May 11, 2026, 11:58 am
শিরোনামঃ
আজকাল কিছু মানুষ মুখে মুসলমান দাবি করে, অথচ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নবুয়ত ও মহান চরিত্র নিয়ে বিতর্কীত প্রশ্ন তোলে? জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : জনগণের দৃষ্টিতে আদর্শ, সততা ও দেশমাতৃকার প্রতি নিঃস্বার্থ দায়বদ্ধতার যেন প্রতিচ্ছবি মতলবে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল জ্বালানি তেল জব্দ, ৪ ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড মরহুম বেল্লাল হোসেন স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত কেমন জনপ্রতিনিধি চায় মতলব উত্তরের ১৪নং সুলতানাবাদ ইউনিয়নবাসী? আলেমদের নৈতিকতার অবক্ষয় নাকি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় ধ্বংসের পরিকল্পনা? জাটকা রক্ষায় মোহনপুর নৌ পুলিশের কঠোর অভিযান ; ৬০ মামলা, ১৬৬ জেলে গ্রেপ্তার; জব্দ কোটি মিটার কারেন্ট জাল করোনাকালীন সংকটে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের নেতৃত্ব : মানবিকতা, সামরিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের এক অনন্য অধ্যায়! আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মায়ের আহাজারি ; মতলবে রিপন হত্যার এক মাস পরও অধরা আসামি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

লাল সংকেত (উপন্যাস)

মোঃ শফিকুর রহমান

বড় রাস্তা পার হয়ে বা দিকে মোড় নিতেই বিশাল বড় অশ্বথ গাছ।গোড়ার দিকে লাল কাপড়ে আবৃত।

হিন্দু সম্প্রদায় গাছটাকে দেবতুল্য ভক্তি শ্রদ্ধা করে।তবে এলাকার মুসলমানদের মনে এই গাছ সম্পর্কে এক ধরনের ভীতির বসবাস।কেউ কেউ গাছটার কাছে যেতেও ভয় পান।

এই গাছের নিচেই হিন্দুরা পূজা অর্চনা করেন।যদিও গাছটা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী মনির মিয়ার।তবে তিনি কখনোই পূজা পাগল হিন্দুদের নিষেধ করেন না এখানে আসতে।বলেন,যার যার ভক্তি শ্রদ্ধা তার কাছে।গাছের কাছে চেয়ে যদি ওনারা কিছু পান?তাতে ক্ষতি কি?

মনির মিয়ার ছোট বোন রেহানার মেজো মেয়ে সুমনা।পড়ালেখা করে দাসকান্দি হাইস্কুলে।ক্লাসে বেশিরভাগ ছাত্র ছাত্রী ই হিন্দু।তবে সে ওদের সাথে মিশতে বেশ কুণ্ঠিত। মামার ব্যাপার টা মোটেও ভালো লাগে না তার।তার মা রেহানা বেগমও ভাইয়ের এমন আচরণ পছন্দ করেন না।বহুবার রেহানা বেগম ভাই কে বলছিলো,ভাইজান সন্ধ্যা হলে আমরা যখন নামাজে দাঁড়াই,তখন হিন্দুরা এই গাছের নিচে এসে উলুধ্বনি দিতে থাকে।তুমি গাছটা কেটে ফেল,তাহলে ওরাও আর এ’মুখো হবে না।

মনির মিয়া রাজি হননি,বললেন,বোন আমার,ওরা যখন উলুধ্বনি দেবে,তা শুনেও তুমি যদি একাগ্রচিত্তে আল্লাহর ইবাদত করতে পারো,তুমি সফলকাম।সুতরাং ইবাদতে মন দাও,হিংসায় নয়।

রেহানা বেগম ভাইয়ের সাথে তর্কে না পেরে মেনে নিলেও মনে মনে গাছটাকে কাটার সিদ্ধান্ত থেকে কখনোই সরে আসেননি।

ইসলাম ধর্ম ছাড়া কখনো কোন ধর্মের প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি রেহানা বেগমের ছিলো না।তবে মানবজাতি হিসেবে কখনোই কোন ব্যক্তিকে তিনি অবমূল্যায়ন করেননি।

হিন্দু মুসলিম সবাইকে তিনি বুকে টেনে নেন পরম আদরে।তবে যখন নামাজের সময় উলুধ্বনির আওয়াজ কানে বাজে,তখনই মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন।এই গাছ আর নয়,যে গাছের কারণে ঠিকমতো নামাজ পড়া যাবে না,সে গাছ অক্সিজেন দিলেও মূল্যহীন।

কয়েকদিন পর মনির মিয়া ওনার তিন বোনের সবাইকে বাড়িতে নিমন্ত্রণ করলেন।বড়বোন সাফিয়া,মেজ বোন খাদিজা,আর ছোটবোন রেহানা।ওদের পরিবারের সবাইও ওই দাওয়াতে হাজির হলো।

রেহানার সাথে ওর তিন মেয়েও এসে উপস্থিত।বড় ছেলে শামীম পড়ালেখার উদ্দেশ্যে ঢাকায় অবস্থান করায় আসতে পারেনি।

আসলেই শামীমের তেমন বেড়ানোরও সখ নাই। বাড়িতে থাকলেও আসতো কিনা সন্দেহ।কোন একটা সংগঠনের কাজে সবসময় ব্যস্ত থাকে।কিন্তু কি সংগঠন তা কখনো কাউকে জানতে দেয়নি সে,একমাত্র মা রেহানা বেগম ছাড়া।তবে মনে হয় মেজো বোন সুমনাও ওই দলের অনুসারী,তবে প্রকাশ্য নয়।।কখনোই নামাজ কাযা করে না শামীম।এলাকার সবার সুখে দুঃখে পাশে থাকে সে।তবুও মাঝে মাঝে শামীম কে মৌলবাদী বলে গালি শুনতে হয়

বড় মেয়ে শামীমা- উজ্জ্বল সুন্দরী, শারীরিক সৌন্দর্যের কোন তুলনা হয় না। একটু চাপা স্বভাবের।

মেজ মেয়ে সুমনা- বড় বোনের মত অতটা সুন্দরী না হলেও স্বভাব আর পড়ালেখায় সবার চেয়ে এগিয়ে।ধর্মের প্রত্যেকটা নিয়মনীতি সে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে।

আর ছোট মেয়ে সাথী- এ যে কল্পনা কেও হার মানানো একটা রূপ নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে।অসাধারণ সুন্দরী এই মেয়ে পড়ালেখায় নিতান্তই ছেলেমানুষ।

রেহানা বেগম বড় দুই মেয়ের চেয়ে এই মেয়ে নিয়ে বেশি চিন্তিত। কোনদিকে যাবে এর ভবিষ্যৎ,সেই চিন্তায় মাঝে মাঝে অস্থির হয়ে পড়েন।ধর্মজ্ঞানেও সাথী তেমন আগ্রহী নয়।। মনির মিয়া ওনার তিন ভাগ্নির জন্য সবসময়ই আলাদা একটা ভালোবাসা অনুভব করেন।

আর ওদের বাবা রফিক সাহেব তো তিন মেয়ে বলতেই অজ্ঞান।

রেহানা বেগম অনেকদিন পর বোনদের কাছে পেয়ে মেয়েদের একপ্রকার ভুলেই থাকলেন।আর ওদিকে সুমনা শামীমার মনে যেনো আনন্দের ঢেউ জেগে উঠলো। মামাতো খালাতো ভাইবোনের কাছে পেয়ে যেন খুশিতে আত্মহারা। বিকেল বেলা মনির মিয়া বোনদের নিয়ে আলোচনায় বসলেন।বাবা মার স্মৃতিচারণ করে সবার চোখ থেকে তপ্ত জলের ধারা গড়িয়ে পড়লো।

চোখ মুছে মনির মিয়াই প্রথম কথা বললেন।

মা বাবা মারা গেলো,তোরা কেউ কিছু নিলিনা।এবার বল, আমি কি করতে পারি।

সাফিয়া বেগমের ঝটপট উত্তর। উনি বরাবরই এমন,যার যার অংশ তাকে বুঝিয়ে দে মনির,তবে আমি কিছু নেবো না।যতদিন তুই আছোস,ততদিন আসবো যাবো এই ঢের।আমার কিছু লাগবে না।

খাদিজা বেগম বললো,তোর ইচ্ছে হলে আমার অংশ আমাকে বুঝিয়ে দিতে পারিস! আমি আমার অংশ বিক্রি করে আমার বাড়ির কাছে কিছু একটা নিশ্চয়ই করবো।

মনির মিয়া বললেন,তাহলে তুই আমাকে রেজিষ্ট্রেশন করে দিয়ে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে যা।

এবার ছোটবোন রেহানার পালা,রেহানা বেগম কিছু বলার আগেই সুমনা বলে উঠলো মামা,আমাদের কিছু চাই না।তবে আমার একটা জিনিস চাই,

সবাই সুমনার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি তাক করলো,কি চায় এই মেয়ে?হঠাৎ করে কি এমন মূল্যবান জিনিস সুমনার চোখে পড়লো।

মামা আমার এই অশ্বথ গাছ টা চাই।আমার একটা বিশেষ কাজে আমি অশ্বথ গাছটা ব্যবহার করবো।

সুমনার কথা শুনে সবাই যেন ‘থ’ বনে গেলো,

যে গাছের আশেপাশে যেতেই সুমনার এতো ভয়,সেই গাছ ই আজ মামার কাছ থেকে চেয়ে নিচ্ছে।

ব্যাপার কি?

সাফিয়া বেগম তো বলেই ফেললেন,কি সুমনা ওই গাছ তো তোর কখনোই পছন্দ ছিলো না।আজ ওই গাছ ই চেয়ে বসলি?

সুমনা বড় খালার প্রশ্নের কোন উত্তর করলো না।একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে মামার দিকে তাকিয়ে আবার জানতে চাইলো,কি মামা গাছটা আমাকে দিচ্ছো তো?

মনির মিয়ার স্ত্রী জাহানারা রেহানা বেগমের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,তোমাদের কিছু লাগবে না।তোমরা বড়লোক।কিন্তু আমার বুঝে আসছে না এই অশ্বথ গাছ দিয়ে তোমরা কি করবে?

রেহানা বেগম এবার মেয়ের হাসির পুনরাবৃত্তি করলেন বললেন,ভাগ্নি মামার কাছে একটা গাছ ই তো চেয়েছে। ইচ্ছে হলে দেবে নাহলে দেবে না।এখানে আমার আর তোমার কোন কথা বলার আছে বলে মনে করি না।

রেহানা বেগমের এমন উত্তর দেখে সবাই হাসতে লাগলো।

মনির মিয়া সুমনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,নিশ্চয়ই কোন না কোন হেকমত কাজ করছে,তা নাহলে আমার মা কখনোই এই সামান্য একটা গাছের আবদার আমার কাছে করতো না।বলুন মা আমি গাছটা কিভাবে আপনাকে দিতে পারি?

মনির মিয়ার কথার ধরণে আবার একচোট সবার হাসির খোরাক যোগালো।

সুমনা গম্ভীর স্বরে বললো,গাছটা কেটে আমাদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে মামা।তারপরের কাজ আমার।

মনির মিয়া সানন্দে রাজি হলেন গাছটা কেটে রফিক সাহেবের বাড়িতে পৌঁছে দিতে।

এরপর সবাই চা নাস্তা করতে বসলো,মনির মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বেগম হাতে করে সবার জন্য কয়েকটা পাকা পেয়ারা নিয়ে আসলেন,সবাই চা রেখে পেয়ারা হাতে নিলো।এমনই সময় সুমনার মোবাইল কেঁপে উঠলো আল্লাহু আকবার ধ্বনি’তে।

শামীম কল দিয়েছে,শামীম কল দিলেই সুমনার কাছে দেয়।দু’ভাইবোনের চমৎকার মনের মিল।কাজে কর্মেও সমান।বিশেষ করে দ্বীনের ব্যাপারে দু’জনই আপোষহীন।

কল রিসিভ করতেই শামীম সালাম দিয়ে কুশল জানতে চাইলো।মামা বাড়ি আছে শুনে খুবই খুশি হলো।বললো, আমি থাকলে আজ নিশ্চয়ই মামার বাড়ি যেতাম।আর শোন, আমি কাল বাড়ি আসতেছি।সাথে আমার এক বন্ধু আসবে মাকে বলিস সবরকম ব্যবস্থা করে রাখতে।

সুমনা মোবাইল টা মায়ের দিকে এগিয়ে দিতে চাইলো।অমনি সাথী ছোবল দিয়ে মোবাইল টা ছিনিয়ে নিয়ে দিলো ভোঁ দৌড়।

ছোটবোনের সাথে অনেক্ক্ষণ ধরে কথা চললো শামীমের।তারপর লাইন কেটে দিলো।মায়ের সাথে আর কথা বলা হলো না।

সন্ধ্যার আগেই সবাই মনির মিয়ার বাড়ি ত্যাগ করলো।

ওদিকে ঢাকা থেকে শামীম বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো।

মনির মিয়া কয়েকজন করাতকল মিস্ত্রি কে ঠিক করতে গেলেন অশ্বথ গাছটা কাটার জন্য।আগামীকাল এলাকার সবচেয়ে প্রাচীন অশ্বথ গাছটা কাটা হবে।

এলাকার মুসলিম সবাই আনন্দিত। হিন্দু যারা তারা উৎকণ্ঠায় রাত যাপন করতে লাগলো কাল কি হয় তা  দেখার অপেক্ষায়। ওরা বিশ্বাস করে এই অশ্বথ গাছে স্বয়ং লোকনাথের বসবাস।কেউ এই গাছ কাটতে পারবেনা।

চলবে…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা