October 28, 2026, 5:36 pm
শিরোনামঃ
প্রথম টেস্টে মুশফিকুর রহিমকে ছাড়াই ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে লাঞ্চে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯৬/২ চট্টগ্রামে বাসে তল্লাশি, বিপুল ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার হাজীগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে রহস্য, দুই পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চাঁদপুরে নৌ পুলিশের অভিযানে ৪০ জেলে আটক, ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা ঘূর্ণিঝড় ‘আর্নব’ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত ইন্দোনেশিয়ায় বনাঞ্চলের আগুন নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ইরানের কাছে যুদ্ধ অবসানের নতুন প্রস্তাব, তেহরানের বক্তব্য—ধারণাগুলো গ্রহণযোগ্য নয় ইসরায়েলের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মতপার্থক্য অব্যাহত

মতলবের আইসিডিডিআরবিতে ডায়রিয়া রোগীতে উপচে পড়েছে শিশুদের আর্তনাদ : প্রতি ঘণ্টায় ১১ শিশু ভর্তি

মমিনুল ইসলাম :
Oplus_16908288

শীত বাড়ছে। তার সঙ্গে বাড়ছে ডায়রিয়ার থাবাও। চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে দিন দিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। ওয়ার্ডে জায়গা নেই, বারান্দাতেও চলছে জরুরি চিকিৎসা। আর এই রোগীদের বিশাল অংশই শিশু।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে হাসপাতালে গেলে দেখা যায়, ছোট ছোট বাচ্চারা চিকিৎসা নিচ্ছে মায়ের কোলে বসে। কেউ স্যালাইন হাতে, কেউবা কান্নাকাটি করছে পানি চাইতে না পেরে। চিকিৎসক ও নার্সরা এক মুহূর্তের অবসর না পেয়েও ছুটে চলছেন রোগীদের চিকিৎসায়।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, গত ১৫ দিনে (৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বর) এখানে ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৮৫৬ রোগী। প্রতিদিন গড়ে ২৫৭ রোগী; প্রতি ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছে ১১ জন। শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৩ হাজার ৩৭০ জন ; মোট রোগীর প্রায় ৮৭ শতাংশই। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি। যদিও এখনো মৃত্যুর কোনো খবর নেই।

ডায়রিয়ার এই প্রকোপ শুধু মতলব বা চাঁদপুর জেলায় সীমাবদ্ধ নয়। কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, শরীয়তপুর, ফেনী ও মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের জেলার শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছে এখানে। মুরাদনগর, দেবিদ্বার, দাউদকান্দি, লাকসাম এমনকি দূর জেলার রোগীরাও ভিড় করছে আইসিডিডিআরবিতে।

চিকিৎসকদের মতে, শীতে শুষ্ক আবহাওয়ায় ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়। তার ওপর দূষিত খাবার ও দূষিত পানি পান করায় শিশুদের মধ্যে রোটা-ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলার হোসাইনের মা রাবেয়া বেগম বলেন, সকাল থেকে বাচ্চার পায়খানা আর বমি বন্ধ হচ্ছিল না। খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এখানে এনে স্যালাইন দেওয়ার পর একটু ভালো আছে। ডাক্তার-নার্সরা অনেক চেষ্টা করছেন। শীত পড়তেই গ্রামের অনেক বাচ্চা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। খুব ভয় লাগছে।

কুমিল্লার দেবিদ্বার থেকে সন্তানকে নিয়ে আসা মো. সালাউদ্দিন বলেন, রাতে হঠাৎ ছেলের শরীর খারাপ হয়ে যায়। কাছের হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম, তারা এখানেই নিয়ে আসতে বলেছে। সারারাত জেগে আমরা রওনা দিয়েছি। এখানে এসে দ্রুত চিকিৎসা পেয়েছি বলে আল্লাহর শুকরিয়া। শীত এলেই এমন হয়, পানি-খাবার নিয়ে আরও সচেতন হতে হবে।

অভিভাবকেরা বলছেন, শীতের মধ্যে শিশুদের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। সারারাত জেগে থেকে বাচ্চাদের যত্ন করছেন তারা। কেউ কেউ উদ্বেগ নিয়ে হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন সুস্থতার আনন্দের জন্য।

হাসপাতালের বারান্দায় স্যালাইনের স্ট্যান্ড ঘিরে শিশুর কান্না, মায়েদের দুশ্চিন্তা আর চিকিৎসকদের অবিরাম ব্যস্ততার এই দৃশ্য শীতের নির্মম বার্তা দিচ্ছে। শীত তো এখনো শুরু। সামনে রোগীর চাপ আরও বাড়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

আইসিডিডিআরবি চাঁদপুরের মতলব রিসার্চ সেন্টারের প্রধান ডা. মো. আল ফজল খান জানান, পর্যাপ্ত ওরস্যালাইন, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। তবে শিশুর প্রতি অসাবধানতা হলে বিপদ বেড়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মানলেই এ রোগ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা