মেছতার কোন স্থায়ী সমাধান আসলে নেই। চিকিৎসার মাধ্যমে সাময়িকভাবে দাগ চলে যায় কিন্তু সূর্যরশ্নির সংস্পর্শে আবার দাগ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে কিছু হারবাল পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
>ভিনেগার : ভিনেগার এবং সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে ব্যবহার করলে মেছতায় উপকার পাওয়া যায়। এই উপাদান ত্বকে পরিষ্কার করে, উজ্জ্বলতা বাড়ায়, ময়েশ্চার টোনার হিসেবে কাজ করে। ভিনেগার রাসায়নিকভাবে এসিটিক এসিড এবং এর ফর্সা ও উজ্জ্বলতা বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে। এছড়াও এই মিশ্রণ ত্বক মসৃণ ও নরম করে।
>পেঁয়াজের রস : পেঁয়াজের রসের সাথে সমপরিমাণ অর্গানিক ভিনেগার মিশিয়ে তুলার সাহায্যে আক্রান্ত স্থানে দিনে ২ বার লাগালে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভাল ফ্লাফ্ল পাএয়া যায়। পেঁয়াজের রস না করতে পারলে পেঁয়াজ স্লাইস করে কেটে ভিনেগারে ডুবিয়ে সেই স্লাইস আক্রান্ত স্থানে লাগালেও উপকার পাওয়া যায়।
>লেবু : লেবুর রসে আছে এসকরবিক এসিড যা এন্টি অক্সিডেন্ট উপাদান সমৃদ্ধ । এই উপাদান ত্বকে অতিবেগুনি রশ্নি (Ultraviolet ray) শোষিত হওয়া প্রতিরোধ করে। লেবুর রস সরাসরি ত্বকে লাগানো যায় অথবা স্লাইস করে কেটে তুলার প্যাডের সাহায্যে দাগের স্থানে সারারাত লাগিয়ে রেখে সকালে ধুয়ে ফেলতে হবে।
>ঘৃতকুনারী : মেছতা দূর করার আরেকটি উপাদান হল এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী পাতার জেল। এই জেলের রয়েছে ত্বকের যাবতীয় সমস্যা দূর করার ক্ষমতা। আক্রান্ত স্থানে আঙ্গুলের ডগার সাহায়্যে আস্তে আস্তে জেল ঘষে লাগাতে হবে এবং সারারাত লাগিয়ে রাখতে হবে। এভাবে কয়েক সপ্তাহ লাগালে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া এলোভেরা জেলের সাথে ভিটামিন ই এবং প্রিমরোজ ওয়েল মিশ্রিত করে লাগালে এক সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যাবে একই সাথে জেলের শরবত খেলে ভাল হবে।
>হলুদ : হলুদে থাকে কারকিউমিন নামক এন্টিঅক্সিডেন্ট যা অক্সিডেটিভ ক্ষত মেরামত করতে সাহায্য করে এবং দাগ দূর করে। হলুদের পেস্ট ৫ টেবিল চামচ, দুধ ১০ টেবিল চামচ এবং ছোলার ডালের বেসন ১ টেবিল চামচ মিসিয়ে পেস্ট করে দাগের উপর পুরু করে লাগিয়ে রাখতে হবে ৩০ মিনিট। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলতে হবে। মেছতা দূর করতে হলুদের একটি মিশ্রণ বেশ কার্যকর। হলুদের পেস্টের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
>পেঁপে : পেঁপের বিদ্যমান প্যাপাইন নামক এনজাইম ত্বকের উপরের মরা কোষ এবং রুক্ষতা দূর করে ত্বককে মসৃণ করে। পেঁপে পেস্ট করে আক্রান্ত স্থানে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। পেঁপের পেস্ট ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করে।
>আঙ্গুর বীজের নির্যাস : কিছু মেছতা আছে যা ছত্রাকের কারনে হয়ে থাকে। আঙ্গুর বীজের নির্যাসে আছে এন্টি ফাঙ্গাল উপাদান যা এই ধরনের মেছতার ক্ষেত্রে কার্যকর। সাধারণত আঙ্গুরের নির্যাস লিকুইড, পিল বা ক্যাপসুল আকারে পাওয়া যায়। তবে গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারী মায়েদের বেলায় এই নির্যাস প্রযোজ্য নয়।
>যষ্টি মধু : যষ্টি মধুর নির্যাস একটি প্রাকৃতিক উপাদান যাতে আছে ত্বক ফর্সা করার উপাদান লিকুইরিটিন এবং গ্ল্যাবরিডিন। গ্ল্যাবরিডিন তেলে দ্রবণীয় এবং ত্বকে লাগানো যায় আদর্শ রঙ পরিবর্তনকারী হিসেবে।