আল বিদা মাহে রমজান আল বিদা। সমাপ্তি পথে আত্মশুদ্ধির মাস পবিত্র মাহে রমজান। বিশ্বের মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ মাসটির নাম মাহে রমজান। আজ ২৭ রমজান,২৮ মার্চ , শুক্রবার পবিত্র জুমাতুল বিদা। এবারের মত মাহে রমজানের আখিরী বা শেষ জুম্মা। তাই কুমিল্লার বিভিন্ন মসজিদগুলোতে ছিলো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল। পবিত্র রমজান মাসের শেষ জুম্মার নামাজে কাঁধে কাঁধ মেলান ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। অনেকে মসজিদে জায়গা না পেয়ে আশেপাশের সড়কে জুম্মার নামাজ আদায় করেন। পবিত্র রমজান মাসের রহমত, মাগফিরাত এর মত নিয়ামত অতিবাহিত হয়ে নাজাতের শেষ সময়ে আজ ২৭ রমজান জুম্মাতুল বিদার জুম্মার নামাজ সম্পন্ন হল।
এদিকে, রমজান মাসের শেষ জুম্মায় প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন মসজিদগুলোতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। শহরের প্রায় প্রতিটি মসজিদেই ছিল মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়।
নাজাত দশকের শেষ শুক্রবার জুম্মাতুল বিদা রমজান মাসে আখেরী বা শেষ জুম্মার নামাজে শহরের কান্দিরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, শাহ্ আব্দুল্লাহ গাজীপুরি (দারোগাবাড়ী), চকবাজার আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন জামে মসজিদ, কালিয়া জুরি জামে মসজিদ,শাহপুর দরবার শরীফ জামে মসজিদ,ছোবহানিয়া জামে মসজিদ, গাউছিয়া জামে মসজিদ, বুড়িচং উপজেলা কমপ্লেক্স জামে মসজিদ, ফকির বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, আনন্দপুর পশ্চিম পাড়া শাহ্ সালাম জামে মসজিদ , কালিকাপুর বাজার জামে মসজিদ সহ বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে দেখা মিলে মুসল্লিদের মসজিদে কানায় কানায় পরিপূর্ণ। অনেক মুসল্লিরা মসজিদে জায়গা না পেয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন মূল সড়কে। মুসল্লিদের নামাজের কাতার সড়কে চলে আসে। ওই দিন যথাযোগ্য মর্যাদা আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জুম্মার নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
এছাড়া মুসল্লিরা মসজিদের মূল অংশ ও বারান্দায় যে যেভাবে পেরেছেন এ জুম্মা নামাজ জামাতে শামিল হতে জায়গা করে নেন। দেখা মেলে এক মুসলিম ভাইয়ের প্রতি অন্য ভাইয়ে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব। নিজের দাঁড়ানোর জায়গাটুকু আরও সংকুচিত করে অপর ভাইকে জায়গা করে দেন অন্য মুসলিম ভাই। ধনী–গরিব ভেদাভেদ ভুলে একই কাতারে শামিল হন তারা। পাঞ্জাবি–টুপি আর হাতে জায়নামাজ নিয়ে মুসল্লিদের শেষ জুম্মাতে উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।
তাছাড়া জুম্মাতুল বিদায় মসজিদে মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ খুতবাহ পাঠ করা হয়। জাকাত আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে ঈমান নিয়ে চলার উপর বয়ান করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব গন। খুতবাহ শেষে মুসল্লিরা এক সাথে নামাজ আদায় করেন। পরে মৃত, অসুস্থ সহ দেশ, জাতি ও বিশ্ববাসীর শান্তি – সমৃদ্ধি, বিশেষ করে ফিলিস্তিনের মুসলিম ভাই,বোনদের রক্ষা ও বিজয় কামনায় মোনাজাত করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুমিন মুসল্লিদের চোখ ডেকেছে অশ্রুর বান। আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে প্রার্থনা করেছে এই বরকতময় রমজানকে উসিলা করে যেন সকল মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহ মাফ করে দেন।
সকল মুসল্লিদের আফসোস হায় চলে গেল রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাস ছিল কবরবাসীদের সকল আজাব থেকে মুক্তির মাস। আল বিদা মাহে রমজান আল বিদা। মাহে রমজানের শেষ জুম্মা অতীব গুরুত্বময় ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। এ দিন গুনাহ মাফ ও নাজাতের জন্য কান্নাকাটির দিন। এ জন্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সমবেত হন মসজিদে। আল্লাহর কাছে দু’ হাত তুলে রোনাজারি করে নিজেদের কবর আজাব ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কাঁদেন আল্লাহর দরবারে।
রমজানের শেষ সময়ে এসে উচ্চারিত হয় আল বিদা, আল বিদা, ইয়া শাহরু রামাজান। অর্থাৎ বিদায়, বিদায় হে মাহে রমজান। সবাইকে আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা,ঈদ মোবারক।
লেখক:
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির
ধর্ম ও সমাজ বিশ্লেষক, অনুষ্ঠান উপস্থাপক ও চেয়ারম্যান
গাউছিয়া ইসলামিক মিশন,কুমিল্লা।