October 28, 2026, 4:47 pm
শিরোনামঃ
ইসরায়েলের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মতপার্থক্য অব্যাহত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দেশব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ১১-দলীয় জোটের ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দুই হাজার গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি রপ্তানি বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় গন্তব্য মনে করছে টোকিও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরে আজ রাতে ঢাকা ছাড়ছেন, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জাপানের সঙ্গে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের সময় রাষ্ট্রদূত ঢাকায় থাকবেন, সিদ্ধান্তকে ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বললেন প্রতিমন্ত্রী

মতলবের আইসিডিডিআরবিতে ডায়রিয়া রোগীতে উপচে পড়েছে শিশুদের আর্তনাদ : প্রতি ঘণ্টায় ১১ শিশু ভর্তি

মমিনুল ইসলাম :
Oplus_16908288

শীত বাড়ছে। তার সঙ্গে বাড়ছে ডায়রিয়ার থাবাও। চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে দিন দিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। ওয়ার্ডে জায়গা নেই, বারান্দাতেও চলছে জরুরি চিকিৎসা। আর এই রোগীদের বিশাল অংশই শিশু।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে হাসপাতালে গেলে দেখা যায়, ছোট ছোট বাচ্চারা চিকিৎসা নিচ্ছে মায়ের কোলে বসে। কেউ স্যালাইন হাতে, কেউবা কান্নাকাটি করছে পানি চাইতে না পেরে। চিকিৎসক ও নার্সরা এক মুহূর্তের অবসর না পেয়েও ছুটে চলছেন রোগীদের চিকিৎসায়।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, গত ১৫ দিনে (৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বর) এখানে ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৮৫৬ রোগী। প্রতিদিন গড়ে ২৫৭ রোগী; প্রতি ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছে ১১ জন। শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৩ হাজার ৩৭০ জন ; মোট রোগীর প্রায় ৮৭ শতাংশই। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি। যদিও এখনো মৃত্যুর কোনো খবর নেই।

ডায়রিয়ার এই প্রকোপ শুধু মতলব বা চাঁদপুর জেলায় সীমাবদ্ধ নয়। কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, শরীয়তপুর, ফেনী ও মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের জেলার শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছে এখানে। মুরাদনগর, দেবিদ্বার, দাউদকান্দি, লাকসাম এমনকি দূর জেলার রোগীরাও ভিড় করছে আইসিডিডিআরবিতে।

চিকিৎসকদের মতে, শীতে শুষ্ক আবহাওয়ায় ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়। তার ওপর দূষিত খাবার ও দূষিত পানি পান করায় শিশুদের মধ্যে রোটা-ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলার হোসাইনের মা রাবেয়া বেগম বলেন, সকাল থেকে বাচ্চার পায়খানা আর বমি বন্ধ হচ্ছিল না। খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এখানে এনে স্যালাইন দেওয়ার পর একটু ভালো আছে। ডাক্তার-নার্সরা অনেক চেষ্টা করছেন। শীত পড়তেই গ্রামের অনেক বাচ্চা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। খুব ভয় লাগছে।

কুমিল্লার দেবিদ্বার থেকে সন্তানকে নিয়ে আসা মো. সালাউদ্দিন বলেন, রাতে হঠাৎ ছেলের শরীর খারাপ হয়ে যায়। কাছের হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম, তারা এখানেই নিয়ে আসতে বলেছে। সারারাত জেগে আমরা রওনা দিয়েছি। এখানে এসে দ্রুত চিকিৎসা পেয়েছি বলে আল্লাহর শুকরিয়া। শীত এলেই এমন হয়, পানি-খাবার নিয়ে আরও সচেতন হতে হবে।

অভিভাবকেরা বলছেন, শীতের মধ্যে শিশুদের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। সারারাত জেগে থেকে বাচ্চাদের যত্ন করছেন তারা। কেউ কেউ উদ্বেগ নিয়ে হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন সুস্থতার আনন্দের জন্য।

হাসপাতালের বারান্দায় স্যালাইনের স্ট্যান্ড ঘিরে শিশুর কান্না, মায়েদের দুশ্চিন্তা আর চিকিৎসকদের অবিরাম ব্যস্ততার এই দৃশ্য শীতের নির্মম বার্তা দিচ্ছে। শীত তো এখনো শুরু। সামনে রোগীর চাপ আরও বাড়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

আইসিডিডিআরবি চাঁদপুরের মতলব রিসার্চ সেন্টারের প্রধান ডা. মো. আল ফজল খান জানান, পর্যাপ্ত ওরস্যালাইন, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। তবে শিশুর প্রতি অসাবধানতা হলে বিপদ বেড়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মানলেই এ রোগ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা