ইতিহাস (HISTORY) শব্দের উৎপত্তি “ইতিহ” শব্দ থেকে।ইতিহাস শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে দাঁড়ায় – ইতিহ+আস। এখানে “ইতিহ” অর্থ হলো “ঐতিহ্য”। এই ঐতিহ্যকে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয় ইতিহাস।
ইতিহাস এমন একটি শাস্ত্র যেখানে মানুষের অতীত কর্মের সত্যানুসন্ধান ও পরিক্ষামূলকভাবে বিচারবিশ্লেষণ করা হয়।ইতিহাসের এ সাধারণ সত্য আমাদের কাছে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে,”আমাদের অনাগত ভবিষ্যৎ সর্বদাই অনির্ধারিত ও অজানার বিষয়। যুগ যুগ ধরে মানুষের ভবিষ্যৎ কে জানা ও বোঝার আর এক নাম ইতিহাস”।
তাই ইতিহাস পাঠের মাধ্যামে আমরা যে অতীত ধারনা নিয়ে বেড়ে উঠি। সেই ভবিষ্যৎ সমকালে অনুরূপভাবে আমরা অতীতের মাধ্যমে সমাধান বের করার চেষ্টা করি, সমাজ ও রাষ্টের নিরন্তর বয়ে যাওয়া ঘটনা প্রবাহকে আমরা এক কথায় “ইতিহাস” বলে থাকি। তবে ইতিহাস কি তার কাঠিন্যতা প্রমাণ করে? বিভিন্ন পণ্ডিত মহলে ইতিহাস নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি, বরং রামকৃষ্ণের বাণী “যতো মত তত পথ” এই তত্ত্বটি বার বার বেরিয়ে এসেছে। তবে সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গী ও মতামত বিশ্লেষণ করলে একটি সুন্দর সংজ্ঞা বেরিয়ে আসে, ইতিহাসের আলোচ্য বিষয়ের প্রভাব ব্যাপক। জীবন সৃষ্টির প্রাকলগ্ন থেকে ইতিহাসের যাত্রা শুরু হয়। তাই ইতিহাসের সংজ্ঞা থেকে স্পষ্ট ধারনা পাওয়া যায় যে,”পরিক্ষা ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতিহাসের বিষয়বস্তু হিসেবে মানুষের জীবনধারা,সমাজ সভ্যতার সুঅভ্যাস সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে এই ইতিহাসে।”
মানুষ আদিকাল থেকে তাদের জীবনের সংগ্রাম শুরু করেছে। কিন্তু লিখতে শিখেছে অনেক পরে। সকল মানুষ অঞ্চল ভিত্তিতে সচেতন ছিল না। তাই সেই ঘটনার বিবরণ সকলের পাওয়া যায়নি ইতিহাসে। এর ফলে ইতিহাস ছিল উপাদান নির্ভর। তাই ইতিহাস দুটিভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল,
১. লিখিত উপাদান :- তৎকালীন সমকালিন সাহিত্য চর্চা, ধর্মগ্রন্থ,সরকারি দলিলপত্র,রাজার জীবন বিবরণী প্রভৃতি লিখিত উপাদানের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২.অলিখিত উপাদান :- ধর্ম ও সাধারণ স্থাপত্য শিল্প, বিভিন্ন ভাস্কর্য বা মূর্তি,মুদ্রা, তাম্রলিপি,শিলালিপি, মানুষের আঁকা চিত্রকলা প্রভৃতি।
ইতিহাস যেভাবে পরিবর্তন হচ্ছে। কতদিন এই ইতিহাসের পাতা সুরক্ষিত থাকবে এটা নিয়ে ও আমাদের একটা ভবিষ্যৎ চিন্তা-ভাবনা করা দরকার। কারণ ইতিহাস আমাদের প্রেরণা জোগায় আবার ইতিহাস আমাদের কপটতা কিভাবে ঘটেছে অগচরে সেগুলো থেকে শিক্ষা ও নিতে শেখায়।
“ইতিহাস যেন প্রাচীন হয়ে প্রাচীনের মধ্যে ডুবে না যায়। তার একটা ভবিষ্যৎ যুগের ইতিহাসে বাঁচিয়ে রাখা উচিত, যা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উৎস হয়”।
ইতিহাস জ্ঞান মানুষকে সচেতন করে তোলে। উণ্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণ গুলো জানলে মানুষ ভালো ও মন্দের পার্থক্যটা সহজেই বুঝতে পারে। ফলে সে তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। তাই ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষ ইতিহাস পাঠ করে অতীত ঘটনাবলির দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিতে পারে। তাই ইতিহাসের শিক্ষা বর্তমানের ভবিষ্যৎ প্রজন্মে কাজে লাগানো।
পরিশেষে বলা যায় যে, ইতিহাস হলো “অতীত জ্ঞান”। জ্ঞানের আলোকে আমাদের সামনে ভবিষ্যতের রূপরেখা দাঁড় করায়। এই রূপরেখার দিকনির্দেশনা থাকে।