September 8, 2026, 5:00 pm
শিরোনামঃ
কোটচাঁদপুরের প্রবীণ সাংবাদিক শেখ নজরুল ইসলামের মৃত্যু আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় মতলব উত্তরে গ্ৰীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পুলিশের অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার গ্রেপ্তারের তথ্য দেরিতে প্রকাশ মতলব উত্তরে পৃথক ঘটনায় কিশোরীসহ দুজনের আত্মহত্যা মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের আগ্রাসন ; মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে রামপালের জনপদ বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রানু মজুমদার মতলব উত্তরে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ মায়ের হাত ধরে হাঁটছিল শিশু ফারিয়া, বেপরোয়া ট্রলির ধাক্কায় কেড়ে নিল প্রাণ মতলব দক্ষিণে ৪৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৩২ শিক্ষার্থী পেলে ফুটবল বুট

স্কুলছাত্রীর সাথে কথা বলায় জেলেকে ধরে বিদ্যালয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের শরীফ উল্লাহ্ হাইস্কুল এন্ড কলেজে এক জেলেকে ধরে এনে বেত্রাঘাত ও জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে।

জানা যায়, অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসার সময় সটাকী বাজার সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের সামনে একই এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আল-আমিন (২৫) নামের ওই জেলেকে মেয়েটির সাথে কথা বলতে দেখে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য লাদেন সরকার তাকে ধরে স্কুলে নিয়ে আসে।

পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শরীফ উল্লাহ’র কক্ষে তাকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর করানো হয় এবং তার নির্দেশে শিক্ষক রুহুল আমিন তাকে বেত দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনার পর থেকে আল-আমিন লোকলজ্জার ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

স্থানীয়রা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় যুবক বলেন, আল-আমিন অন্যায় কিছু করেনি। প্রকাশ্যে কথা বলছিল। এ কারণে তাকে ধরে এনে মারধর ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়েছে এটা অন্যায়।

আল-আমিনের বড় বোন নার্গিস আক্তার বলেন, আমার ভাই শুধু কথা বলেছে এই কারণে তাকে স্কুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। এখন লোকজন তাকেই দোষী মনে করছে। সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমার ভাইয়ের কিছু হলে দায়ভার কে নেবে?

এদিকে দাতা সদস্য লাদেন সরকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি বিষয়টি লোকমুখে শুনে মেয়েটিকে উদ্ধার করে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাই। পরে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শরীফ উল্লাহ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সে আমার স্কুলের ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করছিল। তাই স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়েছে। তাকে কয়েকটি বেত মারা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না এমন লিখিত নেওয়া হয়েছে। ছোটখাটো বিষয় হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়নি এবং আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, আপনাদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানলাম। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, গতকাল আমি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রধান শিক্ষক আমাকে কিছু জানায়নি। শিক্ষার্থীর বাইরে থাকা কোনো ব্যক্তিকে বিদ্যালয়ে এনে নির্যাতন করা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ ভুল এবং এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা