June 24, 2026, 11:48 pm
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে সক্রিয় ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারি; গোয়েন্দা নজরদারিতে অপরাধী চক্র যুবসমাজ যত বেশি মাঠমুখী হবে, ততই তারা মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে : আলমগীর সরকার সময়ের আলোকে জেনারেল (অব.) ড. আজিজ আহমেদ : এক পুনর্মূল্যায়নের আলোচনা নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইমামপুর ক্রীড়া চক্রকে হারিয়ে ফাইনালে কেশাইরকান্দি ইয়ং স্পোর্টিং ক্লাব মতলব-গজারিয়া সেতুর অর্থায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, জমি অধিগ্রহণে ১২ কোটি টাকা অনুমোদন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে চাঁদপুর-২ আসনের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরলেন এমপি ড. জালাল উদ্দিন সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে মতলব উত্তরে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল সুন্দরবনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চক্রে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি কোটচাঁদপুরে মানবপাচার রোধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সমন্বয় সভা মতলব উত্তরে পরকীয়ার সন্দেহে শুরু বিরোধ, শ্বশুর-স্ত্রীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ স্বামীর

রাজনৈতিক শুন্যতা

Reporter Name

বর্তমানে দেশে রাজনীতির চরম দুর্দিন চলছে, রাজনৈতিক শুন্যতা। রাজনীতিবিদরা আজ রাজনীতিতে নেই, রাজনীতিজীবিদের দখলে রাজনীতির ময়দান। রাজনীতিজীবিদের চাপে হারিয়ে যাচ্ছে সত্যিকারের রাজনীতিবিদ। আজকাল পেশার কাতারে নতুন করে যোগ হয়েছে রাজনীতি।

আমরা যখন ছাত্র রাজনীতি করি তখন পর্যন্ত রাজনীতি পেশা ছিল না । বেশী দিনের কথা হয় আশির দশকের কথা। পেশা হিসাবে ছিল পেশাজীবি, বুদ্ধিজীবি, আইনজীবি,মৎস্যজীবি ইত্যাদি কিন্তু রাজনীতি ছিল ”বিদ” যার সরল অর্থ করলে দাড়ায় রাজনীতিবিদ যারা, ওনারা রাজনীতির বিজ্ঞ ছিল কিন্তু রাজনীতির মাধ্যমে আয় তো হতোই না, যথা নিয়মিত ব্যয়  হতো। রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারনী বিজ্ঞ লোকদেরকে রাজনীতিবিদ বলতেন। রাজনীতিবিদ মানেই ছিল ত্যাগ ও দেওয়া। জনকল্যানে সাহায্য সহযোগিতা, সম্মান, সেবা, মানবকল্যানে এগিয়ে যাওয়া, ভাল ব্যবহার, নীতিবান ও নীতি বাক্য ও সর্বপরি সম্ভব হলে আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা দিতে হতো। এটাই ছিল রাজনীতিবিদের মূল মন্ত্র।

 

তখন কার দিনে রাজনীতিকে কেউ কোন ভাবেই পেশা হিসাবে চিন্তাই করতেন না। রাজনীতি ছিল জনকল্যানে জনসেবা। মানুষ নত মাথায় আন্তরিকতার সাথে রাজনীতিবিদদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন।

১৯৭১ এর পরাজিত শক্তি এ দেশটাকে যেমন মানতে পারে নাই, তেমনি তারা বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করে,দেশকে বুদ্ধিহীন জাতিতে পরিনত করতে চেয়েছিল। এদেশের মুক্তিযোদ্ধের একটা অংশকে টাকার বিনিময় ও ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে বিপদগামী করেছিল। সেই বিপদগামীদের সাথে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে খন্দকার মোস্তাকদের তৈরী করেছিলেন। সেই অনুপ্রবেশকারী রাজনীতিবিদরা রাতারাতি রাজনীতিজীবি হয়ে উঠেন। ঘটিয়েছিলেন ইতিহাসের ভয়াবহ ১৫ই আগষ্ট এর মত নির্মম ইতিহাস। সেদিন থমকে গিয়েছিলো বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা,দেশটাকে তারা পিছনের  দিকে চালিত করেছিল।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে, পোষাকি  স্বৈরশাসক দল জোর করে ক্ষমতায় এসে সামরিক শাষন থেকে বের হয়ে রাজনীতিবিদ তৈরি করেI

“Make the politics critical and Money is No problem“ বাণী দিয়ে রাজনীতিতে পেশাজীবি ব্যবসায়ীদের ঢুকিয়ে খিচুরী মার্কা রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরী করে নাম দিলেন জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল আর সেদিন থেকে ভানুমতির খেলা শুরু হলো রাজনীতিতে।পচন ধরলো আদর্শিক রাজনীতিতে।

রাজনীতিতে শুরু হলো ব্যবসা অন্যদিকে দেশীয় টাকাওয়ালারা বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরী করলেন রাজনীতিকে। আবার আর্মিদের পদ একটি বাড়লো, অবসরের পর বা আগে রাজনীতির পদ দখল। যা আজও চলমান দেশের বড় বড় পদে। তখন থেকে রাজনীতিবিদদের প্রয়োজন ফুরাতে শুরু করলো।

আব্রাহাম লিংকনের অমর গনতন্ত্রের বানী ”By the people, For the people , Of the people“ ( জনগনের জন্য, জনগনের দ্বারা, জনগনের সরকার) নিরবে কেঁদে কেঁদে নির্বাসনে চলে যায়। গনতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা তৈরী হয়, people (জনগন) দরকার হয় না, “ By the Money, For the Money and Of the Money “ (টাকা দ্বারা, টাকার জন্য, টাকার মাধ্যমেই ক্ষমতায় যাওয়া)।

দিন দিন আদর্শ রাজনাতিবিদরা গর্তে ঢুকে যান আবার কেউ কেউ আতেল সেজে রাজনীতিজীবি হয়ে যান। টাকার কাছে নিজেকে ও দলকে সপে দেন । ধ্বংশ হতে থাকে আদর্শিক বাম রাজনীতি। এই সুযোগে উত্থান ঘটতে থাকে অপরাজনীতি,জঙ্গিবাদ,ধর্মীয় রাজনীতির । রমনা বটমূলে হামলা,বাংলাভাই, ২১শে গেনেট হামলা, পেট্রোল বোমা সহ আরো কত ইতিহাস যার ফলাফল জাতি ইতিমধ্যেই বেশ ভাল ভাবে টের পেয়েছেন। চরম আঁকার ধারন করেছিল দেশের রাজনীতি এবং সৃষ্টি হল ১/১১। দেশ ও জাতির অশেষ রহমতে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া জাতির জনকের কন্যা ।৭১ এর মত ভঙ্গুর অর্থনীতির উপর দাড়ানো দেশটাকে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তারপর থেকে শুরু হয় ঘুরে দাড়ানোর প্রত্যয়। দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে মাত্র এক যুগের মধ্যে ডিজিটাল স্বপ্নের বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশেকে উজ্জল নক্ষত্র হিসাবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেন। কিন্তু হায় ষড়যন্ত্র শেষ হয় না…সেই উইপোকার দল ও দলীয় রাজনীতিজীবিদের ঘাড়ে ভর করে সুকৌশলে অনুপ্রবেশ চলতে থাকে : দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করে দেশের অর্থনীতিকে পিছন থেকে টেনে ধরেন। নেত্রী ও দলের সরলতার সুযোগ নিয়ে গোপনে দলীয় বেশ কিছু নেতাদেরকে টাকা, সন্ত্রাস, মাদক, জুয়া ও ক্যাসিনোর মধ্যে ঢুকে দল, সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টে লিপ্ত হয়। সেই মোস্তাকগংদের মতই এলাকাভিত্তিক দলীয় বেইমান ও রাজনীতি জীবিরা সমাজকে ঘিরে ধরেছেন সর্বনাশের আশায়। আজ চার দিকে তাকিয়ে দেখেন কোথাও রাজনীতিবিদ নেই, সবাই রাজনীতিজীবি। টাকা ছাড়া এদের আর কোন ধর্ম-কর্ম নেই। অন্যদিকে দলে অনুপ্রবেশকারীদেরকেও চিহ্নিত করে ধরতে হবে, রক্ষা করতে হবে দেশ ও জাতিকে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দৃঢ় প্রত্যায়ে চারপাশের কচুরিপানা পরিষ্কার করা। রাজনৈতিক এই শুন্যতার সুযোগে অনেক অনুপ্রবেশকারী দলীয় শৃংখলাভঙ্গ করে বিপদগামী করতে পারে দল ও দেশকে।

বর্তমানে এই চরম রাজনৈতিক শুন্যতা চলছে দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। এই রাজনৈতিক শুন্যতা পূরণ করতেই হবে। ত্যাগী  নেতা-কর্মীরাই পারবেন এই শুন্যতা পূরণ করতে আর বসে থাকার সময় নেই। এই জন্য দরকার আদর্শ রাজনীতিবিদের সহযোগিতা। আপনারা এগিয়ে আসুন আদর্শবাদ নেতা কর্মী সমর্থকরা। প্রতিরোধ করতে হবে স্বাধীনতা বিরোধী অনুপ্রবেশকারী রাজনীতিজীবিদের। ধরে ফেলতে হবে অঘটন ঘটার আগেই। সুতরাং এখনই সময় সমস্ত রাগ অভিমান ভুলে দেশ ও জাতির কল্যানে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। ধরিয়ে দিতে হবে এলাকাভিত্তিক অনুপ্রবেশকারী, সন্ত্রাসী,চাদাবাজ,টেন্ডার কমিশনবাজ, মাদক, জুয়া ও ক্যাসিনো বানিজ্যকারী অশুভ চক্রকে। তাই আসুন সবাই মিলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, জুয়াখেলা, টেন্ডারবাজ, ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশগ্রহন করি । জয় আমাদের হবেই হবে। ইনশাল্লাহ

লেখক :

আমিরুল ইসলাম (খোকা) পাটোয়ারি

রাজনীতিবিদ ও কলামিস্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা