্ত হয়ে নিরবেই সর্বশান্ত হচ্ছে।

একান্ত ফোনের মাধ্যমেই জুয়া খেলা ও লেনদেন হওয়াতে সমাজে নিরব ঘাতক হয়ে উঠেছে ভার্চুয়াল জুয়া। অনেকে গোপনে লোন নিয়ে ভার্চুয়াল জুয়া খেলে নিজের ও পরিবারকে সর্বশান্ত করছে। লাখ লাখ টাকা জুয়া খেলে হেরে পরিবার নিয়ে পথে বসেছে। ভয়ংকর অনলাইন জুয়ার নেশার সমাজে সব বয়সী মানুষ ডুবে যাচ্ছে।

এবদারপুরের  গ্রামের   মনির বলেন, ভাচুর্য়াল জুয়া আসক্তি দিন দিন সমাজে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমার কাছে অনেকে আসেন অভিযোগ করে বলেন জুয়া খেলে সব টাকা হারিয়েছে তাদের সন্তানরা। এটা সমাজে ভয়াবহ এক ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে। আসক্তি ঠেকাতে সমাজের মানুষদের সামাজিক ভাবে সচেতন করতে হবে।

কুসুম পুরের কৃষক মো আজাদ বলেন, গত কয়েক বছর ধরে এলাকার অনেক যুবক ইন্টারনেটে জুয়াতে আসক্ত হয়ে সর্বশান্ত হয়েছে। কৃষি ক্ষেতে বা মিলে কাজ করা শ্রমিকরা দিনশেষে যা মজুরি পায় ফোনে জুয়া খেলেই তা শেষ করে দেয়। এই ঘাতক জুয়া মানুষ ও অনেক পরিবারকে নিরবে সর্বশান্ত করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, অনলাইনে ক্যাসিনো সাইটের সন্ধান পেয়ে তিনি ভাচুর্য়ালে জুয়া খেলতে শুরু করেন। খেলে সর্বশান্ত হয়ে তিনি এখন অনুতপ্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা