June 24, 2026, 9:36 pm
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার সময়ের আলোকে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : এক পুনর্মূল্যায়নের আলোচনা নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইমামপুর ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে ফাইনালে কেশাইরকান্দি ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাব মতলব-গজারিয়া সেতুর অর্থায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, জমি অধিগ্রহণে ১২ কোটি টাকা অনুমোদন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে চাঁদপুর-২ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন এমপি ড. জালাল উদ্দিন সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে মতলব উত্তরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল সুন্দরবনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চক্রে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি কোটচাঁদপুরে মানবপাচার রোধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সমন্বয় সভা মতলব উত্তরে পরকীয়ার সন্দেহে শুরু বিরোধ, শ্বশুর-স্ত্রীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ স্বামীর

ধর্ম নয়, প্রদর্শন: ভেতরের ঈমান হারিয়ে বাহ্যিকতার উৎসব!

Reporter Name

ধর্ম মানুষের আত্মিক উন্নতি, নৈতিক শুদ্ধতা এবং স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার একটি পথ। এটি কেবল কিছু আনুষ্ঠানিকতা বা বাহ্যিক আচরণের সমষ্টি নয়; বরং এটি একটি জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের চিন্তা, চরিত্র, আচরণ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকে গড়ে তোলে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—বর্তমান সময়ে ধর্ম পালনের নামে এক ধরনের প্রদর্শনমূলক সংস্কৃতি গড়ে উঠছে, যেখানে ভেতরের বিশ্বাস ও আন্তরিকতার চেয়ে বাহ্যিকতা এবং “দেখানো” বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

আজকাল আমরা প্রায়ই দেখি, কিছু মানুষ ধর্মীয় কাজগুলো এমনভাবে করে যেন তা একটি ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, বরং একটি সামাজিক প্রদর্শনী। তারা নামাজ, রোজা, দান-সদকা কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন সেটি অন্যদের দেখানোর জন্যই করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুশীলনের ছবি, ভিডিও বা পোস্ট শেয়ার করে নিজেদের ধার্মিকতা প্রমাণ করার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে করে ধর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্য অনেক সময় আড়াল হয়ে যাচ্ছে।

ধর্মের মূল শিক্ষা হলো—আন্তরিকতা, বিনয় এবং স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন। ইসলাম ধর্মে বিশেষভাবে “নিয়ত” বা উদ্দেশ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি কাজের মূল্য নির্ভর করে সেই কাজটি কোন উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে তার ওপর। যদি কোনো ইবাদত কেবল মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য করা হয়, তাহলে তা প্রকৃত ইবাদত হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয় না। এই বিষয়টি আমাদের গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

প্রদর্শনমূলক ধর্মচর্চার একটি বড় সমস্যা হলো—এটি মানুষকে ভণ্ডামির দিকে ঠেলে দেয়। যখন কেউ নিজের ভেতরের বাস্তবতার চেয়ে বাইরে একটি আলাদা চিত্র তুলে ধরতে চায়, তখন তার মধ্যে দ্বৈততা তৈরি হয়। সে একদিকে নিজেকে ধার্মিক হিসেবে উপস্থাপন করে, অন্যদিকে তার আচরণে সেই ধার্মিকতার প্রতিফলন থাকে না। এই দ্বৈততা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ধরনের শো-আপ ধর্মচর্চা অন্যদের মধ্যেও ভুল ধারণা তৈরি করে। কেউ যখন দেখে যে ধর্ম পালন মানেই হলো সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়া বা নিজেকে তুলে ধরা, তখন সে ধর্মের গভীরতা উপলব্ধি করতে পারে না। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে ধর্ম একটি বাহ্যিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপিত হয়, যা কেবল কিছু নির্দিষ্ট আচরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

ধর্মীয় অনুশীলন ব্যক্তিগত এবং আত্মিক একটি বিষয়। এটি মানুষের ভেতরের পরিবর্তন ঘটায়, তাকে আরও মানবিক, সহনশীল এবং ন্যায়পরায়ণ করে তোলে। কিন্তু যখন এই অনুশীলনটি প্রদর্শনের উপকরণে পরিণত হয়, তখন সেই আত্মিক পরিবর্তন আর ঘটে না। বরং মানুষ বাহ্যিক আচরণে সন্তুষ্ট থেকে ভেতরের উন্নয়নকে অবহেলা করে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—মানুষ কেন ধর্মকে প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে? এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। অনেকেই চান অন্যরা তাকে ভালো মানুষ বা ধার্মিক হিসেবে দেখুক। দ্বিতীয়ত, আত্মপ্রচার বা নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার মানসিকতা। তৃতীয়ত, প্রকৃত ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব, যার কারণে তারা ধর্মের মূল উদ্দেশ্য বুঝতে পারে না। এই প্রবণতা রোধ করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন সচেতনতা। মানুষকে বুঝতে হবে যে ধর্ম কোনো প্রতিযোগিতা নয়, যেখানে কে কত বেশি দেখাতে পারছে সেটিই মূল বিষয়। বরং এটি একটি ব্যক্তিগত যাত্রা, যেখানে প্রত্যেক মানুষ নিজের ভেতরের উন্নয়নের জন্য কাজ করে।

পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোরও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা যদি ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে পারে—যেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয় নৈতিকতা, সততা, বিনয় এবং মানবিকতার ওপর—তাহলে এই প্রদর্শনমূলক প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। আমরা কী শেয়ার করছি, কেন শেয়ার করছি—এই প্রশ্নগুলো নিজেদের কাছে করা উচিত। যদি কোনো কাজ সত্যিই অন্যদের অনুপ্রাণিত করার জন্য করা হয়, তাহলে তা ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু যদি উদ্দেশ্য হয় নিজের প্রশংসা অর্জন করা, তাহলে তা ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ধর্মের সৌন্দর্য তার সরলতা এবং আন্তরিকতায়। একজন মানুষ নীরবে, বিনয়ের সঙ্গে, কোনো প্রচার ছাড়া যদি তার ইবাদত পালন করে, সেটিই স্রষ্টার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। কারণ সেখানে থাকে খাঁটি নিয়ত এবং প্রকৃত ভালোবাসা। এই বিষয়টি আমাদের মনে রাখা জরুরি।

সবশেষে বলা যায়, ধর্ম পালনের আসল উদ্দেশ্য হলো নিজেকে পরিশুদ্ধ করা এবং স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন করা। এটি কখনোই প্রদর্শনের বিষয় হতে পারে না। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের ভেতরের দিকে তাকানো, নিজের নিয়তকে শুদ্ধ করা এবং বাহ্যিকতার চেয়ে অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। যদি আমরা সত্যিই ধর্মের প্রকৃত মর্ম উপলব্ধি করতে পারি, তাহলে আর শো-আপ করার প্রয়োজন হবে না। কারণ তখন আমাদের প্রতিটি কাজই হবে স্রষ্টার জন্য, মানুষের জন্য নয়। আর সেই অবস্থাতেই একজন মানুষ প্রকৃত অর্থে ধার্মিক হয়ে ওঠে।

 

লেখক :

আজম পাটোয়ারী

প্রকাশক

আরডিএম মিডিয়া এন্ড প্রকাশনী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা