June 25, 2026, 3:00 am
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার সময়ের আলোকে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : এক পুনর্মূল্যায়নের আলোচনা নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইমামপুর ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে ফাইনালে কেশাইরকান্দি ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাব মতলব-গজারিয়া সেতুর অর্থায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, জমি অধিগ্রহণে ১২ কোটি টাকা অনুমোদন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে চাঁদপুর-২ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন এমপি ড. জালাল উদ্দিন সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে মতলব উত্তরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল সুন্দরবনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চক্রে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি কোটচাঁদপুরে মানবপাচার রোধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সমন্বয় সভা মতলব উত্তরে পরকীয়ার সন্দেহে শুরু বিরোধ, শ্বশুর-স্ত্রীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ স্বামীর

মতলব উত্তরে নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রোষানলের শিকার শিক্ষক ; পদত্যাগেপত্র ও ভুয়া স্বাক্ষর দেখিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা!

বিশেষ প্রতিনিধি, মতলব উত্তর :

চাঁদপুর, মতলব উত্তর উপজেলার সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাউরী আহম্মেদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমানের পদত্যাগের খবরটি শুনে মতলবের সাধারণ নাগরিকরা অত্যন্ত মর্মাহত ও ব্যথিত হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, উক্ত ঘটনার মূলহোতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সাকিব দেওয়ান। সে উপজেলা যুবলীগ নেতা জহির দেওয়ানের ভাতিজা।

বিভিন্ন সময় তার সাথে বিতর্কের কারণে এই রোষানলে পড়েন শিক্ষক মিজানুর রহমানের। পরবর্তিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোমলমনি শিশুদের উষ্কে দিয়ে মিজানুর রহমানকে জোড়পূর্রক তাদের নিজেদের লেখা ও ভুয়া স্বাক্ষর সহ সাজানো পদত্যাগেপত্র দেখিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও কিছু গনমাধ্যমে পদত্যাগের প্রচারণা চালায় তারা। শিক্ষক মিজানুর রহমানের পদত্যাগের দাবিতে এই সময় সাকিবের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ও মিজানুর রহমান সহ প্রধান শিক্ষককে মারার জন্য মহরা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে মিজানুর রহমান মতলব উত্তর উপজেলার আর্মি ক্যাম্প ও পুলিশকে ফোন করে ঘটনার বিস্তারিত জানালে, তারা এসে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। এই সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপস্থিত ছিলেন।

আরো জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান দেশে চলমান ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করায় এবং সরকার বিরোধী ছবি ও পোষ্ট করায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা ও উক্ত বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সাকিব দেওয়ানের সাথে পূর্বের বিতর্ক জেরে তার সাথে এই প্রতিহিংসার কারণে সে তার বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার অন্যান্যদের সহযোগিতায় মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সবাইকে উষ্কে দেয় এবং এই ঘটনা ঘটায়।

নাউরী আহম্মেদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মিজানুর রহমানি একজন সুদক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসাবে বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি ২০১৯ সালে মতলব উত্তরের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সাল থেকে উপজেলার মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।  যার কারণে একটি বিশেষ মহল হিংসাপরায়ণ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তার ও প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে উষ্কে দিয়ে নিজেদের লেখা পদত্যাগপত্রে ভুয়া স্বাক্ষর করে সেটা সামাজিক মাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে প্রচার করে দেয়, যা ওই শিক্ষকের প্রকৃত স্বাক্ষর নয়।

এই বিষয়ে অনুসন্ধানকালে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে। যা সম্পূর্ণরুপে সাজিয়েছে সাকিব নামে তথাকথিক ছাত্রলীগ নেতা।

অনুসন্ধানকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক আমাদের আরো তথ্য দিয়েছেন। যা থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, একজন মেধাবী শিক্ষক হিসাবে মিজানুর রহমানের সুনামের কারণে কতক শিক্ষক ও স্থানীয় রাজনীতিক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে এমন প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে তাকে একপ্রকার বাধ্য করে নিজেদের লেখা পদত্যাগপত্রে ভুয়া স্বাক্ষর দেখিয়ে পদত্যাগ দেখানো হয়।

