September 26, 2026, 3:26 am
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে ক্যাথলিক চার্চে ভাঙচুর, পুকুর থেকে মা মারিয়ার মূর্তি উদ্ধার; যুবক গ্রেপ্তার চাঁদপুরে নদীতে নিখোঁজ যুবকের পরিচয় সনাক্ত, উদ্ধার হয়নি রবিন : স্বামীর সন্ধানে ঘাটে স্ত্রী, লঞ্চসহ আটক ২ বিনয়বাঁশী জলদাসের ১১৫তম জন্মদিবস উপলক্ষে চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও দায়িত্ব বণ্টন সভা হাজীগঞ্জে প্রবীণকে মারধর-হেনস্তা: মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের নির্দেশ মালয়েশিয়ায় রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের দুই শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক অর্জন শুধু ভালো ফলাফল নয়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে উঠতে হবে : বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাড. বোরহান উদ্দিন কোরআনে হাফেজ হলেই কি জান্নাত নিশ্চিত ; কোরআনের আলোকে পর্যালোচনা! চাঁদপুরে নিখোঁজ স্কুলছাত্র বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে উদ্ধার বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, মোংলা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দূরে মতলবে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল ৫ পরিবারের বসতঘর, আহত ২

মতলব উত্তরে মা ইলিশ নিধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অসাধু জেলেরা

মমিনুল ইসলাম :

নিষেধাজ্ঞা আসার খবর পেয়ে মা ইলিশ নিধনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিছু অসাধু জেলে।

মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অসাধু জেলেরা নতুন নতুন একাধিক নৌকা ও কারেন্ট জাল সংগ্রহ শুরু করেছেন। কেউ কেউ আবার পুরনো জাল ও নৌকা মেরামত করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সোমবার মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মা ইলিশ সংরক্ষণ টাস্কফোর্সের মতবিনিময় সভায় বক্তারা বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

এসময় তারা বলেন, মৌসুমি জেলেদের কারনে নিষেধাজ্ঞা শতভাগ কার্যকর করা হয় না। তারা অন্যান্য পেশায় থাকলেও নিষেধাজ্ঞার মৌসুমে তারা ইলিশ মাছ শিকারে তাৎপর হন।

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১২ অক্টোবরের থেকে ২ নভেম্বর মা ইলিশ ধরার উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা আসছে। মূলত বছরের এই সময়ে সাগরের ডিমওয়ালা ইলিশ সাধু পানিতে ডিম ছাড়ার জন্য বিভিন্ন নদ নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে প্রবেশ করতে থাকে। ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এই সময়ে সরকার ইলিশ মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বোরোচর, চরওমেদ, এখলাছপুর, ষাটনল, দশানী, বাহাদুরপুর, আমিরাবাদ ও সটাকি এলাকার কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ নিধনের সকল আয়োজন সম্পন্ন করে রেখেছেন। তারা একাধিক কারেন্ট জাল ও দুই/তিনটি করে নৌকা সংগ্রহ করেছেন।

এদের মধ্যে বিশাল একটা অংশ আছে যারা মৌসুমি জেলে। যারা সারাবছর অন্য পেশায় নিয়োজিত থাকলেও মা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে দাপিয়ে বেড়ায়। যার কারণে প্রশাসনকেও নিষেধাজ্ঞা সফল করতে বেগ পেতে হয়।

রহমান নামের এক মৌসুমি জেলে বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় এক ঘন্টা ঠিকমত নদীতে জাল ফেলতে পারলে ৮/১০ হাজার টাকা আয় করা যায়। কারণ, নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে প্রচুর ইলিশ মাছ পাওয়া যায় আর ডিমওয়ালা হওয়ার কারণে ভালো দামে বিক্রি করা যায়। তাই অনেকেই এই লোভে পরে মা ইলিশ শিকারে নেমে পরে । যদি প্রশাসন জাল ও নৌকা নিয়েও যায় তাতে তেমন সমস্যা হয় না।

আবার অনেকে মাছ বিক্রি না করে ককশিট ক্রয় করে তার ভিতর বরফ দিয়ে মজুদ করে রাখেন। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হলে তা বাজারে বিক্রি করা হয়। একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন প্রতিবছরই নিষেধাজ্ঞার পরেরদিনই বাজারে ইলিশ মাছে সয়লাব হয়ে যায়। এগুলো আসে মূলত মজুদ করা মাছ থেকেই কারন নিষেধাজ্ঞা শেষেই এত মাছতো আর একদিনে জেলেরা ধরতে পারে না।

নিবন্ধিত জেলে বিপ্লব বর্মন জানান, মা ইলিশ শিকারে যে সকল অসাধু জেলে নদীতে নামেন তাদের মধ্যে বড় একটা অংশ থাকে মৌসুমি জেলে যারা মূলত জেলে পেশায় নিয়োজিত না। যারা নিবন্ধিত জেলে তারা বেশিরভাগই ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নামতে চান না।

কেননা, প্রশাসন ধরে সাজা দিলে জেলে কার্ডটি বাতিল হতে পারে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞায় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য নিবন্ধিত জেলেদের সরকারের পক্ষ থেকে চাল বিতরণ করা হয়। তাই আমাদের উচিত নিষেধাজ্ঞায় মা ইলিশ নিধন না করে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করা।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, প্রতি বছর ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় মৌসুমী জেলেরা দলে দলে নদীতে জাল নিয়ে নেমে পড়েন। এরা প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে নদীতে মা ইলিশ শিকার করেন। অনেক সময় দেখা যায় প্রশাসনের লোকজন নদীতে ধাওয়া দিয়ে একবাক থেকে অন্য বাকে যেতে না যেতেই তারা আবার নদীতে নেমে পড়েন। এদের প্রতিহত করতে না পারলে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানও সফল হবে না আর ইলিশ সম্পদেরও উৎপাদন বাড়বে না।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম জানান, মা ইলিশ রক্ষায় সরকার বদ্ধ পরিকর। নিবন্ধিত জেলেদের ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য নানান ভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। তারপরও যারা ইলিশ শিকারে নদীতে নামবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা