চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় চলমান এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয় পরীক্ষা চলাকালে কোনো সাংবাদিক যেন কেন্দ্রে প্রবেশ না করেন। পরে বিভিন্ন কেন্দ্রে গেলে সাংবাদিকদের একই তথ্য জানিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
উপজেলার ফরাজীকান্দি কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের সচিব অতাউল করিম মুজাহিদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় ফোনে নির্দেশনা দিয়েছেন পরীক্ষা চলাকালে কোনো সাংবাদিক যেন কেন্দ্রে প্রবেশ না করেন। তাই আমরা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি।
সাংবাদিকদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ নির্দেশনায় পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার কথা বলা হলেও সাংবাদিকদের সরাসরি প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। সে কারণে স্থানীয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
উপজেলার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিকদের উপস্থিতি নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। সেখানে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
এদিকে স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও চরকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল গনি তপাদার বলেন, সাংবাদিকরা পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে স্বচ্ছতা বাড়ে। তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া দুঃখজনক। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি এ সিদ্ধান্ত স্থানীয় নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মূলত আমার নয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মহোদয় ফোনে এ নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা তা বাস্তবায়ন করছি।
অন্যদিকে, গত বছরের এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। কয়েকজন কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মতলব উত্তর উপজেলায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ২ হাজার ৭৩৩ জন, দাখিল ৪৭৪ জন এবং ভোকেশনাল পরীক্ষার্থী ২৩৪ জন অংশগ্রহণ করছে।