June 24, 2026, 11:36 pm
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার সময়ের আলোকে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : এক পুনর্মূল্যায়নের আলোচনা নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইমামপুর ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে ফাইনালে কেশাইরকান্দি ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাব মতলব-গজারিয়া সেতুর অর্থায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, জমি অধিগ্রহণে ১২ কোটি টাকা অনুমোদন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে চাঁদপুর-২ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন এমপি ড. জালাল উদ্দিন সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে মতলব উত্তরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল সুন্দরবনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চক্রে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি কোটচাঁদপুরে মানবপাচার রোধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সমন্বয় সভা মতলব উত্তরে পরকীয়ার সন্দেহে শুরু বিরোধ, শ্বশুর-স্ত্রীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ স্বামীর

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ছাত্রদের হাতে সম্মানীত শিক্ষকগণ লাঞ্চিত!

Reporter Name

দেশে চলমান রাজনীতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ মহল সহজ-সরল অবুঝ ছাত্রছাত্রীদের তাদের প্রিয় শিক্ষাগুরুদের বিরুদ্ধে নানা ফন্দি করে উষ্কে দিচ্ছে। যা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তথা জাতির জন্য এক অশনিসংকেত বলে মনে করি। উক্ত বিশেষ মহল বিভিন্ন স্কুলের অবুঝ ছাত্রছাত্রীদের উষ্কানী দিয়ে শিক্ষকদের পদত্যাগে বাধ্য করছে যা দু:খ ও হতাশাজনক। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন কোন না কোন শিক্ষক এসব অবুঝ ছাত্রছাত্রীদের কাছে হেনস্তার শিকার হয়ে অনেক অভিমান নিয়ে শিক্ষকতা থেকে ইস্তেফা দিচ্ছে। যার প্রভাব আগামীতে আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার উপর পড়বে। সেই সাথে আজকের এই আগামী প্রজন্ম পরবর্তিতে একটি নৈতিক অবক্ষয়ে আক্রান্ত জাতিতে পরিণত হবে। যা ব্যক্তি থেকে সমাজ, রাষ্ট্র এমন কি বিশ্ব পরিমণ্ডলেও দুর্নাম ছড়িয়ে পড়বে। তাই এখনও সময় আছে আমাদের সবার উচিত এসব বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা, না হলে এর ফল সবার ভোগ করতে হবে।

লক্ষণীয়ভাবে দেখা যাচ্ছে দেশে চলমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে কোন একটি মহল ভালমানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সহজ সরল অবুঝ ছাত্রছাত্রীদের উষ্কে দিচ্ছে। যা খুবই দু:খ ও হতাশাজনক। এতে করে ছাত্রছাত্রীদের নৈতিক অবক্ষয় লক্ষণীয় হাড়ে বেড়ে যাচ্ছে। তাই এখনও সময় আছে একজন দায়িত্বশীল ও সচেতন  পিতা-মাতা হিসাবে আপনার সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দিন। না হলে সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন এই সন্তান আপনাকে আমাকে অপমান অপদস্ত করতেও দ্বিধাবোধ করবে না। তাই সকল পিতা-মাতা ও আমার প্রিয় ভাইবোন ছাত্রছাত্রীদের কাছে সবিনয় অনুরোধ থাকবে যে শিক্ষক তোমায় শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতেছে তার প্রতি অমানবিক ও নির্লজ্জ ব্যবহার প্রকাশ করা থেকে বিরত হও। না হলে তোমার আগামীদিন কতটা মারাত্মক বিপদজনক হিসাবে তোমার কাছে আসবে চিন্তাও করতে পারবে না। আমরা ইসলামের অনুসারি হিসাবে জানি ও মেনে থাকি ইসলাম সবসময় একজন শিক্ষককে সম্মানের উচ্চ আসনে সম্মানীত করেছেন। তাই একজন ইসলামের অনুসারি হিসাবে কারো উষ্কানী ও প্রবঞ্চনায় আপন শিক্ষাগুরুর প্রতি বাজে আচরণ থেকে বিরত থাকা সর্বোচ্চভাবে উচিত বলে বিশ্বাস রাখি। একজন শিক্ষককে ইসলাম কতটা সম্মান দিতে বলেছে নিচের আলোচনার মাধ্যমে আমি তোমাদের কাছে সেটা তুলে ধরার সচেষ্ট চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

ইসলামে শিক্ষককের সম্মান ও মর্যাদা :

প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) নিজেকে বলতেন ‘শিক্ষক’।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।’

এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে একজন শিক্ষকের সম্মান ও মর্যাদা দানে ইসলাম কতটা গুরুত্বারোপ করেছেন, এবং শিক্ষকদের সম্মানের পরিপ্রেক্ষিতে হাদিসটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। জাতিকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান শক্তি জোগায় শিক্ষক।  তারা ”মানুষ গড়ার কারিগর।”

তাই তো কবি কাদের নেওয়াজের ভাষায় বলতে হয়, ”শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার/দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার/ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল …/আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির।”

জ্ঞান মানুষকে আলোকিত করে। মূর্খতা ডেকে আনে পতন-পরাজয়। ইসলাম মানুষকে জ্ঞানের পথে চলতে বলে, জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করে। জাহেলি আরবে শিক্ষিত লোক ছিল মাত্র ১৭ জন। তৎকালীন সমাজ ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার এটাও একটা কারণ ছিল।

মহান আল্লাহ সে অন্ধকার সমাজে সর্বপ্রথম নির্দেশ দিলেন, ”পড়ো তোমার প্রভুর নামে—যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন … তিনি মানুষকে শিখিয়েছেন, যা সে জানত না।”…সুরা : আলাক, আয়াত : ১-৫

এ আয়াত থেকেই মুসলিম সমাজে জ্ঞানচর্চা ও তার সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের মর্যাদা ও অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ইসলাম শিক্ষকসহ জ্ঞানচর্চা ও প্রসারের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ”যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?”…সুরা : জুমার, আয়াত : ৯

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ”যাকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে।”… সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬৯

রাসুলুল্লাহ (সা.) শিক্ষকের মর্যাদা সম্পর্কে বলেন, ”কল্যাণকর বিদ্যা দানকারীর জন্য সবাই (প্রাণী ও প্রকৃতি) আল্লাহর কাছে (দোয়া) মাগফিরাত কামনা করে।”…সুনানে তিরমিজি

অন্য হাদিসে এসেছে, ”শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই সওয়াবের অধিকারী।”…ইবনু মাজাহ

প্রিয় নবী (সা.) আরো বলেন, ”সর্বোত্তম দান হলো কোনো মুসলমান নিজে কোনো বিষয়ে জ্ঞানার্জন করে পরে তা অপর মুসলমান ভাইকে শিক্ষা দেয়।”…ইবনু মাজাহ

তবে একজন শিক্ষককে অবশ্যই আদর্শ ও নৈতিকতার অধিকারী হতে হবে। প্রিয় নবী (সা.) যেমনটি বলেছেন, ”নৈতিকতার বিচারে যে লোক উত্তম মুমিনদের মধ্যে সে-ই পূর্ণ ঈমানের অধিকারী।”… তিরমিজি

প্রকৃত শিক্ষকের গুরুত্ব বোঝাতে জাপানি প্রবাদ : Better than a thousand days of diligent study is one day with a great teacher.

অথচ শিক্ষকের জীবনের রূঢ় বাস্তবতায় শোনা যায়—”আমি যেন সেই ভাগ্যাহত বাতিওয়ালা/পথে পথে আলো দিয়ে বেড়াই/কিন্তু নিজের জীবনেই অন্ধকার মালা।”…তালেব মাস্টার, আশরাফ সিদ্দিকী

শিক্ষকের মর্যাদা প্রদানে ছাত্রের প্রতি ইসলামের নির্দেশ :

ইসলাম একজন ছাত্রকে তার শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ প্রকাশের জন্য সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে, যা অন্য ধর্মগুলো যথাযথভাবে করেনি। যদিও শিক্ষকদের সম্মান জানানোর জন্য কোনো দিনক্ষণ বা সময় নির্ধারিত নেই। তারা সবসময় জাতির কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধা পাওয়ার দাবিদার।

শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অতুলনীয় অবদানকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা প্রতিটা ছাত্রের প্রতি দায়িত্ব। সেই সম্মানে ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ১৪৫টি দেশের সুপারিশের মাধ্যমে ইউনেসকো’র কাছে শিক্ষকদের জন্য ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’র দাবি তোলা হয়।  এরপর ১৯৯৩ সালে বিশ্বের ১৬৭টি দেশের ২১০টি জাতীয় সংগঠনের প্রায় তিন কোটি ২০ লাখ সদস্যের প্রতিনিধিত্বকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষক সংগঠন ‘এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল’ গঠিত হয়। তাদের ক্রমাগত দাবি ও অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে ইউনেসকো’র ২৬তম অধিবেশনে ইউনেসকো’র মহাপরিচালক ড. ফ্রেডারিক এম মেয়রের যুগান্তকারী ঘোষণার মাধ্যমে ৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালনের শুভ সূচনা করা হয়। ১৯৯৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই যথাযোগ্য মর্যাদায় ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কিত সাফল্যকে সমুন্নত রাখাসহ আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালের ৫ অক্টোবর থেকে বিশ্বের ১০০টি দেশে এ দিবসটি পালিত হতে থাকে, যা আজও অব্যাহত। যদিও শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের কোনো সময় ও দিনক্ষণের প্রয়োজন নেই। শিক্ষকরা সব সময়ই মর্যাদা ও সম্মানের পাত্র। তারপরও মানুষ গড়ার কারিগরদের সম্মানে সারা বিশ্ব এই দিবসটি পালণ করে।

আমরা জানি একজন শিক্ষক হলেন জাতির সুনাগরিক তৈরির মহান কারিগর। ইসলাম শিক্ষকদের অসামান্য সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছেন। শিক্ষকদের মর্যাদা সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে ছিল ব্যাপক সমাদৃত।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করনে, ”তোমরা জ্ঞান অর্জন কর এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য আদব শিষ্টাচার শিখ। তাকে সম্মান কর; যার থেকে তোমরা জ্ঞান অর্জন কর।”

সুতরাং যার থেকে জ্ঞান অর্জন করা হয় তিনিই আমাদের শিক্ষক। শিক্ষকের মর্যাদায় ইসলামের বক্তব্য ও সংক্ষিপ্ত একটি নমুনা তুলে ধরা হলো- “একবার হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু তার সওয়ারিতে ওঠার জন্য রেকাবে পা রাখলেন। তখন ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রেকাবটি শক্ত করে ধরেন।”

হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত বললেন, ”হে আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাচাতো ভাই! আপনি (রেকাব থেকে) হাত সরান।”

উত্তরে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ”না’, আলেম ও বড়দের সঙ্গে এমন সম্মানসূচক আচরণই করতে হয়।”

এথেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে বংশ বা অর্থে নয়, বরং শিক্ষককে তার সম্মান ও মর্যাদা ইসলাম কত সুন্দরভাবে সাহাবীদের মাধ্যমে প্রদান করে উদাহরণ তৈরি করেছেন।

জ্ঞানই মানুষের যথার্থ শক্তি ও মুক্তির পথনির্দেশ দিতে পারে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই বলেছেন- “আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে বা আমি শিক্ষকরূপে প্রেরিত হয়েছি।”

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষা, শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষক ও শিক্ষার ব্যাপকীকরণে সদা সচেষ্ট ছিলেন। তাই তো প্রিয়নবী বদরের যুদ্ধবন্দিদেরকে মুক্তির জন্য মদিনার শিশুদের শিক্ষা দেয়ার চুক্তি করেছিলেন। যার মাধ্যমে তিনি বন্দিদের মুক্তির ব্যবস্থা করেছিলেন, যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদিন জনৈক বয়স্ক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবারে হাজির হলে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম নিজ স্থান থেকে সরে তাকে জায়গা করে দেন।

তখন তিনি ইরশাদ করেন, ”যারা ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান করে না, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।”… তিরমিজি

ইসলামের দৃষ্টিতে শিক্ষকতা অতি সম্মানিত ও মহান পেশা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সামাজিক দায়িত্ব ও মর্যাদার দিক থেকে শিক্ষকতার পেশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে আমাদের সমাজে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখা হয়। আবার ইদানিংকালে রাষ্ট্র যন্ত্রের অপরিপক্কতার কারণে শিক্ষকরা যথাযথ সম্মান থেকে বঞ্চিত ও অপমানিত হচ্ছে। যা আমাদের সভ্য সমাজের জন্য কোনভাবে কাম্য হতে পারে না। দেশে রাজনীতিক পালা বদলের কারণে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও শারীরিকভাবে নিগৃহীত হতে দেখা যায়। যা অত্যন্ত ঘৃণ্য ও অমানবিক কাজ। আবার অন্যদিকে অনেক শিক্ষককেও দেখা যায়, ‘শিক্ষকতার এ মহান পেশাকে কলংকিত করে নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত কাজে জড়িয়ে পড়ে; এটাও অত্যন্ত ঘৃণিত ও বর্জণীয় কাজ। তবে সেটা সংখ্যায় খুব কম। অথচ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন-”শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ছাড়া কেউই আমার আপন নয়।”

পরিশেষে বলতে হয়

শিক্ষকের প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান। আসুন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের অনুসরণ করার চেষ্টা করুন। কোন ব্যক্তির উষ্কানী ও প্রলোচণায় পড়ে প্রিয় শিক্ষাগুরুর সাথে খারাপ আচরণ করবেন না। শিক্ষকদের কে যথাযথ মর্যাদা দিতে শিখুন। শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করে দুনিয়া ও পরকালে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা প্রতিটা ছাত্রছাত্রীর নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের দেশে গত কিছু দিন যাবত রাজনীতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে একটি বিশেষ মহলের উষ্কানীতে অবুঝ ছাত্ররা তাদের প্রিয় শিক্ষাগুরুর সাথে যা করছে তা সত্যি হতাশা ও দুঃখজনক। আল্লাহ পাক আমাদের এই অবুঝ ছাত্রছাত্রীদের সহিহ জ্ঞান দান করুন ও শিক্ষককের সাথে সদাচার করার তৌফিক দিন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমিন।

 

লেখক :

আজম পাটোয়ারী

প্রকাশক

আরডিএম মিডিয়া এন্ড প্রকাশনী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা