June 25, 2026, 12:30 am
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার সময়ের আলোকে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : এক পুনর্মূল্যায়নের আলোচনা নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইমামপুর ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে ফাইনালে কেশাইরকান্দি ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাব মতলব-গজারিয়া সেতুর অর্থায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, জমি অধিগ্রহণে ১২ কোটি টাকা অনুমোদন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে চাঁদপুর-২ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন এমপি ড. জালাল উদ্দিন সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে মতলব উত্তরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল সুন্দরবনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চক্রে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি কোটচাঁদপুরে মানবপাচার রোধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সমন্বয় সভা মতলব উত্তরে পরকীয়ার সন্দেহে শুরু বিরোধ, শ্বশুর-স্ত্রীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ স্বামীর

মতলব উত্তরে টিয়ার ও কাবিখা প্রকল্পে বিল পেতে দিতে হয় ঘুষ ; হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রকাশ্য টাকা লেনদেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ

মতলব উত্তর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সরকারের টিয়ার ও কাবিখা প্রকল্পের কাজ শেষ করে বিল উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতিদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে ১ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের বিল অনুমোদনের সময় হিসাবরক্ষণ অফিসের অস্থায়ী কর্মচারী উম্মে সানজিদা আক্তারের মাধ্যমে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয় এবং বিল অনুমোদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার না করে উম্মে সানজিদা আক্তার বলেন, “আমাকে কামাল স্যার টাকা রাখার অনুমতি দিয়েছেন। আমি শুধু তার নির্দেশেই প্রতি ফাইল থেকে ১ হাজার টাকা করে নিচ্ছি।”

এ বিষয়ে অডিটর কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “কেউ যদি স্বেচ্ছায় টাকা দিয়ে যায় তাহলে আমরা কী করব? আর ১ হাজার টাকা করে নিলে আপনাদের সমস্যা কী? অফিস পরিচালনায় আমাদের কিছু খরচ আছে — এজন্য টাকাটা নিচ্ছি।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বাজেটে প্রায় ৪০০টি প্রকল্পের বিল পাস করা হয়েছে এরমধ্যে ১৫০ টি প্রকল্পের বিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সেলিম খান বলেন, “হিসাবরক্ষণ অফিস আমাদের আওতায় নয়। প্রকল্প বিল উত্তোলনে টাকা নেওয়ার কোনও বিধান নেই। তাদের কেন টাকা নেওয়ার প্রয়োজন হয়, সেটাও আমার জানা নেই।”

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রকল্প সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যাওয়ার পরেও মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি আগের মতোই রয়ে গেছে। ঘুষ ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া সম্ভব নয়।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) কাজী মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, “আমি একসঙ্গে তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিদিন অফিসে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই শুনলাম। আগামী বুধবার আমি অফিসে এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।”

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন,

“সরকারি সেবায় দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। যদি প্রমাণিত হয় যে প্রকল্পের বিল নিতে ঘুষ নেওয়া হচ্ছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি এ বিষয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেব। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিক।”

উল্লেখ্য, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের আওতায় দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়ে থাকে। এ প্রকল্পের টাকায় দুর্নীতি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন গ্রামের দরিদ্র মানুষ, যাদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের ফল চলে যায় কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেটে।

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান দাবি করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা