June 24, 2026, 10:45 pm
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার সময়ের আলোকে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : এক পুনর্মূল্যায়নের আলোচনা নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইমামপুর ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে ফাইনালে কেশাইরকান্দি ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাব মতলব-গজারিয়া সেতুর অর্থায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, জমি অধিগ্রহণে ১২ কোটি টাকা অনুমোদন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে চাঁদপুর-২ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন এমপি ড. জালাল উদ্দিন সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে মতলব উত্তরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল সুন্দরবনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চক্রে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি কোটচাঁদপুরে মানবপাচার রোধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সমন্বয় সভা মতলব উত্তরে পরকীয়ার সন্দেহে শুরু বিরোধ, শ্বশুর-স্ত্রীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ স্বামীর

ঈমান রক্ষার সতর্কবার্তা : কুফরীর ভয়াবহতা ও আত্মসচেতনতার প্রয়োজন!

Reporter Name

ঈমান মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এটি কেবল একটি বিশ্বাস নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের চিন্তা, কথা, কাজ এবং নৈতিক অবস্থানকে পরিচালিত করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—অনেক মানুষ ঈমান আনার পরেও অজান্তে এমন কিছু কাজ, কথা বা বিশ্বাসে জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের ঈমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই প্রসঙ্গে “কুফর” বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ কুফরী একটি গুরুতর ধর্মীয় বিষয়, যা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

কুফর শব্দটির অর্থ হলো সত্যকে অস্বীকার করা বা ঢেকে রাখা। ইসলামী পরিভাষায়, আল্লাহ, তাঁর রাসূল, কিতাব, আখিরাত বা ইসলামের মৌলিক কোনো বিষয়কে অস্বীকার করা বা তুচ্ছজ্ঞান করা কুফর হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এই বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ ইসলামে কাউকে কুফরের সাথে যুক্ত করা একটি গুরুতর বিষয় এবং এটি জ্ঞান, প্রমাণ ও প্রেক্ষাপট ছাড়া বলা উচিত নয়।

পবিত্র কুরআনে কুফরের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, “আর তারা বলল, আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত; বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তাদেরকে লানত করেছেন। অতঃপর তারা খুব কমই ঈমান আনে।” (সূরা বাকারা ২:৮৮)

আবার বলা হয়েছে, “নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের উপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ ও সকল মানুষের লানত।” (সূরা বাকারা ২:১৬১)

এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, কুফর কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এটি মানুষের আখিরাতের পরিণতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কিন্তু একই সঙ্গে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—কোনো ব্যক্তিকে কুফরের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকা। কারণ বাহ্যিক কিছু কাজ বা কথার পেছনে অনেক সময় অজ্ঞতা, ভুল বোঝাবুঝি বা দুর্বলতা কাজ করতে পারে।

অনেক সময় দেখা যায়, ধর্মীয় বিষয়ে অজ্ঞতা বা অসচেতনতার কারণে মানুষ এমন কিছু কথা বলে বা আচরণ করে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক নয়। কিন্তু এই ধরনের অবস্থায় ইসলামের নির্দেশনা হলো—প্রথমে তাকে বুঝানো, শিক্ষা দেওয়া এবং সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা। কারণ ইসলাম সংশোধনের ধর্ম, কেবল বিচারের নয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে ঈমান আনার পর, তারপর তারা কুফরীতে বেড়ে গিয়েছে, তাদের তওবা কখনো কবুল হবে না। আর তারাই পথভ্রষ্ট।” (সূরা আলে ইমরান ৩:৯০)

এই আয়াতটি একটি গুরুতর সতর্কবার্তা হলেও, একই সঙ্গে কুরআনের অন্যান্য স্থানে তওবার দরজা খোলা থাকার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষ যদি ভুল বুঝতে পারে এবং আন্তরিকভাবে ফিরে আসে, তাহলে আল্লাহ ক্ষমাশীল।

কুফরের প্রসঙ্গ আলোচনায় একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে অস্বীকার করা বা তুচ্ছজ্ঞান করা। যেমন আল্লাহর প্রতি অসম্মানজনক কথা বলা, রাসূল (সাঃ)-এর প্রতি কটুক্তি করা, ইসলামের ফরজ বিধানকে অস্বীকার করা, অথবা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে উপহাস করা—এসব বিষয় ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র কুরআনে আরো বলা হয়েছে, “অতঃপর যারা কুফরী করেছে, আমি তাদেরকে কঠিন আযাব দেব দুনিয়া ও আখিরাতে, আর তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই।” (সূরা আলে ইমরান ৩:৫৬)

তবে এখানে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। কারণ ইসলামে কেবল বাহ্যিক আচরণ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় না; বরং নিয়ত, প্রেক্ষাপট এবং জ্ঞানের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, কিছু মানুষ ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে বা অবহেলা প্রদর্শন করে। আবার কেউ কেউ ইসলামের কিছু বিধানকে যুগের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করে। এই ধরনের আচরণ অবশ্যই ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এগুলো থেকে বিরত থাকা জরুরি। কিন্তু একই সঙ্গে এই ধরনের মানুষের সঙ্গে আচরণ করার ক্ষেত্রে জ্ঞান, ধৈর্য এবং প্রজ্ঞার প্রয়োজন রয়েছে।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর জীবনে কখনো কঠোরতা দিয়ে নয়; বরং জ্ঞান, ধৈর্য এবং উত্তম আচরণের মাধ্যমে মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, একজন মানুষের ভুল হলে তাকে সংশোধন করা উচিত, তাকে দূরে ঠেলে দেওয়া নয়।

কুফরের আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হালাল ও হারামের ধারণা। ইসলামে যা স্পষ্টভাবে হারাম করা হয়েছে, তাকে হালাল বলা বা উল্টোটা করা একটি গুরুতর বিষয়। তবে এটিও বুঝতে হবে যে, অনেক মানুষ অজ্ঞতার কারণে এই ভুলগুলো করে থাকে। তাই তাদের সংশোধনের জন্য সঠিক জ্ঞান পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, মানুষ বিভিন্ন মতবাদ বা চিন্তাধারার প্রভাবে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গে যুক্তি, প্রমাণ এবং সুন্দর ভাষায় আলোচনা করা প্রয়োজন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে।” (সূরা বাকারা ২:৩৯)

এই আয়াতগুলো আমাদের সতর্ক করে, কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের দায়িত্বও মনে করিয়ে দেয়—নিজেদের ঈমান রক্ষা করা এবং অন্যদের সঠিক পথে আহ্বান করা।

ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা হলো—কোনো ব্যক্তির অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেবল আল্লাহই জানেন। তাই আমরা কারো সম্পর্কে সহজে কঠোর রায় দিতে পারি না। আমাদের দায়িত্ব হলো নিজেকে সংশোধন করা এবং অন্যদের জন্য কল্যাণ কামনা করা। কুফরের ভয়াবহতা উপলব্ধি করা যেমন জরুরি, তেমনি এটি নিয়ে অতিরঞ্জিত বা অজ্ঞতাপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া থেকেও বিরত থাকা প্রয়োজন। কারণ ভুলভাবে কাউকে কুফরের সঙ্গে যুক্ত করা নিজেও একটি বড় অন্যায় হতে পারে।

ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী ধর্ম। এখানে সতর্কতা আছে, আবার দয়া ও ক্ষমার সুযোগও আছে। এখানে শাস্তির কথা আছে, আবার সংশোধনের পথও খোলা আছে। তাই একজন সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব হলো—নিজের ঈমানকে মজবুত রাখা, ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাচাই-বাছাই করা।

সবশেষে বলা যায়, কুফর একটি গুরুতর বিষয়, যা নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন, কিন্তু একই সঙ্গে প্রজ্ঞা ও ভারসাম্যও জরুরি। আমাদের উচিত—নিজেদের ঈমান রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা, সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং অন্যদের প্রতি সহনশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করা। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক পথে রাখুন, ভুল থেকে সংশোধনের তাওফিক দিন এবং আমাদের ঈমানকে দৃঢ় রাখুন।

 

লেখক :

আজম পাটোয়ারী
প্রকাশক
আরডিএম মিডিয়া এন্ড প্রকাশনী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা