June 25, 2026, 4:08 pm
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার সময়ের আলোকে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : এক পুনর্মূল্যায়নের আলোচনা নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইমামপুর ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে ফাইনালে কেশাইরকান্দি ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাব মতলব-গজারিয়া সেতুর অর্থায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, জমি অধিগ্রহণে ১২ কোটি টাকা অনুমোদন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে চাঁদপুর-২ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন এমপি ড. জালাল উদ্দিন সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে মতলব উত্তরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল সুন্দরবনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চক্রে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি কোটচাঁদপুরে মানবপাচার রোধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সমন্বয় সভা মতলব উত্তরে পরকীয়ার সন্দেহে শুরু বিরোধ, শ্বশুর-স্ত্রীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ স্বামীর

ছাত্ররাজনীতি থেকে এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব : কে এই বিল্লাল হোসেন মিয়াজী?

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
Oplus_16908288

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় এই নেতা ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে আজ জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এক অবস্থানে পৌঁছেছেন।

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর জন্ম ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি। তাঁর পিতা মরহুম মো. আনোয়ার হোসেন এবং মাতা মোসা. সায়েরা বেগম। তিনি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার নন্দলালপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

ব্যক্তিগত জীবনে রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন সফল ঠিকাদার এবং একজন গর্বিত পিতা। তাঁর একমাত্র সন্তান মো. গোলাম ফারুক অভি বর্তমানে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

তিনি স্নাতক (বিএ) ডিগ্রিধারী। পেশাগত জীবনে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার হিসেবে তিনি এলজিআরডি, গণপূর্ত অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার হিসেবে কাজ করে আসছেন। কর্মজীবনে সততা ও দক্ষতার মাধ্যমে তিনি এলাকায় একজন গ্রহণযোগ্য পেশাজীবী হিসেবেও পরিচিত।

বিল্লাল হোসেন মিয়াজি ১৯৮৮ সালে শহীদ নজরুল সরকারি ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি তার। সেখান থেকেই শুরু হয় তার সংগঠক হিসেবে গড়ে ওঠার পথচলা।

পরবর্তীতে তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদল, মতলব উত্তর উপজেলার ১৩ নম্বর ইসলামাবাদ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে তিনি মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে তিনি ২০০৬ সাল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০০৭ সালে তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-তে যোগ দিয়ে রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু করেন। পরের বছর ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-২ আসন থেকে এলডিপির প্রার্থী হিসেবে ‘ছাতা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় পর্যায়ে তার পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।

দলের প্রতি নিষ্ঠা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এলডিপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক করা হয়। পরবর্তীতে তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। বর্তমানে দলের মহাসচিবের পদ শূন্য থাকায় তিনি এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ২০ দলীয় জোট এবং বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। ঢাকার রাজপথে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা দলীয় অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে বারবার।

মানুষের ভোটাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি একাধিকবার রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সহকর্মীদের মতে, বিল্লাল হোসেন মিয়াজী এমন একজন নেতা যিনি মাঠে থাকেন, কর্মীদের পাশে থাকেন এবং সংকটে নেতৃত্ব দেন, এই তিন বৈশিষ্ট্যের বিরল সমন্বয় তার রাজনৈতিক পরিচয়কে আলাদা করেছে।

১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে চাঁদপুর-২ আসনে তার চূড়ান্ত মনোনয়ন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং এলাকায় ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা সব মিলিয়ে বিল্লাল হোসেন মিয়াজী এই আসনে জোটের জন্য একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পছন্দ।

ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে আজ ১০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর রাজনৈতিক জীবন একটানা সংগ্রাম, আন্দোলন ও সাংগঠনিক নিষ্ঠার গল্প। সময়ের সঙ্গে নিজেকে বারবার প্রমাণ করে তিনি আজ শুধু একজন দলীয় নেতা নন, বরং চাঁদপুর-২ আসনের রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা