June 24, 2026, 6:49 pm
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার সময়ের আলোকে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : এক পুনর্মূল্যায়নের আলোচনা নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইমামপুর ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে ফাইনালে কেশাইরকান্দি ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাব মতলব-গজারিয়া সেতুর অর্থায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, জমি অধিগ্রহণে ১২ কোটি টাকা অনুমোদন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে চাঁদপুর-২ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন এমপি ড. জালাল উদ্দিন সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে মতলব উত্তরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল সুন্দরবনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চক্রে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি কোটচাঁদপুরে মানবপাচার রোধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সমন্বয় সভা মতলব উত্তরে পরকীয়ার সন্দেহে শুরু বিরোধ, শ্বশুর-স্ত্রীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ স্বামীর

সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র

ম.ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাটঃ

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাঘ ও হরিণ শিকারি ১৫০ জন চিহ্নিত অপরাধীর তালিকা প্রস্তুত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছে বন বিভাগ। গত এক বছরে পরিচালিত ৪৭৪টি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ শিকারি সরঞ্জাম, অবৈধ জাল, নৌযান ও বন্যপ্রাণীর মাংস উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাঘ ও হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত ১৫০ জন দুষ্কৃতকারীর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করেছে বন বিভাগ। বাগেরহাটসহ উপকূলীয় অঞ্চলে সক্রিয় এই অপরাধী চক্রের সদস্যদের পরিচয় সংগ্রহ করে সম্প্রতি তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে পরিচালিত ৪৭৪টি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এই অপরাধীদের চিহ্নিত করা হয়। গত এক বছরে বনের অভ্যন্তরে টহল ও নজরদারি জোরদার করায় অপরাধের হার কিছুটা কমলেও শিকারি চক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এখনো পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযান চলাকালে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও আলামত অপরাধী চক্রের ব্যাপক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেছে। বন বিভাগের তথ্যমতে, গত এক বছরে বনের ৩৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পেতে রাখা ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৩ ফুট হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া জীবিত অবস্থায় ১৭টি হরিণ এবং একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার উদ্ধার করা হয়।

একই সময়ে ২৪৯ কেজি হরিণের মাংস, বিষ প্রয়োগে ধরা বিপুল পরিমাণ মাছ ও চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৪৮টি ট্রলার, ১০০টি নৌকা, বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল এবং বিষাক্ত কীটনাশক উদ্ধার করা হয়। বন কর্মকর্তাদের মতে, এসব তথ্য প্রমাণ করে যে বনের সম্পদ লুণ্ঠন এবং বন্যপ্রাণী শিকারের পেছনে একটি সুসংগঠিত অপরাধী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।

স্থানীয় বনজীবী ও পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের মতে, শিকারি চক্রগুলো সুন্দরবনের দুর্গম এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ফলে বনরক্ষীদের প্রায়ই নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বন বিভাগ সর্বোচ্চ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গত এক বছরে দায়ের করা ২৪১টি বন মামলায় ৩৯৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সুন্দরবনের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় বনের গভীরে সংঘটিত অপরাধ শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জের বিষয়। তবে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নিয়মিত ফুট পেট্রোলিংয়ের ফলে অপরাধীদের গতিবিধি অনেকাংশে সীমিত করা সম্ভব হয়েছে।

বন বিভাগের দাবি, বর্তমানে বনের অভ্যন্তরে টহল ও নজরদারি আগের তুলনায় অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে। ফলে শিকারি ও অপরাধী চক্রগুলো আগের মতো নির্বিঘ্নে বনে প্রবেশ করতে পারছে না। তবে এই সাফল্য ধরে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বন বিভাগের মধ্যে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের মতো একটি বিশ্ব ঐতিহ্য ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় চিহ্নিত ১৫০ জন শিকারির বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্রের অর্থায়ন ও নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

পরিবেশবিদরা মনে করছেন, নজরদারি ও আইন প্রয়োগের এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বন্যপ্রাণী শিকার নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। অন্যথায় বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন বিপন্ন প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুন্দরবনের নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই বলেও মত দিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা