গত অক্টোবর মাসে মতলব উত্তরে ২০ জন ও মতলব দক্ষিণে ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়াও মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে পরিচালিত অভিযানে আসামি গ্রেপ্তার করেছে ১৪৬ জন।
গত১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৬ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে কুখ্যাত দস্যুবাহিনীর প্রধান ২ ডজন মামলার আসামি কাবিল এবং ২৩ মামলার আসামি সুমন প্রধানীয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
মতলব (এএসপি সার্কেল) অফিস সূত্রে জানা গেছে, মতলব দক্ষিণ থানায় অক্টোবর মাসে ১৪টি মামলায় ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযানে ২৮০ পিস ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে মতলব উত্তর থানায় ২১টি মামলায় ২০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযানে ২১০ গ্রাম গাঁজা ও ৫৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ এর আওতায় অক্টোবর মাসে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে নৌ পুলিশের সহায়তায় ৬২টি মামলায় ১৪৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে কোর্টে চালান করা হয়েছে।
মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মতলব সার্কেল এএসপি জাবীর হুসনাইন সানীব পরিচালিত এক অভিযানে ২৩ মামলার আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক সুমন প্রাধানিয়া, তার সহযোগী ইউসুফ প্রাধানিয়া ও মেহেদিকে (১ নভেম্বর) ২৫ পিস ইয়াবা ও ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে।
অপর এক যৌথ অভিযানে মতলব সার্কেল এএসপি জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে মতলব উত্তর পুলিশের দল নিয়ে গুয়াগাছিয়ার কুখ্যাত দস্যুবাহিনীর প্রধান কাবিল ডাকাতকে (৫ নভেম্বর ) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কাবিল ডাকাতের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকসহ দুই ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট ডাকাত কাবিল গুয়াগাছিয়া অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানে।
এছাড়া (৬ নভেম্বর)গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ মাদারতলী এলাকায় গাঁজা চাষের তথ্য পেয়ে অভিযান চালিয়ে রোপণ করা গাঁজা গাছ জব্দ করা হয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার(মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, পুলিশের সক্রিয় তৎপরতার ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। তিনি জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর মাসে আমি এখানে যোগদান করেছি। প্রায়ই অভিযান চালিয়ে থাকি। মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলাকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি মতলব থেকে ইয়াবা, মাদক দূর করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও অন্যান্য যে কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রয়েছি। অপরাধী যেই হউক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে ডাকাত, ছিনতাইকারী, দুষ্কৃতকারী, মাদক কারবারি, বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার পর প্রশংসায় ভাসছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। মাদকসহ অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকুক এমনটাই প্রত্যাশা করছে সাধারণ মানুষ।