যানা গেছে, মিজানুর রহমান, পিতাঃ সিরাজুল ইসলাম, গ্রাম+পোস্টঃ এনায়েত নগর, উপজেলাঃ মতলব উত্তর, জেলাঃ চাঁদপুর গত ০২/১১/২০১৬ খ্রিঃ থেকে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিগত সরকারের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর থেকে উক্ত বিদ্যালয়ের কতিপয় প্রাক্তন ছাত্র ও ছাত্রলীগ ইউনিয়ন নেতা সাকিব দেওয়ান (গ্রামঃ পশ্চিম নাউরী, পোস্টঃ নাউরী বাজার, উপজেলাঃ মতলব উত্তর, জেলাঃ চাঁদপুর ) প্রায়ই তাকে হুমকি দিতো। এমন কি তাকে দেখে নেবে, এই স্কুলে কিভাবে চাকরি করবে তাও দেখবে, এমনকি মিজানুর রহমানকে প্রাণে মারার হুমকিও দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মিজানুর রহমান বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়নি। তবে গত বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে তার হুমকির পরিমাণ বাড়তে থাকে। ইতোমধ্যে সেই ছাত্রনেতা ৯ম শ্রেণির এক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। মিজানুর রহমান বিষয়টি জানার পর, ওই মেয়েকে বুঝায় যে, সাকিব ছাত্রলীগ করে ও ভালো না, মেয়েটির যেকোন ক্ষতি করলেও কোনো প্রতিবাদ করার সুযোগ পাবে না। এর কয়েকদিন পর ওই মেয়ে এবং তার বান্ধবীদের দিয়ে মিজানুর রহমানের নামে মিথ্যা অপবাদ রটায় যে, মিজানুর রহমানকে ৭ম শ্রেণির এক মেয়ের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছে উক্ত বিদ্যালয়ের মিনহাজ স্যার। প্রধান শিক্ষকের কানে বিষয়টি পৌঁছালে তিনি মিনহাজ স্যারকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করেন। এই বিষয়ে মিনহাজ স্যার বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। (এখানে উল্লেখ্য যে, মিনহাজ স্যার এবং মিজানুর রহমান পাশাপাশি রুমে প্রাইভেট পড়ায়।) তখন এই কথা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর, সে নতুন করে আয়েশা আক্তার নামের সেই মেয়েটির ২০২৩ এর শুরুতে বিয়ে হয়ে যায় এবং বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও সে সাকিব সহ বিভিন্ন ছেলেদের সাথে সম্পর্ক করতো। এই বিষয়টি বিষয়টি মিজানুর রহমান জানার পর ওকে বুঝায়, যে এসব কাজ ভাল না।  অন্য ছেলের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চ্যাট করে সেটা মিজানুর রহমানের নামে বাজে বাজে কমেন্ট করে এবং একটি ভিডিও তৈরি করে। এগুলো প্রধান শিক্ষক মহোদয়কে দেখালে, ওনি বলেন এগুলো কোনো প্রমাণ হলো? এগুলো যে কেউ, যে কারো বিরুদ্ধে তৈরি করতে পারে। এরপর  নভেম্বরের শেষের দিকে এম.এড পরীক্ষা দিতে মিজানুর রহমান ও আল আমিন স্যার ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং সেন্টারে পরীক্ষা দিতে স্কুল থেকে বৃহস্পতিবার রওয়ানা হয়ে পুনরায় ঢাকা থেকে শনিবার রাতে ফিরে আসে। ইতিমধ্যে শুক্রবার বিকালে আরিফ নামে এক ছাত্র তাকে ফোন দিয়ে জানায়, “ আয়েশা মারা গেছে।”তখন মিজানুর রহমান সেই ছাত্রকে জিজ্ঞেস করি কী হয়েছিল? আরিফ তাকে বলে, ওর বাবা-মা বলতেছে ওর রোগ ছিল, আর এলাকার মানুষ বলে আত্মহত্যা করেছে। এরপর মিজানুর রহমান রবিবারে স্কুলে এসে শুনে- সে নাকি আয়েশাকে মেরে রেখে গেছে। এই কথা কমিটির কানে গেলে ওনারা মিটিং করে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞেস করেন। প্রধান শিক্ষক আল আমিন স্যারকে ওনাদের সামনে এনে জিজ্ঞেস করতে বললে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। (উল্লেখ্য মিজানুর রহমান ও আল আমিন স্যার একই রুমে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং সেন্টারের ছাত্রাবাসে অবস্থান করছিলেন। শুক্র ও শনি দুই দিন পরীক্ষা দিয়ে একই সাথে গ্রামে আসেন) এর মধ্যে সাকিব দেওয়ান বিভিন্ন জনের কাছে তার বিরুদ্ধে অপবাদ রটাতে থাকে যে মিজানুর রহমান আয়েশাকে মেরে ফেলেছে।

মিজানুর রহমান যখন বিষয়টি অবগত হয়, তখন উক্ত বিদ্যালয়ের  আক্তার স্যারকে নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ সাহেবের নিকট যায়। সমস্ত ঘটনা জানার পর চেয়ারম্যান সাহেব বলেন, “ও কে? আপনি যদি কোনো অন্যায় করে থাকেন, তবে মেয়ে কিংবা মেয়ের অভিভাবক অভিযোগ দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে অন্যথা এসব কথার কোন ভিত্তি নেই।”

তখন তিনি, উপস্থিত দুইজনের সামনে সাকিবকে ফোন দেয় এবং বলেন এলাকায় এসে ওনার সাথে দেখা করতে। তারপর বিষয়টি থেমে যায়।”

আরও উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান ওই ঘটনার পর থেকে আর কোনো পোস্ট ফেইসবুকে দেয়নি, তবে পূর্বে যা দিয়েছি সব হাইড করে রেখেছিলো। এরপর গত আগস্ট মাসের ১-৪ তারিখে মিজানুর রহমান চাঁদপুর সদরে ছাত্রদের সাথে আন্দোলনে যোগ দেয় এবং পূর্বের সকল পোস্টসহ সাম্প্রতিক দেওয়া পোস্টগুলো ওপেন করে দেয়। আর তখন সাকিব দূরে থেকে তার বন্ধুদের মাধ্যমে আগের সেই বিষয়টি নিয়ে আবারও ফেসবুকে লেখালেখি করে। তারপর প্রধান শিক্ষক মহোদয় ওদের নিয়ে গতকাল শনিবার ২৪/৮/২৪ তারিখ মিটিং কল করেন। উক্ত মিটিং শুরু হওয়ার আগেই লাঠি-সোঠা নিয়ে শত শত ছাত্ররা বিদ্যালয়ের অফিসে আক্রমণ করে। তারা মিজান স্যার এবং প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করতে থাকে। তারা মিটিং এর নাম করে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে ক্রমাগত আক্রমণ করতে থাকে। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে সহজ বিষয়টিকে জটিল করতে থাকে। তারপর  বিষয়টি মিজানুর রহমান মতলব উত্তর থানা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মতলব উত্তর ক্যাম্পকে অবহিত করেন। ওনারা বিষয়টি দেখবে বলে অবহিত করেন। এরপর অনেকটা বাধ্য করে অস্ত্রের মুখে   মিজানুর রহমান পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন এবং প্রধান শিক্ষক কর্মবিরতি নেন।

উপরের তথ্যসমূহ থেকে দেখা যাচ্ছে মিজানুর রহমান ও প্রধান শিক্ষক কয়েকজন স্থানীয় ছাত্রলীগ নামধারী নেতার প্রতিহিংসার শিকার। যাতে করে তাদের উপর এ অবিচার নেমে আসে।

আরো উল্লেখ্য,মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয় পরিস্কার ঘোষণা দিয়েছেন, জোর করে কোনো শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করালে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা