চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ও কলাকান্দা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে আজ (শুক্রবার) সকাল থেকে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলার লতরদী, পাঁচআনীসহ অন্তত ১৩টি গ্রামের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদ উদযাপন করছেন।
প্রায় দুই শত বছর ধরে এ অঞ্চলের মুসলমানরা সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। মূলত চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মির্জাখিল দরবার শরীফের অনুসারীরা এ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। এই ঐতিহ্য মতলব উত্তর উপজেলার উল্লেখিত গ্রামগুলোতেও চলে আসছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে।
আজ সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন মসজিদ ও ৭টি ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন মুসল্লিরা। গ্রামজুড়ে ঈদের আমেজ বিরাজ করছে।
সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষেরা দুই শত বছরের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। আমরা সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ইসলামি মাস গুণি এবং সেই অনুযায়ী নামাজ, রোজা, ঈদ উদযাপন করি। এবারও আমরা সকালে নামাজ আদায় করেছি ও পশু কোরবানির আয়োজন চলছে। সারা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
পাঁচআনী গ্রামের মুসল্লি আবদুল কাদের বলেন, আমরা বহু পুরনো ঐতিহ্য মেনে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করি। আমাদের বাবা-দাদারাও এভাবেই পালন করতেন। তাই আমরাও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছি। আজ সকালে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের নামাজ পড়েছি, এখন কোরবানির প্রস্তুতি চলছে। খুব আনন্দের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপন করছি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, আমাদের এখানকার কয়েকটি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা উদযাপনের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। আজ ১৩টি গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমরা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।
এদিকে উপজেলার অন্য অংশে এবং চাঁদপুর জেলার এলাকাগুলোতে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল (শনিবার) ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।