ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নবুয়তের সত্যতার অন্যতম বড় প্রমাণ হচ্ছে তাঁর সুমহান ব্যক্তিত্ব এবং তিনি নিজে যে মহান চরিত্র, উত্তম স্বভাব, সুন্দর বৈশিষ্ট্য ও সুমহান গুণাবলীতে ভূষিত ছিলেন। যেহেতু হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সুমহান চরিত্র ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে মানবীয় সর্বোচ্চ স্তরে (কামালিয়তে) পৌঁছেছিলেন; যে স্তরে পৌঁছা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে প্রেরিত কোন নবী-রাসূল ছাড়া অন্যকারো পক্ষে সম্ভবপর নয়। যত প্রশংসনীয় আচরণ আছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সে দিকে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটার নির্দেশ দিয়েছেন, সেটার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন, নিজে সেটার উপর আমল করেছেন। যত খারাপ আচরণ আছে সেগুলো থেকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নিষেধ করেছেন, সতর্ক করেছেন এবং নিজে সেটা থেকে সবচেয়ে দূরে ছিলেন। এমনকি চরিত্রের উপর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর অধিক গুরুত্বারোপ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাঁর রিসালাত (মিশন) ও নবুয়তের দায়িত্বকে চরিত্র গঠন, সচ্চরিত্রের প্রসার এবং জাহেলী সমাজ যতটুকু চরিত্র নষ্ট করেছে সেটা সংশোধন করা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন: “আমি সচ্চরিত্রকে পূর্ণতা দিতে প্রেরিত হয়েছি।”…মুসনাদে আহমাদ-৮৭৩৯
হাইছামী ‘আল-মাজমা’ গ্রন্থে বলেছেন: হাদিসটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন, হাদিসটির বর্ণনাকারীগণ সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারী। ইজলুনি তার ‘কাশফু কিফা’ গ্রন্থে হাদিসটির সনদকে সহিহ বলেছেন এবং আলবানী ‘সহিহুল জামে’ গ্রন্থে (২৩৪৯) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
এরপর মোজেজা রাসূল (সাঃ)-এর সত্যতার পক্ষে প্রমাণ। কেননা তিনি মানুষকে বলবেন যে, তিনি আল্লাহ্ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল। তখন কিছু লোক তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে প্রমাণ দিতে বলবে। তাই আল্লাহ্ তাঁকে মোজেজা দিয়ে সাহায্য করেন। মোজেজা হচ্ছে অলৌকিক বিষয়। আবার কারো পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ বা মিথ্যায়ন না ঘটলেও মোজেজা দেয়া হতে পারে। তখন সেটা দেয়া হয় রাসূলের অনুসারীদেরকে অবিচল রাখার জন্য। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে এমন বহু মোজেজা আল্লাহ পাক দিয়েছেন নবূয়্যাতের সত্যায়ন স্বরুপ।
দাওয়াতের সার নির্যাস
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মূল দাওয়াত শরিয়তসিদ্ধ ও সুষ্ঠু বিবেকগ্রাহ্য ভিত্তির উপর সঠিক আকিদা-বিশ্বাস বিনির্মাণের মধ্যে সংক্ষেপিত। তাঁর বিশ্বাসগুলো হচ্ছে- আল্লাহ্র প্রতি ঈমানের দিকে আহ্বান, উপাসনায় (উলুহিয়্যত) ও প্রভুত্বে (রুবুবিয়্যতে) তাঁর এককত্বের প্রতি ঈমান আনার প্রতি দাওয়াত। তথা উপাসনা পাওয়ার অধিকার এক উপাস্য ছাড়া অন্য কারো নয়। আর তিনি হচ্ছেন—আল্লাহ্ তাআলা। কেননা তিনিই হচ্ছেন—এই মহাবিশ্বের প্রভু, স্রষ্টা, মালিক, নিয়ন্ত্রণকারী, পরিচালনাকারী, নির্দেশদাতা। যিনি কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক। যিনি সকল সৃষ্টিকুলের জীবিকার মালিক। অন্য কেউ এতে তাঁর সাথে অংশীদার নয়। তাঁর সমকক্ষ বা তাঁর অনুরূপ কেউ নেই। তিনি অংশীদার, সমকক্ষ ও সমতুল্য থেকে পবিত্র। আল্লাহ্ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন: “বলুন: তিনি আল্লাহ্, তিনি এক। আল্লাহ্: সবাই যার মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি। আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।”…সূরা আল-ইখলাছ, আয়াত ১-৪
আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে আরও বলেছেন: “বলুন, আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার কাছে ওহী আসে যে, তোমাদের উপাস্য এক উপাস্য। অতএব, যে তার প্রভুর সাক্ষাৎ কামনা করে সে যেন সৎকাজ করে এবং তার প্রভুর ইবাদতে কাউকে অংশীদার না করে।”…সূরা কাহাফ, আয়াত: ১১০
অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর দাওয়াত হচ্ছে সব ধরণের শির্ককে নির্মূল করা এবং বাতিল যা কিছুর উপাসনা করা হয় সে সব থেকে মানুষ ও জ্বিনকে মুক্ত করা। পাথর-পূজা, গ্রহ-নক্ষত্র-পূজা, কবর-পূজা, সম্পদ-পূজা, প্রবৃত্তি-পূজা, বিশ্বের তাগুত ও শাসকদের পূজা; এ সব কিছুকে নাকচ করা। নিশ্চয় এটি হচ্ছে মানবজাতিকে দাসদের দাসত্ব থেকে মুক্তির দাওয়াত। তাদেরকে পৌত্তলিকতার লাঞ্ছনা থেকে, তাগুতদের অবিচার থেকে নিষ্কৃতির ডাক। কুপ্রবৃত্তি ও বেপরোয়া কামনার শৃংখল থেকে মুক্তির আহ্বান। এই মুবারকময় দাওয়াত পূর্ববর্তী তাওহীদের (একত্ববাদের) দিকে আহ্বানকারী রাসূলদের রিসালাতের সম্প্রসারণ ও সাব্যস্তকরণ হিসেবে গণ্য। এ কারণে ইসলাম সকল নবী ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনার দিকে আহ্বান করে; তাদেরকে সম্মান করার সাথে সাথে এবং তাঁদের প্রতি অবতীর্ণ হওয়া কিতাবগুলোর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানায়। এ ধরণের দাওয়াত নিঃসন্দেহে সত্য দাওয়াত।
সুসংবাদসমূহ
পূর্ববর্তী নবীদের কিতাবসমূহ দ্বীন ইসলাম ও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগমনের সুসংবাদ বার্তা নিয়ে এসেছে। কুরআনে কারীম আমাদেরকে জানিয়েছে যে, তওরাত ও ইঞ্জিলে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে সুস্পষ্ট সুসংবাদ বাণীসমূহ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সুসংবাদে পরিস্কারভাবে তাঁর নাম ও বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ আছে। আল্লাহ্ তাআলা বলেন: “(এরা তো তারাই) যারা সেই রাসূল ও নিরক্ষর নবীর অনুসরণ করে যার কথা তারা তাদের তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পাচ্ছে। তিনি তাদেরকে ভালকাজ করার আদেশ দেন ও মন্দকাজ করতে নিষেধ করেন, তাদের জন্য ভাল জিনিসকে বৈধ ও খারাপ জিনিসকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং তাদেরকে ভারমুক্ত ও শৃংখলমুক্ত করেন।”…সূরা আরাফ, আয়াত: ১৫৭
আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে আরও বলেন: “(স্মরণ করুন) মারিয়ামের পুত্র ঈসা বলেছিলেন, ‘হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে (প্রেরিত) আল্লাহ্র রাসূল, আমার পূর্বে যে তাওরাত (এসেছে) সেটাকে সত্যায়নকারী এবং এমন এক রাসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম আহমাদ।”…সূরা আছ্ছফ, আয়াত: ৬
এখনও ইহুদী ও খ্রিস্টানদের গ্রন্থসমূহে (তাওরাত ও ইঞ্জিলে) এমন কিছু সুসংবাদ বাণী বিদ্যমান যেগুলো তাঁর আগমন ও তাঁর রিসালাতের সুসংবাদ দেয় এবং তাঁর কিছু গুণাবলী তুলে ধরে; এ সুসংবাদগুলো মুছে ফেলার ও বিকৃত করার অবিরাম প্রচেষ্টা সত্ত্বেও। দ্বিতীয় বিবরণী (৩৩:২) তে এসেছে: “প্রভু সীনয় পর্বত হতে এলেন, সেয়ীরের গোধুলি বেলায় যেন আলো উদিত হল। পারাণ পর্বত হতে যেন আলো জ্বলে উঠলো।”
মুজামুল বুলদান গ্রন্থে (৩/৩০১) এসেছে: ‘পারাণ’ একটি হিব্রু শব্দ। যেটাকে আরবীকরণ করা হয়েছে। এটি মক্কার একটি নাম; যা তাওরাতে উল্লেখিত হয়েছে। কারো মতে, এটি মক্কার একটি পাহাড়ের নাম।
ইবনে মাকুলা বলেন, “বকরের পিতা, নাসর বিন আল-কাসেম বিন কুযাআ আল-কুযাঈ, আল-পারাণী, আল-ইসকান্দারানী: আমি শুনেছি যে এটি (আল-পারানী) পারণ নামক পাহাড়ের দিকে সম্বন্ধীয়। আর এটি হচ্ছে হিজাযের একটি পাহাড়।”
তাওরাতে এসেছে :“সদাপ্রভু সীনয় থেকে আসিলেন, সেয়ীর হইতে তাহাদের প্রতি উদিত হইলেন; পারাণ পর্বত হইতে আপন তেজ প্রকাশ করিলেন।”
এখানে সীনয় থেকে আসা মানে মুসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলা। সেয়ীর থেকে উদিত হওয়া: সেয়ীর ফিলিস্তিনের কিছু পাহাড়। উক্তির মানে হচ্ছে- ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি ইঞ্জিল নাযিল করা। পারাণ পর্বত হতে আপন তেজ প্রকাশ মানে: হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর কুরআন নাযিল করা।
কুরআনুল কারীম
এটি হচ্ছে সবচেয়ে বড় মোজেজা এবং সর্বাধিক সুস্পষ্ট প্রমাণ। কিয়ামত পর্যন্ত এটি সৃষ্টির উপর আল্লাহ্ তাআলার চূড়ান্ত প্রমাণ। এ কুরআনে চ্যালেঞ্জের কয়েকটি দিক সন্নিবেশিত হয়েছে: ভাষাগত চ্যালেঞ্জ, জ্ঞানগত চ্যালেঞ্জ, আইনপ্রণয়ন বিষয়ক চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যত ও অদৃশ্য বিষয়াবলীর সংবাদ প্রদান। পক্ষান্তরে, “তবে তারা অনুরূপ বাণী রচনা করুক; যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে…।”…সূরা তুর, আয়াত: ৩৪
এ বাণীর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে যারা দাবী করেছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কুরআনকে নিজের পক্ষ থেকে বানিয়ে বলছেন তাদের কথাকে খণ্ডন করা। কুরআন তাদেরকে অনুরূপ বাণী রচনা করার চ্যালেঞ্জ দিয়েছে; যদি তারা তাদের দাবীতে সত্যবাদী হয়। কেননা তাদের এ দাবী অনিবার্য করে যে, এটি মানুষের সক্ষমাধীন। যদি তা সঠিক হয় তাহলে কোন জিনিস তাদেরকে অনুরূপ বাণী রচনায় বাধা দিচ্ছে যে, তারা সেটা করতে অপরাগ। অথচ তারা হচ্ছে বাগ্মী এবং অলংকার শাস্ত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন কাফেরদের প্রতি অনুরূপ বাণী রচনা করে আনার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন; যেমনটি কুরআনে এসেছে: “বলুন, মানুষ ও জিনেরা যদি এই কুরআনের অনুরূপ কোন গ্রন্থ তৈরী করার জন্য একত্রিত হয় এবং একে অপরকে সাহায্য করে তবুও তারা এর অনুরূপ গ্রন্থ তৈরী করতে পারবে না।”…সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৮৮
আল্লাহ পাক তাদেরকে অনুরূপ দশটি সূরা রচনা করার চ্যালেঞ্জও দিয়েছেন; যা গ্রহণ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। কুরআনে এসেছে: “নাকি তারা বলে যে, এই কুরআন সে (মুহাম্মদ) নিজে বানিয়েছে? বলুন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে তোমরাও এর অনুরূপ দশটি সূরা বানিয়ে আন এবং (এ কাজে সাহায্যের জন্য) আল্লাহ্ছাড়া যাকে পার ডেকে লও।”…সূরা হুদ, আয়াত: ১৩
তাদেরকে অনুরূপ একটি সূরা রচনার চ্যালেঞ্জও দেয়া হয়েছে; যা গ্রহণ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। কুরআনে এসেছে: “আর আমি আমার বান্দার ওপর যা নাযিল করেছি (অর্থাৎ কুরআন) সে সম্বন্ধে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে তাহলে (নিজেরা) তার আদলে একটি সূরা রচনা করে দেখাও এবং আল্লাহ্ ব্যতীত তোমাদের সাক্ষীদেরকে (অথবা সাহায্যকারীদেরকে) ডাক; যদি তোমরা সত্যবাদী হও।”…সূরা বাক্বারা, আয়াত: ২৩
কুরআন রচনা করতে না পারার যে চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়েছে সেটা কোন বিবেচনা থেকে এ ব্যাপারে ইসলামী পণ্ডিতগণ একাধিক মত পেশ করেছেন। সর্বাধিক ভাস্বর অভিমত হচ্ছে যা আলুসী বলেছেন: “সমগ্র কুরআন কিংবা এর অংশ বিশেষ এমনকি সেটা ছোট্ট একটি সূরাও যদি হয় এর দ্বারা চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়েছে— এর বিন্যাস, ভাষাগত অলংকরণ, অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান, বিবেক-বুদ্ধি ও সূক্ষ্ম মর্মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার দিক থেকে। কখনও এ সবগুলো বিষয় এক আয়াতের মধ্যেই ফুটে ওঠে। আবার কখনও কিছু বিষয় প্রচ্ছন্ন থাকতে পারে; যেমন অদৃশ্যের সংবাদ দানের বিষয়টি। এতে দোষের কিছু নেই। যতটুকু অটুট আছে ততটুকুই যথেষ্ট এবং উদ্দেশ্য হাছিলের জন্য পর্যাপ্ত।”[রুহুল মাআনী (১/২৯)]
পূর্বোক্ত প্রত্যেকটি সামগ্রিক সূত্রের অধীনে অনেক বিস্তারিত দলিল রয়েছে। কিন্তু, এখানে সেগুলো আলোচনা করার যথেষ্ট সুযোগ নেই। বরং যথাযথ স্থান থেকে সেগুলো জেনে নেয়াটাই ভাল। প্রত্যেক মুসলিমের প্রতি উপদেশ হচ্ছে- কুরআন-হাদিসের জ্ঞান অর্জন করা, সহিহ আকিদার বই-পুস্তক পড়া, দ্বীনি বিষয় জানা; যাতে করে ব্যক্তির ইসলাম সুশোভিত হয় এবং ইলমের ভিত্তিতে সে তার প্রভুর ইবাদত করতে পারে। এই আলোচনায় আমি ক্ষুদ্র জ্ঞানের আলোকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকে যা সংগ্রহ করতে পেরেছি তা আপনাদের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করলাম। কোন ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ।
লেখক :
আজম পাটোয়ারি
প্রকাশক
আরডিএম মিডিয়া এন্ড প্রকাশনী।