May 11, 2026, 3:04 pm
শিরোনামঃ
আজকাল কিছু মানুষ মুখে মুসলমান দাবি করে, অথচ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নবুয়ত ও মহান চরিত্র নিয়ে বিতর্কীত প্রশ্ন তোলে? জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : জনগণের দৃষ্টিতে আদর্শ, সততা ও দেশমাতৃকার প্রতি নিঃস্বার্থ দায়বদ্ধতার যেন প্রতিচ্ছবি মতলবে কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল জ্বালানি তেল জব্দ, ৪ ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড মরহুম বেল্লাল হোসেন স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত কেমন জনপ্রতিনিধি চায় মতলব উত্তরের ১৪নং সুলতানাবাদ ইউনিয়নবাসী? আলেমদের নৈতিকতার অবক্ষয় নাকি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় ধ্বংসের পরিকল্পনা? জাটকা রক্ষায় মোহনপুর নৌ পুলিশের কঠোর অভিযান ; ৬০ মামলা, ১৬৬ জেলে গ্রেপ্তার; জব্দ কোটি মিটার কারেন্ট জাল করোনাকালীন সংকটে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদের নেতৃত্ব : মানবিকতা, সামরিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের এক অনন্য অধ্যায়! আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মায়ের আহাজারি ; মতলবে রিপন হত্যার এক মাস পরও অধরা আসামি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

মতলব উত্তরের ১৪নং সুলতানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ব্যবহারের অভাবে বেহালদশা

বিশেষ প্রতিনিধি, মতলব উত্তর :

চাঁদপুর,মতলব উত্তর উপজেলার ১৪নং সুলতানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি বর্তমান চেয়ারম্যান কর্তৃক অফিস হিসাবে ব্যবহার না করায় বেহালদশার সৃষ্টি হয়ে পরে আছে।

ইউনিয়ন পরিষদটি ১৪নং সুলতানাবাদ ইউনিয়নের আমুয়াকান্দা গ্রামে অবস্থিত। যার ভূমি দান করেছিলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী ও তার পরিবার। তবে বর্তমান চেয়ারম্যান সেই পরিষদ ভবনটিকে অফিস হিসাবে ব্যবহার না করায়, তা অব্যবহৃত ভবন হিসাবে পরে রয়েছে। এমন কি ইউপি সচিবও সেখানে বসে না। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক খোকন টরকীতে অবস্থিত পুরাতণ একটি ভবনে নিজের অফিস হিসাবে ব্যবহার করছেন,যার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের সরকারী টাকা ব্যয় করে তৈরিকৃত নতুন ভবনের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। সেই সাথে নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র এবং ভবনের সৌন্দর্য। ভবনটি অব্যবহৃত পরে থাকায় এলাকার স্থায়ী বখাটে ও মাদকাসক্ত ছেলেদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। যেখানে বসে মাদক সেবন ও জুয়ার আড্ডা।

এই বিষয়ে গতকাল ২০ তারিখ সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারীর ছোট ভাই আমিরুল ইসলাম খোকা পাটোয়ারী চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করে তার ফেসবুকে একটি পোষ্ট করে। নিচে আমিরুল ইসলাম খোকা পাটোয়ারীর ফেসবুক পোষ্টটি তুলে ধরা হলো।

মূল ফেসবুক পোষ্ট :

”সম্মানিত চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষনঃ

চাঁদপুর জেলা, মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ, একটি আদর্শ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স করার জন্য পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ৭০ শতাংশ জমি আমরা দিয়েছিলাম।

২০১৭ সালে যথা নিয়মে সরকারে প্রচুর টাকা ব্যয়ে তৈরী করা হয় এই ইউনিয়ন পরিষদ কিন্তু ততকালীন ইউপি চেয়ারম্যান সাহেব তার জীবদ্দশায় একদিনও বসে কাজ কর্ম চালাননি, তার মৃত্যুর পর আমার ভাতিজি হাবিবা ইসলাম সিফাত উপনির্বাচনে জয়লাভ করার পর পূর্ন মেয়াদে প্রায় ২ বৎসর ইউনিয়ন পরিষদে কার্যপরিচালনা করেন এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইন সহ সকল সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু গত ২০২১ সালে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচনের পর নতুন চেয়ারম্যান আবুবক্কর খোকন এ যাবতকালে একদিনের জন্যও ইউনিয়ন পরিষদে বসেন না, সচিব যথা নিয়মে চেয়ারম্যান এর পিছনেই  আছেন। পরিষদটি এখন পরিত্যক্ত হওয়ার পথে, বৃষ্টি হলে গরু ছাগলের আশ্রয়স্থান। যেটাও সমস্যা নয়, সমস্যা হল আমার এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের পথে কারণ এই ইউনিয়ন পরিষদ এখন জুয়া ও নেশা করার আড্ডার স্থান। আসছে কুরবানীর ঈদ এই ইউনিয়ন কমপ্লেক্স হবে কসাইখানা, গরু রাখা, জবাই ও কাটাকাটি সবই হবে এখানে, কিন্তু বর্জ পরিস্কার করার লোক থাকবে না। চিন্তা করে দেখুন কি অবস্থা হবে।

আমার প্রশ্ন ইউনিয়ন পরিষদ থাকা অবস্থায় ব্যবহার না করা কি আইনগত অপরাধ নয়? একজন সরকারী সচিব কোন ক্ষমতায় নিজের অফিস ব্যবহার না করে ইচ্ছামত কাজ করেন? এসব অনৈতিকতার কি কোন সুরাহা নেই?

প্রশাসনের নিকট আবেদন, চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন, যদি এই ইউনিয়ন পরিষদ সরকারের না লাগে তা হলে দয়া করে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি অবমূক্ত করে আমাদেরকে ফেরত দেওয়া হউক, ইউনিয়ন পরিষদের নামে যুব সমাজকে ধ্বংস ও গরু ছাগলের আশ্রয়কেন্দ্র বানানো থেকে বিরত থাকুন।

অতি দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে, আমাদের সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য আইনী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো। পরিত্যক্ত ইউনিয়ন পরিষদ এর ছবি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এর রুমের ভিডিও দেখলেও বুঝা যায় এটা কিসে ব্যবহার হয়।”

তিনি সুলতানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের এই দৈন্যতা ও বেহালদশা দেখে আক্ষেপভরে এই কথাগুলো লিখেছেন। তিনি সহ সকল ইউনিয়নবাসীর কাম্য উক্ত পরিষদ ভবনটি যথাযথ ব্যবহার করা উচিত আর তা না হলে সরকারের বিশাল খরচে করা স্থাপনা সহ সকল কিছু অব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার হীনতার কারণে দিনের পর দিন পরে থাকায় নষ্ট হয়ে যাবে। তাই বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এলাকার মানুষজন দাবি জানিয়েছে। সেই সাথে মাদকসেবী ও জুয়ারীদের আইনের আওতায় এনে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি যথাযথ ব্যবহারের উপযুক্ত করে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা