October 25, 2026, 1:50 am
শিরোনামঃ
ভানুয়াতুর কাছে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, নজর ভূকম্পন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে গেল টাইফুন চাম্পি, নিহত ১, আহত পাঁচ শতাধিক ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সতর্কবার্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় তলব বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলারের জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক মেট্রোরেল ব্যয় ও জাপানি ঋণের সুদ কমানোর আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরে একাধিক সমঝোতার প্রত্যাশা সীমান্তে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষ ঠেকাতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার টাইফুন চাম্পির আশঙ্কায় প্রায় পুরো তাইওয়ানে স্থবিরতা, শত শত ফ্লাইট বাতিল সাজেকে অবরোধ ঘিরে গুলিবিনিময়, আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

বুড়িচংয়ে গোমতী নদীর বাঁধ ৫০ ফুট ধসে পড়েছে ; ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা!

মোঃ আবদুল্লাহ, নিজস্ব প্রতিনিধি,বুড়িচং :

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১.৪৫ মিনিটে দিকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মিথিলাপুর বুড়বুড়িয়া এলাকায় সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়ার বাড়ির পাশে গোমতী নদীর হালদা খালের বেরিবাঁধ ভেঙে গেছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা।

টানা কয়েকদিনের উজানের পানি ও বৃষ্টির কারণে গোমতীর বুড়িচং অংশের একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টের কারণে লক্ষাধিক মানুষের দিন-রাত আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন, তবে আজ উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া এলাকায় নদীর পূর্বপাড়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ ধ্বসে লোকালয়ে পানি ডুকে পড়েছে। এতে করে পূর্বপাড়ের মানুষের মাঝে যেন কিছুটা স্বস্থি ফিরে আসলেও মুহুর্তে বিস্বাধে ছেয়ে গেছে পূর্বপাড়ের বুড়বুড়িয়া সহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মধ্যে। বাঁধটির উক্ত অংশটি প্রবল স্রোতে  ভেসে যায়। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্থদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে। মাইক যোগে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করে।

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় কুমিল্লার গোমতী নদী রক্ষা বেরিবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল দেখা দেয় তবে আজ রাত আনুমানিক ১১.৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার মিথিলাপুর বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতী নদীর হালদা খালের বেরিবাঁধের অংশে বড় ফাঁটল দেখা দেয় এবং পরবর্তিতে সেই স্থানটি প্রায় ৫০ ফুট এর মতো জায়গা ভেঙে যায় এবং আশেপাশের গ্রামে পানি ডুকে পরে। এই পর্যন্ত আশেপাশের বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ও পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপজেলায় বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ স্থানীয়রা মেরামত চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে এবং সেই স্থানটি দিয়ে পানি ডুকছে লোকালয়ে।

এই বিষয়ে ষোলনল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী বিল্লাল হোসেন জানান, টানা বর্ষণসহ গোমতীর ভারতীয় অংশের বাঁধ খুলে দেওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে বুড়িচংয়ের বিভিন্নস্থানের ন্যায় ষোলনল ইউনিয়নের একাধিকস্থানে ইউপি সদস্যসহ স্থানীয়দেও নিয়ে প্রশাসনের সহযোগীতায় জনগণের জানমাল রক্ষার্থে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১.৪৫ মিনিটে হঠাৎ বাঁধের বুড়বুড়িয়া এলাকায় বাঁধের প্রায় ৫০ ফুট অংশ ধ্বসে যায়। এসময় তীব্র স্রোতে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে মুহুর্তে বুড়বুড়িয়া ছাড়াও আশপাশের আরো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, বেড়াজাল, শিবরামপুর, ইন্দ্রভুতি, গাজীপুর, মহিষমারা,শিকারপুর, নানুয়ারবাজার, মিথিলাপুর,ভরাসার সহ কমপক্ষে ১০/১৫টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়।

উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ষোলনল, পীরযাত্রাপুর, বুড়িচং সদর, বাকশিমুল এবং রাজাপুর ইউনিয়নের অন্তত ৫০ টি গ্রাম তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী বিল্লাল হোসেন তার ইউনিয়নের সকল ইউপি সদস্যসহ স্থানীয়দের নিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

এই সময় স্থানীয়দের সাথে সেনাবাহীনি,ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লোকজন অংশ নেয়। তারা ক্ষতিগ্রস্থদেও উদ্ধার করে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন,নদী ভাঙ্গনে প্রাথমিকভাবেই উল্লেখিত গ্রামগুলোর কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পানিতে বাড়িঘর,গবাদিপশু,গাছপালা,ফসলী জমির ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষনিকভাবে এই ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা সম্ভব হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বাঁধটি ধ্বসে বুড়বুড়িয়া সহ আশপাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হচ্ছে।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিদা আক্তার রাত সাড়ে ১২ টায় জানান, বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া অংশে পানি বাঁধের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবল প্রবাহের সাথে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। এসময় সকলকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা বন্যা ও অতিবৃষ্টির পানির কারণে দেশের অন্যান্য জেলার মতো কুমিল্লা জেলার প্রধান এই নদীতে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিলো গত কয়েকদিন যাবত। এতে করে বাঁধটি বেশ ঝুকিপূর্ণ ছিলো ও সবশেষ আজ তা ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। তবে এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পূর্বে থেকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছিলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা