বাংলাদেশে আজকাল এক আতঙ্কের নাম যানবাহন বা গণপরিবহন। ঢাকার রাস্তায় এই যানবাহনের চাকার তলে পিষ্ট হয়েছে শত শত নিরীহ মানুষ।
কেউ স্কুলে যাবার পথে, কেউ বাজার করতে গিয়ে আবার কেউ রাস্তা পার হতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছে। শতকরা ৯০ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা—ই ঘটে থাকে চালকের ভুলে।
চালকের বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, নেশাগ্রস্ত চালকদের দায়িত্বহীন গাড়ি চালনার মর্মান্তিক শিকার হয় সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশে দক্ষ চালকের অভাব রয়েছে এখনো। বেশিরভাগ বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কারের চালক অদক্ষ।
কারোর লাইসেন্স নেই, আবার কেউ গাড়ি চালনার নূন্যতম শিক্ষা গ্রহণ না করেই নেমে পড়ে রাস্তায়। আবার কেউ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালায়, কেউবা ট্রাফিক আইন মানতেই চায়। নিজের মন মতো গাড়ি চালায়। অন্য গাড়ির সাথে গতির প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। এসব বিবেকহীন, নির্বোধ ও অদক্ষ চালকের ভুলে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ৩৭১টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ২৮৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬৮ জন। প্রতিবছর দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। যা রীতিমতো উদ্বেগের !
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। সোচ্চার হতে হবে বেপরোয়া চালকের প্রতি। কারণ তাঁদের ভুল ও অন্যায় কাজের জন্য একটি মানুষের প্রাণ হারাবে, এটা আমরা মেনে নেব না। বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন আইন রয়েছে।রয়েছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আইন। যারা এসব আইন অমান্য করে গাড়ি চালনা করে, তাঁদের জন্য রয়েছে শাস্তির বিধান ও জরিমানা।
তাই রাস্তায় কেউ বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে সাথে সাথে তাকে সতর্ক করুন। প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তা নিন। সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। অন্যের ভুলের কারণে আপনার জীবনে দুর্দশা আসবে, সেটা কাম্য নয়। সেটা কখনো মেনে নেবার নয়। সড়ক পরিবহন আইন, ট্রাফিক আইন মেনে চললে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে আমি মনে করি। ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত গাড়ি চালালে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
দক্ষ ড্রাইভার তৈরি করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে। কারণ একজন দক্ষ ড্রাইভার বা চালকের হাতে যাত্রীরা নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকে। পক্ষান্তরে, একজন বেপরোয়া গাড়ি চালকের হাতে যাত্রী ও পথচারীরা জিম্মি।
লেখক :
ইমরান খান রাজ
কবি ও কলামিস্ট।