সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মৃৎশিল্পীরা। একনিষ্ঠ চিত্তে নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বাঁশ, খড় আর কাদামাটির গাঁথুনিতে দেবী দুর্গা ও অন্যান্য প্রতিমার কাজ করছেন তারা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ প্রতিমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বানাচ্ছেন। ইতোমধ্যে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশসহ দেবী দুর্গার মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য রং-তুলির কাজ চলছে পুরোদমে।
হিন্দু শাস্ত্রমতে, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে। একইদিন মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজা, আর ২ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
এবার মতলব উত্তর উপজেলায় মোট ৩৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।
সরেজমিনে উপজেলার সাদুল্ল্যাপুর, বাগানবাড়ি, দূর্গাপুর, ইসলামাবাদ, সুলতানাবাদ, গজরা ইউনিয়ন ও ছেংগারচরের বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মণ্ডপে ছোট-বড় প্রতিমা শোভা পাচ্ছে।
স্থানীয় মৃৎশিল্পী খোকন সরকার (৫৬) ও মনোরঞ্জন পাল (৬০) জানান, জন্মের পর থেকেই আমরা প্রতিমা তৈরির কাজের সঙ্গে জড়িত। তবে এখনকার দিনে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। খড়, কাদা, বাঁশ, কাঠ, রং ও অন্যান্য সামগ্রীর দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ প্রতিমার দাম তেমন বাড়েনি। ফলে যা আয় হওয়ার কথা তা আর হচ্ছে না। দুর্গাপূজার সময় প্রতিমা তৈরি করে যে আয় হয়, তা দিয়েই আমাদের সংসার চালাতে হয়। কিন্তু দিন দিন টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সামাজিক মিলনমেলা। মতলব উত্তরে দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম-হিন্দু সম্প্রতির যে দৃষ্টান্ত রয়েছে, তা বজায় রেখেই এবারের দুর্গোৎসব পালন হবে। প্রতিটি মণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, পূজাকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশ প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। নিয়মিত টহলসহ সাদা পোশাকেও পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে। পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কাজ করছি। পূজা যেন সুন্দর ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে মতলব উত্তর জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রতিমার রঙতুলির আঁচড়ে, ঢাকের শব্দে আর ভক্তদের আনন্দঘন পরিবেশে মুখর হয়ে উঠবে পুরো উপজেলা।