তাঁরা প্রতিদিন জন্ম গ্রহণ করে না, তাঁরা আসে উল্কাপিণ্ড হয়ে মহাকাল পরে। নিজের জন্য নয়, বরং পুরো সভ্যতার সেবক হয়ে। যাদের হাত ধরে বদলে যায়, মানব ইতিহাস। তাঁরা সমাজকে নতুন দিনের পথে ডেকে নিয়ে চলে। আপন-পর বুঝে না, তাঁরা সবাইকে বুকে জড়িয়ে নেয় ভালবাসার বন্ধনে বেধে। আমি তুমি চাইলেও তাদের মতো মানুষ হতে পারবো না, তবে তাদের সমালোচনা করে নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করে বেড়াতে পারবো। আমি মতলবে জন্মগ্রহণ করা তেমনি একজন রাজনীতিবিদ, রাজনীতি সমালোচক ও মানবহৈতিষী মানুষের কথা বলছি। তিনি আর কেউ নন, মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম পাটোয়ারী সর্বমহলে খোকা পাটোয়ারী নামে ই সুপরিচিত। তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং সেই সাথে একজন দক্ষ হাতের লেখকও বটে। যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দল-মত, আপন-পর কোন ভেদাভেদ করেন না। এমন কি আমি দেখেছি তিনি নিজের সমালোচনাও করতে কৃপণতা করেননি।
পিতা : মফিজ উদ্দিন পাটোয়ারী, মাতা : রাহেলা খাতুনের ঘরে ১৯৬৪ সালের ১১ই এপ্রিল চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলাধীন সুলতানাবাদ ইউনিয়নের আমুয়াকান্দা গ্রামের পাটোয়ারি বংশের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন খোকা পাটোয়ারি। বৈবাহিক জীবনে স্ত্রী শায়লা ইসলাম-এর ঘরে জন্ম নিয়েছেন দুই ছেলে ও এক মেয়ে-কে নিয়ে তাদের সাজানো সংসার।
শিক্ষা জীবন শুরু হয়, চরপাথালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বটতলায় এক ও কে এক পড়ার মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় ১৯৭২ সালে ঢাকার টি এন্ড টি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে ১৯৭৯ সালে এসএসসি ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএসসি পাশ করেন।
রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়, ভিক্টোরিয়া কলেজে থাকাবস্থায় ছাত্র রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হয়ে এবং ১৯৮০ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকে লেখালেখি করলেও কখনও তা প্রকাশ কিংবা বই আকারে করার চিন্তা করেননি। তবে,লিখে গেছেন নিয়মিত। তার লেখাগুলো মূলত সমালোচণামূলক। হোক রাজনীতি কিংবা অন্যকোন বিষয়। তার লেখায় উঠে এসেছে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, ধর্ম ও বিশ্ব পরিক্রমার নানা বিষয়। যেখানে তিনি একজন নিরপেক্ষ লেখক হিসাবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন সবসময়। যদিও তিনি আওয়ামী লীগের একজন রাজনীতিবিদ তারপরও তার লেখায় দেখা যায়, তিনি নিজ দলের সমালোচনাও করতে কখনও দ্বিধাবোধ করেননি। যার কারণে, দলের বহু সিনিয়ার নেতার কাছে বিরাগভাজন হয়েছেন এমন কি বহুবার তাঁর ও তাঁর পরিবারের উপর হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। যদিও বিষয়টা অনেকে মানতে পারেন না। তিনি শুধু মাত্র তাঁর এই লেখনীর কারণে এইসব নির্যাতনের মুখে পরেছেন।
খোকা পাটোয়ারি বাম রাজনীতি থেকে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও দেশত্ববোধ রাজনীতির তুখোর চর্চায় নিয়মিত হয়েছেন। ১৯৯১ইং সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও ১৯৯৬ইং সালের আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িয়ে পড়েন এবং বর্তমানে আওয়ামী কৃষক লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনীতির বাহিরে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হচ্ছে-তিনি একজন লেখক ও রাজনীতি সমালোচক। হোক সেটা নিজ দলের কিংবা অন্যকোন দলের। দেশ, স্বাধীনতা,মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও দেশের মানুষের প্রতি তাঁর ভালবাসা সর্বজনবিদিত। মানুষের উপকারে কখনও কুন্ঠাবোধ করেন না। তিনি নিজ উদ্যোগে মতলব সহ সারাদেশে বহু সমাজসেবা মূলক কাজ করে যাচ্ছেন নিরবে। এই কাজে ঢোল পিটানো বা ফটোসেশন তার অপছন্দের কাজ। তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর কর্ম তাকে বাচিয়ে রাখবে, প্রচারণা নয়। তাই তো নিরবে কাজ করে যান মানুষেল জন্য। খোকা পাটোয়ারী দেশ, সমাজ ও মানুষের সেবায় নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং এটাই তার জীবনের সেরা কর্ম হিসাবে মেনে চলেন।
কর্মজীবনে তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বেসরকারী দেশী ও বিদেশী কোম্পানীতে চাকুরী করেন এবং পরবর্তিতে ১৯৯৬ সাল থেকে নিজে ব্যবসা শুরু করেন এবং বর্তমানে একজন সফল ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসাবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। এলটিকো গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হিসাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রান ও সমাজকল্যান সম্পাদক হিসাবে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন এই মুজিব আদর্শের রাজনীতিবিদ।
ভ্রমন পিয়াসু মানুষটি বিভিন্ন সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো, অষ্ট্রেলিয়া,, সাউথ আফ্রিকা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, চায়না, তাইওয়ান, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, উগান্ডা ও কেনিয়া।
আজ দেশের দূর্দিনে তিনি তাঁর প্রতিবাদী কলম চালিয়ে গেছেন নিজ অবস্থান থেকে কিন্তু এটা বোধ হয় বাক স্বাধীনতার কীর্তনীয়াদের সহ্য হয়নি। আর তাই তো তার কলম থামিয়ে দেয়ার জন্য বিনা অপরাধে অফিস থেকে তুলে নিয়ে যায় তাকে। যা পুরো জাতির জন্য একটি লজ্জাষ্কর ঘটনা। যারা এতদিন দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতার কথা বলে ঢোল পিটিয়েছে তাদের মুখ আজ বন্ধ কিংবা তারা বিক্রয় হয়ে গেছে।
আমরা জানি যে, সহনশীলতাই গণতন্ত্রকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে। গণতন্ত্রের ঐশ্বর্য প্রাচুর্য বৈভব সবটুকুই সহিষ্ণুতা বা সহনশীলতার ওপর নির্ভরশীল। সমালোচনা নেই, পর্যালোচনাও নেই, রাজপথে মিছিলের মুখরিত কলরব নেই, জনসভার মাঠগুলো নির্জন শ্মশানের মতো খাঁখাঁ করে। রাজনৈতিক বিরোধী দল মুমূর্ষু রোগীর মতো ইনটেনসিভ কেয়ারে থাকে, এমনই এক ধূসর জগতের বিদর্ভ নগরে গণতন্ত্রের অনুসন্ধান করা নিতান্তই বোকামি। দুঃখজনক হলেও বাস্তব, যে দেশটি পঞ্চাশ দশক থেকে ষাট দশকের পুরোটাই মৌলিক অধিকারের অনুসন্ধানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ব্যাপৃত ছিল। সেই দেশটি আজ কেন জানি না, নীরব, নিথর, নিস্তব্ধ শ্মশানের মতো। এখানে কোনো প্রাণের স্পন্দন নেই, রাজনীতির সুঘ্রাণেরও বড়ই অভাব। এহেন অবস্থায় যে কোনো দেশপ্রেমিক নাগরিক উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত এবং দুঃসহ যন্ত্রণার নির্দয় দহনে তিলে তিলে দগ্ধীভূত হবেন- এটাই নিতান্ত স্বাভাবিক। আজকে বাংলাদেশের রাজনীতির যে অবস্থা বিদ্যমান, তাতে বুঝতে কষ্ট হয় না, সমগ্র এশিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক আন্দোলনের চঞ্চল প্রবহমান স্রোতস্বিনী এই উদ্গত বঙ্গভূমি আজ এতটাই অচঞ্চল, স্থবির ও নিস্পৃহ যে, এখানে গণতন্ত্রের প্রদীপ্ত সূর্যের আলো ছড়ানোর প্রত্যাশা অনেকটাই তামাশা মাত্র। বাতি নিভিয়ে ফেলা জলসাঘরের অন্ধকারাচ্ছন্ন গুমোট শ্বাসরুদ্ধকর একটি পরিবেশই আজ বাংলাদেশে বিদ্যমান। অথচ গোটা পঞ্চাশের দশক এ জাতি একটা উদগ্র বাসনা নিয়ে তার বাঙালি জাতিসত্তার উন্মেষ বিকাশ ব্যাপ্তি ও প্রতিষ্ঠার ব্যাকুলতায় নিমগ্ন ছিল। দেশে আজ যে থমথমে নিস্তব্ধ ও নিষ্প্রাণ অবস্থা বিরাজমান, এ অবস্থা অবলোকনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার কোনো কারণ নেই। রাজনৈতিক আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে এটি অকল্যাণকর এবং দুরূহ ও দুর্বিষহ সংকটের অশনিসংকেত।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক চর্চাবিবর্জিত ও সৎ, সক্রিয়, সৃজনশীল বিরোধী দলের মহাসংকটে নিপতিত। খোকা পাটোয়ারিকে সম্ভবত তার ভাগ্যই স্কন্ধের বোঝা বয়ে বেড়িয়েছে এবং কালক্রমে তাঁকে সৌভাগ্যের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করিয়েছে। তিনি রাজনীতিক জীবনে বহু বন্ধুর ও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়েছেন। এবার তিনি কারারুদ্ধ হয়েছেন যদিও সেটা ব্যক্তিগত কারণে নয় বরং রাজনীতি ও লেখনীর কারণে। তার শৈশব, কৈশোর ও যৌবন জীবন রাজনৈতিক চর্চার পরিমন্ডলে আবর্তিত ছিল। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা তার প্রিয় বড় ভাই মরহুম শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারির অকালমৃত্যুর বেদনাবিধুর পরিস্থিতিতে মতলবের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষজন তার হাতে স্বপ্নের আলোকবর্তিকাটি তুলে দিয়েছিলেন। তিনি আপন কর্মের জনপ্রিয়তার রেশ ধরেই বেগ করেছেন ক্লান্তিকর অভিযাত্রা।
একটি জাতীয় জীবনের রাজনীতিতে উত্থান-পতন থাকবেই, পথগুলো দুর্গম হবেই। সেই পথগুলোকে চলার উপযোগী করার দায়িত্ব দল-মত-নির্বিশেষে সবার। গণতন্ত্রের জন্য একান্ত আবশ্যক সৎ, অকুতোভয় ও দেশপ্রেমে অভিষিক্ত একজন সৃজনশীল মানুষ কিন্তু বর্তমানে দেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে সেটা অসম্ভব। কোনো রাষ্ট্রেই গণতান্ত্রিক পন্থা বা বিধি-ব্যবস্থা না মেনে চলতে পারে না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে যথাসময়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে জাতীয় বিপর্যয় নেমে আসে। মহামতি অ্যারিস্টটল যথার্থই বলেছেন- ‘গণতন্ত্রের অনেক ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে। তবু অন্য যে কোনো ধারার সরকারের চাইতে গণতান্ত্রিক ধারার সরকারই সর্বোৎকৃষ্ট।’
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নমুখী দেশের জন্য সংসদীয় গণতন্ত্রই প্রণিধানযোগ্য। কারণ, সংসদীয় গণতন্ত্রে যৌথ নেতৃত্ব ও তা জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার রাখে। বিশ্ব ইতিহাস দেখলে আমরা দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে এ দুটি সত্তাই সমুজ্জ্বল, প্রজ্বলিত ও প্রতিভাত হিসাবে দেখতে পাবো। সেখানে কোনো শক্তি গণতন্ত্রের প্রদীপ্ত সূর্যকে চিরদিনের মতো আচ্ছাদিত করতে পারে না। কিন্তু বড় বিচিত্র এই বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন সংসদীয় গণতন্ত্রের রাজনীতি প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এসব অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারলো না। গণতন্ত্রের জন্য দুর্গম পথ পাড়ি দিয়েও একসময় সবার অজান্তেই কেমন করে যেন ব্যক্তিশাসনের অভিশপ্ত ধারা শুরু হয়ে যায়। ব্যক্তিশাসনের কালো মেঘ গণতন্ত্রের অনিরুদ্ধ সূর্যকে কেমন করে যেন বারবার অবরুদ্ধ করে ফেলে।
আমি মতলবের সূর্য সন্তান বাংলাদেশ আওয়ামী কৃষকলীগের একজন নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল নেতা আমিরুল ইসলাম খোকা পাটোয়ারির স্বপ্নময় রাজনীতিক পথ চলার কথা বলছি। যেখানে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহিতা ও দলীয় চেইন অফ কমান্ডের কথা বলতেন। অথচ সেই তিনি আজ মিথ্যা বাহানায় কারারুদ্ধ। এই যদি হয় বাক স্বাধীনতার ফসল, এই যদি হয় লেখনীর মানবতার গল্প। তাহলে চাই না এই বাক স্বাধীনতা আমি চাই না এই মানবতা। কলম যদি ভেঙ্গে ফেলা হয় আর লেখকের মুখ যদি চেপে ধরা হয়, তাহলে কি প্রয়োজন সেই সব তোতাপাখির ভোতা বুলি।
আমিরুল ইসলাম খোকা পাটোয়ারি সর্বসময় একজন অককুতোভয় দেশপ্রেমিক মানুষ। তিনি সত্যকে সত্য আর মিথ্যা কে মিথ্যা বলতে কখনও ভয় পান না। আমি জানি না এই দেশের ভবিষ্যত কোন পথে হাটছে। তবে, কেন জানি মনে হয়-ঠিক পথে নেই মধ্যম আয়ের এই দেশের উন্নয়নের পাল তোলা নৌকার হাল।
লেখক :
আজম পাটোয়ারি
প্রকাশক
আরডিএম মিডিয়া এন্ড প্রকাশনী।