October 24, 2026, 3:56 am
শিরোনামঃ
মেট্রোরেল ব্যয় ও জাপানি ঋণের সুদ কমানোর আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরে একাধিক সমঝোতার প্রত্যাশা সীমান্তে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষ ঠেকাতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার টাইফুন চাম্পির আশঙ্কায় প্রায় পুরো তাইওয়ানে স্থবিরতা, শত শত ফ্লাইট বাতিল সাজেকে অবরোধ ঘিরে গুলিবিনিময়, আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় কুমিল্লায় স্কুলছাত্রকে হত্যার অভিযোগ, চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গাজীপুরে বাড়িতে আগুনে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ, দুই শিশুসহ হাসপাতালে ভর্তি প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রস্তুতিতে কূটনৈতিক দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, টোকিওতে পাঠানো হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, ২৭ অক্টোবর তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক জাপানের সঙ্গে পাঁচ বছরে ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রীর সফরে আসতে পারে ঘোষণা প্রস্তুতি ম্যাচে কালামের ১৩৫, জিসানের ৮৬—ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ বিসিবি একাদশের

মতলব উত্তরে আবাসিক হোটেলের অভাব ; সরকারি-বেসরকারি কর্ম, শিক্ষার্থী, রোগী ও পর্যটকদের জন্য নেই রাতযাপনের নিরাপদ ব্যবস্থা

মমিনুল ইসলাম:
Oplus_131072

চাঁদপুর জেলার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা মতলব উত্তর। মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই উপজেলাটি প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত ও স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, এখানকার এক বড় সমস্যা হলো-আবাসিক হোটেলের অভাব। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ এলেও, রাত কাটানোর কোনো নিরাপদ ও মানসম্মত জায়গা নেই তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা।

ছেংগারচর বাজারকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে উপজেলার প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এখানে রয়েছে থানা, পরিবার পরিকল্পনা অফিস, সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি কলেজ, মডেল মসজিদ, সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক’সহ অনেক ব্যাংকের ব্রাঞ্চ, বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠান যেমন ব্র্যাক, আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, সাজেদা ফাউন্ডেশন, আশা ইত্যাদি। প্রতিদিন শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেবা প্রত্যাশী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও অভিভাবক আসেন এসব প্রতিষ্ঠানে। এছাড়াও মতলব উত্তরে ৬৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, গজরা-লুধুয়া ও পাঁচআনী জমিদার বাড়ি, মোহনপুর ও ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র, হযরত শাহ সোলাইমান লেংটা বাবার মাজার, নেদায়ে ইসলাম কমপ্লেক্স, এখলাসপুর বকুলতলা, হলদিয়া এক গম্বুজ মসজিদ, আনোয়ারপুরে দৃষ্টিনন্দন মসজিদের মতো রয়েছে বহু উল্লেখ্যযোগ্য স্থান ও স্থাপনা। এগুলোর দর্শন পেতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটি আসছে পর্যটকরা।

ছেংগারচর বাজার থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরত্বে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। একাধিক ইউনিয়ন পরিষদও কেন্দ্রস্থলের কাছেই। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ স্থানের আশপাশে নেই কোনো আবাসিক হোটেল বা গেস্ট হাউজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মতলব উত্তরে তথা ছেংগারচর বাজারে একটি আধুনিক আবাসিক হোটেল গড়ে উঠলে সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। মেঘনার পাড়, নদীপথ, জেলে পল্লী, এবং নৌ-ভ্রমণ পর্যটকদের আকর্ষণ করবে। হোটেল ঘিরে তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান, খাবার হোটেল, ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস।

মতলব উত্তরে একটি মাঝারি মানের আবাসিক হোটেল প্রতিদিন ৩০-৫০ জন অতিথিকে সেবা দিতে পারবে। পর্যটনের সম্ভাবনা থাকায় বছরে বিশেষ মৌসুমে তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

ছেংগারচর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান লস্কর বলেন, “মতলব উত্তর একটি সম্ভাবনাময় উপজেলা। কিন্তু এখানে ভালোভাবে রাতে থাকার মতো কোনো হোটেল না থাকায় ব্যবসায়ী, সরকারি লোকজন বা এনজিও প্রতিনিধি বারবার আসতে চান না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে একটি হোটেলের দাবি জানিয়ে আসছি। আমারা বাজারের ব্যাবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে চেষ্টা করছি এ বাজারে একটি আবাসিক হোটেল নির্মাণের জন্য।

ছেংগারচর সরকারি কলেজের প্রভাষক মানিক মিয়া বলেন, “নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা বা প্রশিক্ষণে ঢাকা ও অন্যান্য জেলা থেকে শিক্ষক ও অতিথিরা আসেন। থাকার জায়গা না থাকায় তাদের চাঁদপুর সদরে পাঠাতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হয়।”

স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী রোগীর অভিভাবক শফিকুল ইসলাম জানান, “আমার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করি বিকেলে। ডাক্তার বললেন, রাতে থাকতে হবে। কিন্তু আমি কোথায় থাকব? আশপাশে কোনো হোটেল নেই। বাধ্য হয়ে হাসপাতালের করিডোরে রাত কাটাতে হয়েছে।”

ষাটনল পর্যটন ও মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে আসা রাকিব-ফারজানা দম্পতি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে কুমিল্লা থেকে মেঘনা পাড়ে বেড়াতে এসেছিলাম। কিন্তু থাকার সুযোগ নেই দেখে সন্ধ্যার আগেই চলে যেতে হলো। যদি এখানে থাকার ব্যবস্থা থাকত, তাহলে আরও কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে আসতাম।”

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “এখানে আবাসিক হোটেলের প্রয়োজনীয়তা আমরা অনুভব করছি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হোটেল বা গেস্ট হাউজ স্থাপনে এগিয়ে এলে আমরা যথাযথ অনুমোদন ও সহযোগিতা দেবো। এটি শুধু সাধারণ মানুষের জন্যই নয়, উন্নয়নের পথও খুলে দেবে।”

মতলব উত্তর শুধু একটি উপজেলা নয়, এটি একটি সম্ভাবনাময় জনপদ। এই এলাকার উন্নয়নযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে হলে জরুরি একটি বা একাধিক আবাসিক হোটেল। প্রশাসন, বিনিয়োগকারী এবং স্থানীয় জনগণ একসঙ্গে কাজ করলে এই সমস্যা সমাধান হতে বেশি সময় লাগবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা