আমরা অনেক সময় লক্ষ্য করে থাকি যে আমাদের চোখের পাতাগুলো একটু বেশি পরিমাণে কাপছে। চোখের পাতা কাঁপুনি কি সমস্যা? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি কোনো রোগের লক্ষণ নয়। সাধারণত উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি, ঘুমের ঘাটতি বা মানসিক চাপ থাকলে এমন হতে পারে।
চোখের পাতার পেশি, বিশেষ করে ইচ্ছের বিরুদ্ধে চোখের ওপরের পাতার পেশির সংকুচিত হওয়ার কারণেই এমনটা ঘটে। চোখের পাতার অনিচ্ছাকৃত এই কাঁপুনিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় মায়োকাইমিয়া। চলুন জেনে নেওয়া যাক কী কী কারণে এ সমস্যা হতে পারে-
পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া ব্যাহত হয়, যার ফলে চোখের পাতায় মাংসপেশির খিঁচুনি দেখা দিতে পারে।
মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণে চোখের মাংসপেশিতে টান পড়ে, যা কাঁপুনির কারণ হতে পারে।
ক্যাফেইন (চা, কফি ইত্যাদি) বা অ্যালকোহল স্নায়ুতন্ত্রকে অতিরিক্ত উদ্দীপিত করতে পারে, যার ফলে চোখের পাতায় খিঁচুনি শুরু হয়।
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং মনোযোগ নিবদ্ধ করে কাজ করলে চোখের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়, যা কাঁপুনির একটি সাধারণ কারণ।
ড্রাই আই সিনড্রোম বা অ্যালার্জির কারণে চোখের পৃষ্ঠে জ্বালাপোড়া হলে পাতায় খিঁচুনি হতে পারে।
চোখের পৃষ্ঠ অতিরিক্ত আলো বা বাতাসের সংস্পর্শে এলে তা উত্তেজিত হয়ে কাঁপুনি শুরু হতে পারে।
মাইগ্রেন বা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত রোগের জন্য ব্যবহৃত কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চোখের পাতায় কাঁপুনি দেখা দিতে পারে।
ম্যাগনেশিয়াম বা ক্যালসিয়ামের অভাব মাংসপেশির খিঁচুনির অন্যতম কারণ।
উপরোল্লিখিত কারণে চোখের পাতায় কাঁপুনি হলে তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই-এমনটাই বলেন চিকিৎসকেরা। তবে, এই সমস্যা যদি খুব বেশি হয়। যেমন-সারাক্ষণই চোখের পাতা কাঁপতে থাকে, তখন তা স্নায়বিক রোগের (বেলস পালসি, পারকিনসনস ডিজিজ বা ডিসটোনিয়া) লক্ষণ হতে পারে। সারাক্ষণ চোখের পাতা পিট পিট করাকে বলে বিনাইন এসেনশিয়াল ব্লেফারোস্পাজম। চিকিৎসকেরা বলেন, এই রোগ খুবই বিরল, প্রতি ৫০ হাজারে একজনের দেখা যায়। এসেনশিয়াল ব্লেফারোস্পাজমে নারীরাই বেশি ভোগেন।
-পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন ও চাপ কমান: নিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ কাঁপুনি কমাতে সাহায্য করে।
-ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল কমান: এসব উত্তেজক দ্রব্য গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে ফেলুন।
-চোখের ড্রপ ব্যবহার করুন: কৃত্রিম অশ্রু (আর্টিফিশিয়াল টিয়ার) দিয়ে শুষ্কতা বা জ্বালাপোড়া থেকে আরাম পাওয়া যেতে পারে।
-চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: কাঁপুনি যদি দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র হয়, তবে চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তথ্যসূত্র : জনস হপকিন্স মেডিসিন ও আজকের কাগজ।