চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে জমজমাট হয়ে উঠেছে আগাম শিম চাষ। সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ও অনিয়মিত বৃষ্টির প্রভাব পড়লেও থেমে নেই কৃষকদের মাঠের কাজ। উপজেলার উঁচু জমিগুলোতে এখন একটানা ব্যস্ততা কেউ জমি তৈরি করছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, কেউবা আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যায় মনোযোগী। আগাম বাজার ধরার আশায় কৃষকেরা এখন দিনরাত পরিশ্রম করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছর মতলব উত্তরে ১,০০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হলেও চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২৫০ হেক্টরে। এর মধ্যে ৩৭০ হেক্টর জমিতে আগাম রবি মৌসুমের সবজি চাষ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া চলতি মৌসুমে ১১০ হেক্টর জমিতে শিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, স্থানীয় শিম ২২ হেক্টর, ইপসা-১ জাত ৫৫ হেক্টর এবং নলডক জাত ৩০ হেক্টর।
ছেংগারচর পৌর এলাকার ঢালীকান্দি গ্রামের কৃষক মনির প্রধান জানান, তিনি দেড় একর জমিতে দেশি শিম ও নতুন জাতের কেরালা চাষ করেছেন। এতে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। একই গ্রামের নুর হোসেন ৩০ শতাংশ, কাজল প্রধান ১০ শতাংশ এবং আলী রাজা ১৫ শতাংশ জমিতে শিম চাষ করছেন। কৃষকদের দাবিআগাম ফসল বাজারে তুলতে পারলে দাম ভালো পাওয়া যায়, আর সেই লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন।
আদুরভিটি গ্রামের কৃষক শাহাজালাল ও নুরে আলম প্রধান জানান, প্রতিবছরের মতো এ বছরও তারা আগাম শিম ও অন্যান্য সবজি চাষ করছেন। ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। পাঁচগাছিয়া এলাকার কৃষক মো. সোলাইমান বলেন, আগাম চাষে ঝুঁকি থাকলেও লাভ বেশি। আধুনিক ও জৈব পদ্ধতিতে চাষ করায় সবজির মান ভালো থাকে এবং বাজারেও চাহিদা থাকে বেশি।
ঢালীকান্দি গ্রামের চাষি জয়নাল হাজারী জানান, এখনই তিনি পাইকারি বাজারে শিম বিক্রি করছেন কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। তার মতে, আগাম মৌসুমেই এ ধরনের দাম পাওয়া যায়। চরাঞ্চলের বোরচর এলাকার কৃষকরাও বলেন, শীত শুরু হওয়ার আগেই সবজি বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই সবাই এখন আগাম ফসল তোলার প্রস্তুতিমূলক কাজে ব্যস্ত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, কৃষকদের আগাম সবজি চাষে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উঁচু জমি ও অনুকূল পরিবেশ এ অঞ্চলে শিম চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকেরা এর প্রতি ঝুঁকছেন। আগাম উৎপাদনের ফলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়, ফলে কৃষকের আয়ও বাড়ছে। মাঠপর্যায়ে রোগবালাই দমন, সঠিক সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।